শনিবার, ২২ Jun ২০২৪, ১২:০৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বে-সরকারি ভাবে নির্বাচিত কসবায় ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত-৪ কসবায় এলজিইডি’র শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আগরতলায় স্রোত আয়োজিত লোকসংস্কৃতি উৎসব কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি’র উপর হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা কসবায় চকচন্দ্রপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা, পুরস্কার বিতরণ ও ছবক প্রদান শ্রী অরবিন্দ কলেজের প্রথম নবীনবরণ অনুষ্ঠান আজ বছরের দীর্ঘতম রাত, আকাশে থাকবে চাঁদ বিএনপি-জামাত বিদেশীদের সাথে আঁতাত করেছে-কসবায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ১৩ দিনের জন্য ভোটের মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী
কসবায় কুফুরির ভয় দেখিয়ে ইমামের ধর্ষনে অন্তসত্বা মাদরাসা ছাত্রী সমাজচ্যুত

কসবায় কুফুরির ভয় দেখিয়ে ইমামের ধর্ষনে অন্তসত্বা মাদরাসা ছাত্রী সমাজচ্যুত

মোঃ আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, কসবা প্রতিনিধি।।

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় বিশারবাড়ী গ্রামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ওবায়দুল্লাহ (৫০)

ধর্ষন করলো এক মাদরাসার ছাত্রীকে। কুফুরি করে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ফুসলিয়ে একাধিকবার ধর্ষন
করে ওই ইমাম। এতে অন্তসত্বা হয়ে পড়ে ওই কিশোরী। কিশোরী অন্তসত্বা হয়েছে টের পেয়ে ইমাম ভয়
দেখিয়ে দুটি ট্যাবলেট খাওয়ায়ে গর্ভপাত ঘটিয়ে গ্রামের কতিপয় সাহেব সর্দারদের সহায়তায়
ওই রাত্রেই এলাকা ছেড়ে যায় লম্পট ইমাম। ইমামের বাড়ি জেলার নাছিরনগর উপজেলার বড়নগর গ্রামে। সে
ওই গ্রামের আবুদুল্লাহ মিয়ার ছেলে। লম্পট ইমামের মদদদাতারা সালিশ বসিয়ে ওলটো সমাজচ্যুতকরেছে ওই কিশোরীর পরিবারকে।

অভিযোগসুত্রে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়; ওই কিশোরীকে মাদরাসায় ৮ম শ্রেনীতে ভর্তি
করান তার বাবা। মাদরাসায় ভর্তির সুবাধে গ্রামের বড় মসজিদের ইমামের নিকট শুদ্ধভাবে কোরআন
শিখতে দেন। কয়েকদিন মসজিদেই পড়ান ওই কিশোরীকে। পরে বাড়িতে পড়াবেন বলে জানান কিশোরীর
পিতাকে। বাড়িতে পড়ানোর নামে একাকিত্বের সুযোগে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর কুফুরি ও
আল্লাহর ভয় দেখিয়ে ফুসলিয়ে ধর্ষন করে ওই ইমাম। পরে আরো কয়েকদিন তাকে আল্লাহর ভয় দেখিয়ে
ধর্ষন করে এবং কাউকে না জানাতে বলে। এতে অন্তসত্বা হয়ে পড়ে কিশোরী। বিষয়টি টের পেয়ে ইমাম
ফুসলিয়ে গত ২৩ জুলাই ওই কিশোরীকে দুটি ট্যাবলেট খেতে বাধ্য করে। ট্যাবলেট খাওয়ার কিছুক্ষনের
মধ্যেই তার প্রচন্ড পেটব্যথা শুরু হলে রাতেই একটি মৃত সন্তুান গর্ভপাত ঘটে। গর্ভপাতের পরে
কিশোরীর পিতা মেয়ের কাছে জানতে চাইলে সে বলে হুজুর আমাকে পড়াতে এসে জোরপূর্বক ধর্ষন
করে। ধর্ষনের কথা না বলতে ভয় দেখায় হুজুর। বলে কুফুরী করে কিশোরী ও তার মা-বাবাকে মেরে ফেলার ভয়
দেখায়। এই ভয়ে ধর্ষনের কথা মা-বাবাকে বলেনি কিশোরী। পরে ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামের
সাহেব সর্দারগন সালিশের আয়োজন করে কিশোরীর পিতাকে অপবাদ দিয়ে তাকে সমাজচ্যুত করে
তাদের একঘরে হয়ে থাকার ঘোষনা দেয়। সালিশে অধিকাংশ সাহেব সর্দারগন লম্পট ইমামের পক্ষ নিয়ে
কথা বলার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কিশোরীর পিতা কসবা থানায় ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ
দায়ের করলে ওই অভিযোগটি গুরুত্বের সহিত আমলে না নিয়ে বিলম্বিত করতে থাকে পুলিশ এমটাই
অভিযোগ কিশোরীর পিতার। পরে নিরুপায় হয়ে ন্যায় বিচারের আশায় গত ৯ আগষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া
বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন ওই কিশোরীর পিতা। বিজ্ঞ আদালত পিবিআইকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ
দেন। এ বিষয়ে পিবিআইয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে ডিউটি অফিসার জানান; গত ২৩ আগষ্টমামলার নথি ও নির্দেশ পেয়েছেন।

সালিশে কিশোরীর পরিবারকে সমাজচ্যুত ও একঘরে করার বিষয়ে জানতে ওই মসজিদ পরিচালনা

কমিটির সেক্রেটারী হেবজু সর্দার বলেন; তারা গর্ভপাত কেন করলো এবং কিশোরী যে ইমামের
ধর্ষনে অন্তসত্বা বিষয়টি সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কিশোরীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তারা উল্টো
ওই কিশোরীর পরিবারকে দোষারোপ করে তাদের সমাজচ্যুত করে। চাচার জমিতে কাজ করতে গেলেও ওই
সাহেব সর্দারদের লোকজন ও লম্পট ইমামের সমর্থকরা কিশোরীর পিতাকে জমি থেকে তুলে দেন।
গ্রামের প্রবীন আলহাজ্ব তৌফিক আহাম্মদ জানান; ফন্দি করে ট্যাবলেট খাওয়ালো হুজুরযাতে ওই কিশোরীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেলে সে বেঁচে যায়। অথচ গ্রামের কিছু সাহেব
সর্দারগন লম্পট ইমামের বিচার না করে তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করে উল্টো ওই কিশোরীর
পরিবারের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে তাদের সমাজচ্যুত করলো। এটা কেমন বিচার ? আমি চাই আইনের
মাধ্যমে ওই লম্পট হুজুরের কঠিন বিচার হোক। নতুবা যে এলাকায় যাবে সে এলাকায়ই এ সকল অপকর্ম
করে বেড়াবে। একই কথা জানালেন যুবলীগ নেতা ফোরকান ও গ্রামের প্রবীন ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীল আলম।
তারা বলেন; কোন ভিত্তিতে ধর্ষিতার পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হলো তা আমাদের বোধগম্য নয়। নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন হেবজু সর্দার ও আরো কয়েকজন সর্দারের সহায়তাই পালিয়ে
গেছে ইমাম। তারা কিশোরীর পরিবারকে একঘরে করে লম্পট ইমামের পক্ষে কথা বলছে।

ধর্ষিতা ছাত্রীর পিতা জানায়, কথিত সালিশের পর গত ২৮ জুলাই তিনি থানায় অভিযোগ
পেশ করার ৭ দিন পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই জিহাদ দেওয়ান বিশারাবাড়ী মসজিদে যান।
সেখানে অনেকের সাথে কথা বলে আমাকে ফোন করবেন বলে জানান। তিনি ফোন না করায় আমি ৩
দিন থানায় যাই। থানায় কেহই আমাকে এ বিষয়ে পাত্তা দেয়নি। আমাকে সমাজচ্যুত করায় কোন
কাজ কর্ম করতে পারছিনা। মানবেতর জীবন যাপন করছি। নিরুপায় হয়ে ন্যায় বিচারের আশায়আদালতে মামলা করেছি।

অভিযু্ক্ত ইমাম মাওলানা ওবায়দুল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার মোবাইল নং
০১৭২৬৬৮৮৭৫১ এ বার বার ফোন করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে ওসি লোকমান হোসেনের সংগে কথা বলতে চাইলে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরঅনুমতি ছাড়া কথা বলবেনা বলে জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ কমিশনার (কসবা সার্কেল) মো.মিজানুর রহমান
ভূইয়া বলেন; বিশারাবাড়ীর কিশোরীর ধর্ষনের মামলার বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু বলেনি। এ ধরনের
কোন অভিযোগ আমার হাতে আসেনি। আসলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তসাপেক্ষে ঘটনার
সত্যতা পাওয়া গেলে ইমামসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD