শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

করোনার মধ্যেও আখাউড়া স্থলবন্দরে বেড়েছে আয়

করোনার মধ্যেও আখাউড়া স্থলবন্দরে বেড়েছে আয়

আবুল খায়ের স্বপন।।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে যখন সব জায়গায় মন্দাভাব, সেখানে সুফল মিলছে আখাউড়া স্থলবন্দরে। মহামারিতেও বন্দরের রপ্তানি কার্যক্রম সচল থাকায় চলতি অর্থবছরে বেড়েছে আয়। আমদানি বাণিজ্য বাড়লে রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে আশা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। তবে করোনার কারণে আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্তপথে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকায় কমেছে ভ্রমণ কর।

আখাউড়া কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে পূর্ব-উত্তর ভারতে ৬৯৭ কোটি ৭০ লাখ এক হাজার ৭৫৮ টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ও পাঁচ বছর আগের রপ্তানির তুলনায় সোয়া তিনগুণ বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫৪২ কোটি ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৩০ টাকা।

আখাউড়া স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে রপ্তানি আয় সবচেয়ে কম হয়েছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। এ সময় রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২১৪ কোটি ৮৮ লাখ ছয় হাজার ৬৬১ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭৪ কোটি ৬০ লাখ ৯৪ হাজার ৯৫৫ টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি দাঁড়ায় ৩৩১ কোটি ৭৬ লাখ ১৫ হাজার ৫৬৯ টাকায়।

পরিমাণের দিক থেকে গত পাঁচ অর্থবছরে ভারতে প্রায় আট লাখ ৯৫ হাজার টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক লাখ ৯৯ হাজার ২৮৯ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুই লাখ ১১ হাজার ৫১৭ টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই লাখ ৯ হাজার ৯৬২ টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক লাখ ৪১ হাজার ৬৪৭ টন এবং সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি হয় এক লাখ ৩২ হাজার ৩৯৪ টন পণ্য। অপর দিকে গত পাঁচ বছরে ভারত থেকে ৩৪৪ দশমিক ৮৩ টন পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যার মূল্য পাঁচ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকা।

বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ পণ্য ছাড়া সব ধরনের পণ্য ভারত থেকে এ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির প্রাথমিক অনুমোদন পেলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। আখাউড়া স্থলবন্দর সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমদানির অনুমোদন বেশি করে পাওয়া গেলে বন্দরে কর্মসংস্থান বাড়বে। বন্দর মাশুল এবং রাজস্ব আয় বাড়বে। চাঙ্গা হয়ে উঠবে স্থলবন্দরটি। স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এক হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও প্রায় ৭০০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের তুলনায় ১৫৫ কোটি টাকা বেশি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তঃবাণিজ্য সম্প্রসারণে ১৯৯৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে চালু হয় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার কার্যক্রম। যাত্রা শুরুর পর থেকেই শুঁটকি, হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, সয়াবিন তেল, প্লাস্টিক সামগ্রী, পাথরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্তত ৪২টি পণ্য ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল রাজ্যগুলোতে রপ্তানি হয়ে আসছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD