মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বে-সরকারি ভাবে নির্বাচিত কসবায় ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত-৪ কসবায় এলজিইডি’র শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আগরতলায় স্রোত আয়োজিত লোকসংস্কৃতি উৎসব কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি’র উপর হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা কসবায় চকচন্দ্রপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা, পুরস্কার বিতরণ ও ছবক প্রদান শ্রী অরবিন্দ কলেজের প্রথম নবীনবরণ অনুষ্ঠান আজ বছরের দীর্ঘতম রাত, আকাশে থাকবে চাঁদ বিএনপি-জামাত বিদেশীদের সাথে আঁতাত করেছে-কসবায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ১৩ দিনের জন্য ভোটের মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী

খোলা দরজা

রোকেয়া ইসলাম
– হুজুর আর পারি না, ছাইড়া দেন।
রক্তপানি করা চাপা আর্তনাদ করে ওঠে দশ বছরের সাইফুল। আতরের ভুরভুরে গন্ধওয়ালা মেজ হুজুর সাইফুলের মুখ শক্তহাতে চেপে ধরে।
– অহন এট্টু সইয্যো কর। দেখবি পরকালে গোলেমান পাবি হুরপরী পাবি। গুইন্না গুইন্না সোত্তুরখান।
-হুজুর অহন তো মইরা যাইতাছি। পারতাছি না। ছাইড়া দেন। আপনের দুইড্ডা পায়ে পরি।
-এইতো অহন সাইরা ফালাইতাছি। চুপচাপ পইরা থাক।
– কাইল আমি বড় হুজুররে কইয়া দিমু।
-ব্যাত দেখছোস। ব্যাতাইয়া গুয়ার চামড়া তুইল্লা ফালামু।
প্রায় প্রতিরাতেই ছোট সাইফুলের উপর এই অসহনীয় অত্যাচার সহ্য করতেও পারে না। মানতেও পারে না।
ও ওর সহপাঠীদের সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলে। জানতে পারে ওদের অবস্থা আরো ভয়াবহ।
দিনের বেলায় হুজুরদের ঘর পরিস্কার করা বালতি ভর্তি সাবান জলে ভেজানো কাপড় ধুয়ে শুকিয়ে ভাঁজ করে দেয়া। হাত পা টেপানো। সাথে প্রায় রাতেই বলাৎকার।
সাইফুল দুবার পালিয়ে বাড়ি গিয়েছে।
বাবা প্রথমে আদর করে কাছে বসিয়ে বুঝিয়ে বলে। সাইফুল কিছুতেই ফিরতে রাজি হয় না তখন বাবা মোটা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আধমরা করে হুজুরদের কাছে মাফ চেয়ে ফিরিয়ে দিয়ে যায়। এতে নিজের ছেলের সর্বনাশ করে মোল্লাদের পোয়াবারো করে দিয়ে যায়।
আবার পালিয়ে গেলে মা কাছে বসিয়ে জিজ্ঞেস করে কেন মাদ্রাসায় যেতে চায় না সাইফুল। ভয়ে লজ্জায় কুঁকড়ে বলতে পারে না।
মা ওকে কোলের কাছে বসিয়ে বলে
– বাবা তুমি যদি কোরানে হাফেজ হও তাইলে তুমার বাপের মানত পুরা হইব। সমাজে আমাগো মান কত বাইড়া যাইব সেইডা কি তুমি জানো।
তুমি মিলাদ পড়লেই ট্যাকা কুরবানি করলেই ট্যাকা। খতম পড়লেই ট্যাকা।
– মা আমি ল্যাহাপড়া কইরা চাকরি করুম ব্যাবসা করুম। তাইলে আমিই মাইনসেরে ট্যাকা দিতে পারুম।
-বাবা সুয়াবটা দেখবা না। তুমি মরলে সুজা বেহেশতে যাইবা। বেহেশতে কুনুকিছুর অভাব নাই। কত ফলমুল তুমি যতই খাও কিছুতেই ফুরাইব না। কত শান্তি।
-মা তুমি তো হাফেজ হও নাই। নামাজ পড় কোরান পড়। কেউরে কষ্ট দেও না। খালি হাফেজ হও নাই তাতে কি ক্ষতি হইছে।
-ক্ষতি তো হইছেই। পাক কালাম ভিতরে নাই।
– মা নানী তো হাফেজ আছিল না কোরান পড়তে জানতো না তাইলে হে কি দোজকে যাইব। তার কি গুনা হইছে।
মা কোন কথার উত্তর দিতে পারে না। চুপচাপ বসে থাকে।
-নানী কি খারাপ মানুষ আছিল।
– তওবা তওবা আমার মায়ে খারাপ থাকব ক্যা। কত ভাল মানুষ আছিল আমার মায়ে।
– মা নানীর মত ভাল মানুষ হমু।
– কি তুমার পোলা বুঝলোনি।
বাবা ঘরে ঢোকে পেছন দিয়ে।
-কাইল লইয়া যামু তুমার পোলারে। গুছাইয়া রাইখো।
বাবা চলে যায় বাইরে। সাইফুল মাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকে।
ঘুম ভেঙে দেখে বাবা বাইরে যাবার কাপড় চোপর পরে তৈরি হয়ে বসে আছে। মা নাশতা সাজিয়ে রেখেছে।
এবারও বাবা ছেলের পালিয়ে যাওয়ার জন্য হুজুরের কাছে মাফ চেয়ে সাইফুলকে দিয়ে আসে।
আসরের নামাজের জামাত শেষ হতেই সাইফুল সিদ্ধান্ত নেয় সে পালাবে।
মাদ্রাসার পেছনের দেয়াল দাঁড়িয়ে লাগোয়া সুপারি গাছ বেয়ে নেমে এক দৌড়ে বাড়ি পৌঁছে যায়।
দরজায় কড়া নাড়তে গিয়ে বাবার লাল লাল রাগী চোখের কথা মনে করে ভয়ে কুঁকড়ে থেমে যায়।
দরজার গা ঘেষে অন্ধকারে চুপটি করে বসে থাকে। হঠাৎ কারো পায়ের শব্দে একেবারে ছায়ার সাথে মিশেতে চায়। তবুও ছোট মামা চিনে ফেলে ওকে।
মামার স্পর্শ পেয়ে এতোক্ষণে অসহায়ত্ব এতোদিনের পুঞ্জিভূত যন্ত্রণায় কেঁদে ফেলে। মামা ওকে আদর করে সিঁড়িতে পাশাপাশি বসে।
মামার কাছে সব খুলে বলে।
মামা ওর হাত ধরে বাবার সামনে দাঁড়ায়।
-দুলাভাই আপনি ওকে কেন মাদ্রাসায় দিয়েছেন?
-হেই কথাও কি তুমার মত টেডি ডিস্কোর কাছে দেওন লাগব। আমার ভাল তো তুমাগো সইয্যো হইব না। আমার পুলা হাফেজ হইব। আমার মানত পুরা হইব এইডা কেমনে ভাল লাগব কও।
-দুলাভাই নিজের গোনার বোঝা ছেলের ঘাড়ে দিয়ে পুলসেরাতের পার হইতে চাইলেই পার হওয়া যায়।
– আমার পোলা হাফেজ হইবই।
-হোক হাফেজ। তবে এই মাদ্রাসায় না অন্য মাদ্রাসায় পাঠান ওকে। অন্যভাবে হাফেজিয়া শিক্ষা দিন। জীবনের জন্য শিক্ষা।
-আমার পোলা এই মাদ্রাসায়ই পড়ব। পাক্কা সিদ্ধান্ত।
মামা এতোক্ষণ ওর হাত ধরে রেখেছে এবার এক ঝটকায় হাতটা সরিয়ে নেয় সাইফুল।
– এই মাদ্রাসায় পড়ুম না গুয়ামারা খামু না।
বলেই খোলা দরজা দিয়ে দৌড়ে বের হয়ে যায়।
মা খোলা দরজার দুই তাকিয়ে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে থাকে….

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD