মঙ্গলবার, ১৮ Jun ২০২৪, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বে-সরকারি ভাবে নির্বাচিত কসবায় ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত-৪ কসবায় এলজিইডি’র শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আগরতলায় স্রোত আয়োজিত লোকসংস্কৃতি উৎসব কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি’র উপর হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা কসবায় চকচন্দ্রপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা, পুরস্কার বিতরণ ও ছবক প্রদান শ্রী অরবিন্দ কলেজের প্রথম নবীনবরণ অনুষ্ঠান আজ বছরের দীর্ঘতম রাত, আকাশে থাকবে চাঁদ বিএনপি-জামাত বিদেশীদের সাথে আঁতাত করেছে-কসবায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ১৩ দিনের জন্য ভোটের মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী

ঝরা বকুলের গন্ধ

সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত

কলকাতা।।

“এতো নয় যে প্রেমিকের ঠোঁটে শুধু
চুম্বন নিশানা রেখে যায়
অবনত মন কতো স্মৃতি বকুলের গন্ধে
মজে থাকে … ভরে থাকে
আমার চোখে মেঘ পাহাড়ের অনন্ত অভিসার….
ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির গল্পে কতোটা ভিজতে পারে প্রজাপতি রোদ্দুর ?”

খুব অদ্ভুত অদ্ভুত জায়গায় কিছু কিছু ভালোবাসা লুকোনো থাকে । পুরোনো শিশিবোতল নাড়াচাড়া করতে করতে দেখি মশলার একটা বাহারি ডিবেতে লম্বা লম্বা পরিষ্কার দারচিনি ক’পিস । ইস এক ঝলকে আন্দামান, দারুচিনির দ্বীপ …নীল সমুদ্দুর ,ঝকঝকে নীল আকাশ, রোদেলা বাতাস আর ফেনার মুকুট মাথায় পরে জলকন্যেরা সব ভেসে উঠলো চোখের পাতায় … এমন সব পুজো আচ্চার বিরতি পর্বে কার্তিকের আকাশটা থ ই থ ই রোদ্দুরে ভেসে যায় । গাছেরা প্রস্তুত হতে থাকে পাতা ঝরাবে বলে । হালকা একটা শীত শীত হাওয়া মনকেমনের গন্ধ বয়ে আনে … সন্ধে নামতেই কেমন ঘরভুলোনো ছমছম ।কুয়াশা জড়িয়ে ধরে আলতো করে …হাওয়া বাতাসের হাত । কারো কারো ছাতের মাথায় চিলেকোঠার উপরে লম্বা আকশিতে লাগানো থাকে আকাশ প্রদীপ …বয়ে চলে রাত …. বাতাসে নামহারা অজানা গন্ধ , মাঝে মাঝে ছাতিম ফুলের গন্ধে নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসে …..উঠোন জুড়ে চাঁদের আলোর ঢল নামে …ঝরা বকুলের গন্ধ মিশে থাকে আলোর উঠোনে … সারা বাড়ি মেখে থাকে পুজোর আদর ,গুড়ের পাক, নারকোল কোরা জুঁই ফুল ধবধবে … আতপ চাল ভিজোনো র গন্ধ, খ ই উখড়া, তিল …নাড়ু মোয়া মাখামাখি গন্ধে গন্ধে ….দশমীর শেষদিন থেকেই শুরু বিজয়া করা …কাদের বাড়ি নাড়ুটায় পাক একদম ঠিকঠাক, কোন কাকিরা ক্ষীরের নাড়ু বানিয়েছে ….মা বানাতো ঘুগনি , পদ্মকাটা নিমকি, আর পাতলা পাতলা সাদা ধপধপে ক্ষীরের সন্দেশ ….কাগজের মতো সাদা ,আর ছাঁচেও ফেলা হতো কয়েকটা …শির দেওয়া ফুলের ছাঁচ আর আমার পছন্দ ছিল শাঁখের ছাঁচ টা । পাক ঠিক হলে হাতের চাপে গোল করে করে ছাঁচে ফেলো আর টুক করে চারপাশটা চামচে দিয়ে তুলে সন্দেশটা তুলে ফেলো ….. এছাড়া লবঙ্গ লতিকা আর বম্বে থেকে বেড়িয়ে এসে মাইশোর পাক …বেসনের পাকে তৈরি মিঠাই …
সারা বাড়ি মেতে থাকতো কারিপাতা ঘি ফোড়ন দেওয়া মুলো দেওয়া মটরের ডালের গন্ধে গন্ধে …. কখনো রাঁধুনি ফোড়ন দেওয়া পাতলা মুসুর ডাল …. তোমার এমন মনে পড়ে ? ঋতুর বদল ? জুঁই ফুল মালা থেকে আস্তে আস্তে খোঁপায় পরিয়ে দেওয়া সাদা সিজন ফ্লাওয়ারের লম্বা মালার দোল ….
আসলে একসাথে হাঁটার তো কোন শেষ হয়না …. আমার হাতে হাত রেখে আলতো জড়িয়ে নাও … আমাদের সাথে হাঁটতে থাকে না ফুরোনো ইচ্ছে গুলো …ফাগুনদিনের বৃষ্টি অথবা ঝরা বকুলের গন্ধ …..

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD