রবিবার, ১৬ Jun ২০২৪, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বে-সরকারি ভাবে নির্বাচিত কসবায় ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত-৪ কসবায় এলজিইডি’র শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আগরতলায় স্রোত আয়োজিত লোকসংস্কৃতি উৎসব কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি’র উপর হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা কসবায় চকচন্দ্রপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা, পুরস্কার বিতরণ ও ছবক প্রদান শ্রী অরবিন্দ কলেজের প্রথম নবীনবরণ অনুষ্ঠান আজ বছরের দীর্ঘতম রাত, আকাশে থাকবে চাঁদ বিএনপি-জামাত বিদেশীদের সাথে আঁতাত করেছে-কসবায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ১৩ দিনের জন্য ভোটের মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী
জ্যোৎস্না রাতের উজানে

জ্যোৎস্না রাতের উজানে

শিমুল ভূঁইয়া

শহরের ল্যাম্প পোস্টের আলোয় থাকতে,থাকতে জ্যোৎস্না রাতের আলো প্রায় ভুলেই গেছি। জীবন থেকে হারিয়ে গেছে জ্যোৎস্না রাত জীবনের একটা সময় কেটেছে জ্যোৎস্না রাতে মিতালী করে,তারাদের সাথে মিতালী হতো বন্ধুদের দল বেঁধে আড্ডা হতো,পুকুর ঘাটে,খোলা মাঠে কখনো বাড়ির ছাদে কিংবা কখনো একা,একা গাইতাম মনের সুরে গান। খুজতাম প্রেমের পরশ কিংবা একা,একা আকাশের ছোট,বড় তারা গুনে।সেই সব ম্মৃতি আজ হঠাৎ মনে পড়তেই কেনো জানি মনটা বেশ আনমনা হয়ে গেলো মনে পড়ে গেলো পুরনো প্রেমিকার কথা।যার কথা মনে হলে আমি আজো জ্যোৎস্না রাতকেই খুঁজি,খুঁজি পুরোনো প্রেমিকের সেই আলতো হাতের ছোঁয়া !অনুভবে,অনুভবে হারিয়ে যাই প্রিয়ার ঠোঁটে,মুখশ্রী আর যৌবনময় শরীরে। আজকের জ্যোৎস্না রাতটা বেশ আলোকময় আবেগী প্রতিটি আলোকছটা গাঁয়ে পড়তেই শরীরে এক মিষ্টি প্রেমের আবেশ অনুভব হচ্ছে,ছাদের কার্নিশ ধরে জ্যোৎস্না রাতের এই আবেশ অনুভব করছি ভাবি এই বুঝি স্বল্প জীবন কি হতে কি হয়ে গেলাম।পুরোনো ম্মৃতি গুলো আমাকে ধীরে,ধীরে আঁকড়ে ধরছে বারে,বারে মনে করিয়ে দিচ্ছে পুরোনো অতীত,যে অতীত জীবনের বাঁকে আর ফিরে আাসা সম্ভব নয়?এখন বয়স হয়েেছে অচেনা পথে হাঁটছি।হাঁটছি জীবনের শেষ গন্তব্যের পথে যেখান থেকে কেউ আর কোন দিন ফিরে আসেনি ফিরে আসেনি আমাদের পূর্ব জর্ম্মের কেউ?আমি ও আর আসবোনা ফিরে,তবে কি আমার ছোটবেলা আমার কৈশর আমার যৌবন সব কিছু নিঃশেষ হয়ে গেছে? ফিরে কি পাবেনা আর পুরোনো প্রেমিকার শরীর মন আর চুম্বন ময় লিপিষ্টিক মাখা সেই লাল টুক,টুকে ঠোঁট আর সুগন্ধি যুক্ত চুলের ঘ্রাণ ?
এইসব ভাবতে,ভাবতেই চাঁদ হেলে পড়েছে পশ্চিমাকাশে আনমনে ভাবতে,ভাবতে ছাদ থেকে বাসায় প্রবেশ করতেই নানান প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায় ভোরের কিচিরমিচির পাখির ডাকে কিছুটা স্হির হলো মন। অনুভবের সাথে বাস্তবতা বড়ই কঠিন যেমন হারানো দিনকে আর কখনো খুঁজে না পাওয়ার মত তেমনই অনুভবের বিরতি সেরে প্রতিদিনের কর্মের পথে ফেরার পালা তাই সারারাতের নির্ঘুম শরীরে নাস্তা শেরে অফিসের মুখে যাত্রা শুরু ইদানীং অফিসে কাজের চাপ দ্বিগুণ বেড়েছে।যান্ত্রিকতার শহরে শরীর ও যান্ত্রিক হয়ে গেছে অফিসের কাজ নানামুখী কর্মকাণ্ড নানান কথা সব মিলিয়ে মনের অসুখ দিনে,দিনে বেড়েই চলেছে যতই চেষ্টা করি মন কোন কিছুতেই যেনো প্রশান্তি খুঁজে পায় না।মনোযোগের কারণে কাজের প্রতি কেনো জানি অনাগ্রহ বেড়েই চলছে দিন,দিন সাধারণ যে ভূল গুলো আগে কখনো হয়নি আমার চাকুরী জীবনে এখন অহরহ সেই ভূল গুলোই প্রায়শই আমাকে করতে হচ্ছে অবশ্যই এই জন্য আমাকে উপরিস্থ বসের কথা শুনতে হচ্ছে বসকে কোন ভাবেই আমার মনের অবস্থা বুঝাতে পারছিনা।বুঝাতে পরছিনা সাথের কলিকদেরকে ও অফিস শেষে বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছি সব কিছু গোজগাছ করে ব্যগ কাঁধে অফিস থেকে বের হলাম অফিস থেকে একটু দূরেই বাসস্টপ এই পথ টুকু আমি সাধারণত প্রতিদিন হেঁটেই যায় তাই ফুটপাত ধরে হাঁটার পালা কিছুদূর যেতেই একেবারে ছোট বেলার বন্ধু শিপনের সাথে সাক্ষাত বড় রসিক বন্ধু সেই আমাদের।তাঁর মুখে হাসি সব সময় লেগেই থাকে আজো তাঁর ব্যাতিক্রম নয় ছোট বেলা থেকেই তাঁকে ছাড়া আমাদের আড্ডা জমতো না বন্ধুকে নিয়ে টি স্টলের সামনে গেলাম চা খাওয়ার ফাঁকে,ফাঁকে পুরনো অতীতের কথা উঠতেই শিলা নামের আমার এক বান্ধবীর কথা বলতেই আমার মনের ভিতর কম্পন শুরু হয়ে গেলো। শিপন আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে জানতে চায়,আমি তাঁর মুখের দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম শিপন কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই আমি ওর কাছ থেকে বিদায় নিতে চাইলাম ও আবার প্রশ্ন করলো কি বন্ধু শিলা সম্পর্কে কিছু বললি না যে আমি তাঁর প্রশ্নের পাশ কেটে গিয়ে উল্টো জানতে চাইলাম তোর কি খবর বল? তোর বাসা কোথায় কি করিস? বিয়ে করেছিস? ছেলে,মেয়ে কয়জন?ও আমার সব গুলো প্রশ্নের উত্তর স্বাভাবিক উত্তর দিলো হাসি মুখেই কিন্তু আমার ভিতর যে আগুন সে উতরে দিলো তা নেভার নয়?আমার শরীর ঘামাক্ত প্রচণ্ড মাথা ব্যথা আর শারীরিক উত্তাপ বেড়েই চলছে নিজেকে কোন ভাবেই স্হির রাখতে পারছিনা। শিপন বলে উঠলো কি রে বন্ধু তোকে কেমন জানি বিষণ্ণ মনে হচ্ছে কি হয়েছে তোর তাঁকে কিছু বুঝতে না দিয়ে আমি বললাম বন্ধু সারাদিন অফিসে কাজ করে নিজেকে অনেক ক্লান্ত মনে হচ্ছে এক কাজ কর তোর মোবাইল নাম্বারটি আমাকে দে এখন ডিজিঢাল যুগ সময় হলে ছুটির দিনে দুজনে আবার সাক্ষাত হবে তখন না হয় অনেক কথা হবে।আজ আর নয় চল যার,যার বাসায় ফিরে যাই,এই বলে যার,যার বাসায় ফেরার পালা শিপনকে বিদায় দিয়ে আমার বাসার উদ্দেশ্য রওনা বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা শেষে বাসের দেখা মিললো অবশেষে বাসের সিটে গিয়ে বসলাম এবং জানালার পাশে বসে চলন্ত বাস থেকে চারিদিকের পরিবেশ দেখতে,দেখতে শিলার কথা গুলো ভুলতে চাইছি কিন্তু কোম ভাবেই ভুলতে পারছিনা বারে,বারে শিলার পুরোনো কথা গুলো পুরোনো ম্মৃতি গুলো আমার চোখের সামনে বর্তমান হয়ে ভাসছে এরই মাঝে আমার গন্তব্য এসে বাস থামলো আমি বাস থেকে নেমেই দু,চার কদম হেঁটে বাসায় এসে পৌঁছালাম।সারাদিনের কর্ম ব্যস্ত সময়ের ঘামাক্ত শরীরের কাপড় পাল্টে আলতো পানিতে পুরো শরীর ধুয়ে নিলাম।
রাতের খাবারের প্রস্তুতি সেরে নিলাম রাতে সাধারণত পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক সাথে এক টেবিলে খেতে বসি খাওয়ার পাশাপাশি সারা দিনের নানাবিধ আলোচনা ও নিজেদের ব্যাক্তিগত কথাগুলো ও খোশ গল্পে মেতে উঠি সবাই এক সাথে খাওয়ার টেবিলে।আামার বাচ্চাদের সারাদিনের অভিযোগ গুলো ও শুনতে হয় বিশেষ করে তাদের খেলা নিয়ে একের সাথের অন্যর ঝগড়া গুলে প্রাধান্য পায় বেশি এবং এই নিয়ে আামাদের হাসি,ঠাট্টা চলতে থাকে দীর্ঘক্ষণ এর পর সবাই মিলে কিছুটা সময় টিভি দেখা ও রাতের ঘুম এইতো জীবন? এই ভাবেই কেটে যায় প্রত্যহ জীবন কিন্তু আজ দেখি একটু ব্যাতিক্রম ঘর জেনো একেবারে নিশ্চুপ কোথাও কোন রকম আওয়াজ নেই সবাই জেনো নীরবতা পালন করছে যেখানে প্রতিদিন দরজায় এসে কলিং বেল টিপতেই দরজার ওপাশ থেকে মেয়েরা আওয়াজ করতো আব্বু দাঁড়াও দরজা খুলছি দুই বোন ওমারা ও সামারা চেয়ার টেনে এনে একে অন্যকে সাহায্য করে চেয়ারের উপর দাঁড়িয়ে দরজা খুলতো এবং দরজা খুললে ঘরে প্রবেশ করতেই আমার ঠোঁটে মুখে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করতো তাদের সারাদিনের জমানো কথা গুলো আমাকে বলতে শুরু করতো কে,কার আগে বলবে এই নিয়ে তাদের মাঝে তাড়া হুড়ো শুরু হয়ে যেতো কিন্তু আজ নীরবতা।তাই কাউকে না ডেকে আজ একা,একা খাওয়া শেষ করে বেড রুমে ঘুমাতে চলে গেলাম।বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে তাদের আম্মু এক রুমে ঘুমাচ্ছে আমি অন্য রুমে বিছানায় পিট লাগিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা কোন ভাবেই ঘুম আসছে না দু’ চোখে আমার। বিছানায় এপাশ,ওপাশ করে শত চেষ্টা করে ঘুম আনতে পারছিনা চোখে ?
মাঝ রাতে বিছানা থেকে উঠে ঘরে,ঘরে পাইচারি করছি এরই মাঝে শিলার কথাটি আবার মনে পড়ে গেল শিলার কথা ভাবতে ভাবতে আমার আর শিলার মাঝ রাতে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে সাক্ষাতের সেই জ্যোৎস্না রাতের পুরোনো দৃশ্য গুলো চোখেের সামনে ভেসে উঠলো,ভেসে আসছে তাঁর কানে,কানে বলা কথা গুলোর আওয়াজ যে কথা গুলো আমাকে আজো কাঁদায় বিষণ্ণ করে তুলে আমার মন প্রাণ সুবাস ছড়ায় তাঁর ঠোটের ঘ্রাণ শীতল বাতাসে চুল উড়ে এসে পড়ে আমার মুখে,বুকে জড়িয়ে ধরে চুমো খায় আমার কপালে এই সব ভেবে ভেবে এখনো আমি হারিয়ে যাই প্রতিটি জ্যোৎস্না রাতে হারিয়ে যাই কামনার আখিপাতে এই বুঝি আসবে শিলা? দিন আসে দিন যায়,মাস আসে মাস যায়,আসে বছর তাও চলে যায় আসেনা আর শিলা ? কিন্তু জ্যোৎস্না রাত আসে ফিরে,ফিরে আমার কাছে আর আমি অপেক্ষার প্রহরে দাঁড়িয়ে থাকি এখনো প্রতিটি জ্যোৎস্না রাতের উজানে…।।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD