বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বে-সরকারি ভাবে নির্বাচিত কসবায় ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত-৪ কসবায় এলজিইডি’র শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আগরতলায় স্রোত আয়োজিত লোকসংস্কৃতি উৎসব কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি’র উপর হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা কসবায় চকচন্দ্রপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা, পুরস্কার বিতরণ ও ছবক প্রদান শ্রী অরবিন্দ কলেজের প্রথম নবীনবরণ অনুষ্ঠান আজ বছরের দীর্ঘতম রাত, আকাশে থাকবে চাঁদ বিএনপি-জামাত বিদেশীদের সাথে আঁতাত করেছে-কসবায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ১৩ দিনের জন্য ভোটের মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী
বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা।

বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা।

পাভেল আমান

পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্ভেদ্য ,কোমল ,কাঙ্খিত ,দুরন্ত এক মানবিক অনুভূতির নাম হচ্ছে ভালোবাসা। সৃষ্টিকর্তা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা ও দরদ দিয়ে গড়েছেন এই শ্রেষ্ঠ মানব জাতিকে। জনম জনম ধরে ভালোবাসা সব কিছুকে তুচ্ছ করে নিজ আসনকে করেছে সমুন্নত, মহিমান্বিত ও গৌরবময়। ভালোবাসার প্রসারতা, গভীরতা ও ব্যপ্তি এতই বিশাল যে সারা জীবন ব্যয় করেও এর সীমা পরিসীমা নির্ধারণ করা কঠিন। আজ ১৪ ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব প্রেম বা ভালোবাসার দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে। এই পৃথিবীর মনুষ্য জাতির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত গুলোই ভালবাসাকে কেন্দ্র বা ভর করে প্রতিনিয়ত আবর্তিত হয়।মানুষের প্রাত্যহিক চলার পথে ভালবাসা হয়ে ওঠে সমস্ত অন্তঃস্থ সুখের উৎস ও বেঁচে থাকার প্রয়াস বা অনবদ্য অবলম্বন। তাই ফিবছর এই দিনটি সমস্ত সম্পর্কের ও সব বয়সীদের মনে দিয়ে যায় অনুভূতির বর্ণনাতীত দোলা।ভালোবাসার সিক্ত হৃদয় আবেগ আপ্লুত থাকে এই দিনকে বিশেষভাবে উদযাপনের জন্য। আজ প্রেম-ভালোবাসায় মাতোয়ারা, আত্মহারা, নিজেকে বিলিয়ে দেবার দিন। প্রকৃতির পালাবদলেই আজ এসেছে বসন্ত ।সেই ফাগুনের মাতাল হাওয়ায় আজ উদ্দামে ভেসে যাবে প্রেম পিয়াসী তরুণ-তরুণী ,ভালোবাসার রঙে রঙিন হবে হৃদয়। মনের যত বাসনা, যত অব্যক্ত কথা ,ডালপালা ছড়িয়ে পড়বে বসন্তের মধুর হাওয়ায়। আজ চুপ কথা শুনবার ও শোনানোর দিন। আজ কারও কারও চুপ কথা গুলো হয়ে যাবে রূপকথা। সারা জীবন মনে রাখার মতো গল্প।
এবারে আসা যাক এই দিনটির ইতিহাস সম্পর্কে কিছু কথায়। কথিত আছে ২৬৯ খ্রিস্টাব্দে ইতালির রোমে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস নামে একজন খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্মপ্রচার অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস তাকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়েকে চিকিৎসার দ্বারা সুস্থ করে তোলেন। এতে মেয়েটির প্রতি তার সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস এর জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। এছাড়া তিনি যখন জেলে বন্দী ছিলেন তখন ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে জেলের জানলা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিত। অনেকের মতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস এর নামানুসারেই প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে হিসাবে ঘোষণা করেন। কেউ আরো একজন ভ্যালেনটাইন এর নাম উল্লেখ করেছেন। যিনি রাজার আদেশ অমান্য করে প্রেম করেছিলেন এবং পরে বিয়ে করেছিলেন। আদেশটি হল: কোনো যুবক যুবতী বিয়ে করতে পারবে না। কারণ ওই সময়ে রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহ করতে আদেশ করেন। ভ্যালেন্টাইন আদেশ না মানায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়।গ্রিক ও রোমান উপকথার মতোই ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে আরো গল্প কাহিনী ছড়িয়ে আছে।
ভালোবাসা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, শুধুমাত্র অনুভূতি দিয়ে প্রকাশ করতে হয়। এটি একটি মানবিক অনুভূতি ও আবেগকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা। এর রূপ ,রং ,গন্ধ কিছুই নেই আছে শুধু অনুভূতি। বিশেষ কোন মানুষের জন্য ভালোবাসা স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন মুহূর্ত কেই স্মরণ করে লিখেছিলেন “-দোহাই তোদের, এতটুকু চুপ কর /ভালোবাসিবারে দে মোরে অবসর।”জীব জগতের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক হলো ভালোবাসা।পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ গুলোর মধ্যে একটি হলো ভালোবাসা।ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনে ভালোবাসা দিবসে বাঙালির মনের ভালোবাসা আজও অমলিন ও পবিত্র। ফুলে রাঙ্গা বাসন্তী মোহে মনোমুগ্ধকর। বসন্তের আগুনরাঙা শিমুল পলাশ ভালোবাসাকে সত্যিই রাঙিয়ে দেবে। যুগলদের মনের উচ্ছ্বাসকে বাড়িয়ে দেয় সহস্রগুণ। সুললিত করবে প্রেমের বাণীবন্দনা গুলোকে। গাছ থেকে ফুল ঝরার মত যুগলদের মনের সংগোপনে ঝরবে কথকতা।কত গান ,প্রেমের কবিতা। সবাই বলবে, ভালোবাসা ক্ষণিকের নয়। ভালোবাসা চিরন্তন, শাশ্বত চিরায়ত, বিশ্বাসে ।ভালোবাসি তোমায় ।আজকের ভালোবাসা শুধু প্রেমিক প্রেমিকার নয় ,শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই নয় ,তা প্রসারিত হবে বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজন পরিচিত সবার মাঝে। এই ভালোবাসা বয়সের ফ্রেমে বাঁধা নয়। কিংবা শুধু তরুণ মনেই এর সীমাবদ্ধতা নয়। আজকের দিনে সব বয়সের ,সব সংস্কারে বিশ্বাসী মানুষের মনে নতুন দোলা জাগাবে। যারা ভালোবাসায় পড়েছে অথবা যারা ভালোবাসেনি এখনো কাউকে সবাই আজকে আবারো নতুন করে জাগবে।পুরাতন কে পিছনে ফেলে, মনের সব যাতনা ক্লেশ ,কালিমা ভুলে ভালবাসায় ডুবে যাবে সবাই। ভালোবাসাই মাতোয়ারা হবে সব মানুষ। ঔ আজকের দিনে সবাই খোঁজেন প্রিয় মানুষটির সাহচর্য। একটু পরম ছোঁয়া। একটু ভেতরের মানুষটাকে নতুন করে দেখতে ,চিনতেও বুঝতে। আজকের নবীন প্রজন্মরা সোশ্যাল মিডিয়া মারফত দেশ দেশান্তরে পৌঁছে দিচ্ছে ভালোবাসা নিয়ে নিজ নিজের ঐকান্তিক অনুভূতিগুলো।দিবসটিতে উদযাপন করতে তরুণ-তরুণীদের মাঝেই অনাবিল উচ্ছ্বাস দেখা যায় সর্বাধিক। নতুন পোশাক পরে বিভিন্ন দর্শনীয় পার্কে, নিরালা নিভৃতে ঘুরে বেড়ায় মনের ভালোবাসাকে বিলিয়ে দিতি ও ব্যক্ত করতে। ফুলের দোকান গুলি ও ফুড স্টলে থাকে ভিড়। ভালোবাসার আরেক নাম প্রেম।ভালোবাসার গভীরতা পৃথিবীর কোন ফ্যাদোমিটারেই পরিমাপ করা যায় না।স্নেহ ,প্রীতি, প্রেম আর ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হতে আজ সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ দিন।প্রতীক্ষার যামিনী পোহানোর মধ্য দিয়ে আজ এসেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ 14ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সারা বিশ্বের মতো পশ্চিমবঙ্গেও আজ ধ্বনিত হবে ভালোবাসার পংক্তিমালা ,গুঞ্জরিত ভালোবাসার গানের অমর সুর লহরী। সারাদিন তরুণ-তরুণীদের হাতে থাকবে রক্তগোলাপ ,চোখে আনন্দময়ী আগমনীর সজীব স্বপ্ন। দুরু দুরু হৃদয় আনন্দ ,উত্তেজনা। ভালোবাসার বন্ধন আর প্রেমের চাদরে ঢেকে যাবে হৃদয়ের পুরোটা প্রাঙ্গন। প্রিয়জনকে পাশে বসিয়ে অনেকে আজ চটজলদি বলে ফেলবে হৃদয়ের গভীরে লালিত সেই- না- বলা কথাটি। সারা পৃথিবীর মানুষ পরস্পরকে ভালবাসবে।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন্স ডে শুধুমাত্র তরুন-তরুনীর নয় সব বয়সের, সব শ্রেণীর মানুষের ভালোবাসা বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশ এর আনুষ্ঠানিক দিন। এ ভালোবাসা হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মানুষে মানুষে ভালবাসাবাসির দিন ও এটি। যদিও ভালোবাসা একটি বিশেষ দিনের জন্য নয়।সারা বছর , সারা মাস, সারা দিন ,সারাটা জীবন ভালোবাসার।কর্মব্যস্ততার কারণে কতদিন হয়তো সন্তানের বাবার পাশে বসা হয়না ,মায়ের আচলের স্নেহের ঘ্রান নিয়ে জড়িয়ে ধরে বলা হয় না-” মা তোমাকে অনেক ভালবাসি ,যতটা বলছি তার চেয়েও বেশি”। সেই সারা বছরে বলি বলি করে না বলা কথাটি বলার দিন ভালোবাসার দিবস। এই দিবসের তাৎপর্য বিশাল ও সর্বজনীন।সন্তানের প্রতি বাবা মার অপত্য স্নেহ ,বাবা মায়ের প্রতি সন্তানের আন্তরিক শ্রদ্ধা মমত্ববোধ সব মিলিয়ে ভালোবাসার এই দিন। আদরের ছেলে মেয়ের জন্য পিতা-মাতার নিঃস্বার্থ অসীম মঙ্গল প্রার্থনা ,ছেলে-মেয়ের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা মমতায় সিক্ত করে মা-বাবার মন, আনন্দে ভরিয়ে তুলবে। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সমন্বয়ে সৃষ্টি এমন সম্পর্ক সত্যিই অতুলনীয়। প্রেমিক যুগলের জন্য অতীব স্মরণীয় বহুকাঙ্খিত দিন এটি। হরিন চোখের কোনে মায়াবী কাজল একে দুরুদুরু বুকে ভালোবাসা প্রকাশের মধুর দিন। রৌদ্রোজ্জ্বল স্নিগ্ধ সকাল ,সোনালী দুপুর, ঝিরিঝিরি দখিনা হাওয়ায় শান্ত বিকেল ,জোছনায় ঝলমল রুপোলী রাত- এ লগন গুলো শুধু ভালবাসার, মন যমুনায় পাল উড়িয়ে সুর তুলে ভালোবাসার গান গাইবার দিন নিজেকে নিঃস্ব ,রিক্ত করে ভালবাসিবার দিন। পৃথিবীর আদিমতম সম্পর্কের নাম ভালোবাসা।এই একটি শব্দ নিয়ে যত কবিতা, গান ,গল্প ,উপন্যাস ,নাটক, সিনেমা রচিত হয়েছে আর কোন সম্পর্ক নিয়ে তা হয়নি। ভালোবাসার জন্য কেউ সাম্রাজ্য ত্যাগ করেছে ,তাজমহল গড়েছে, কেউ জীবন বাজি রেখেছে অথবা ত্যাগ করেছে।সেই ভালোবাসাকে চিরঞ্জিত করে রাখতে ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এসেছে ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।বর্তমান বিজ্ঞান প্রযুক্তির নানা ব্যবহার যেমন মুঠোফোন ,কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের দ্বারা দূরের মানুষকে কেউ অনায়াসে জানানো যায় মনের কথা। হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও প্রিয় মানুষকে ছুঁয়ে দেবার আনন্দ পাওয়া যায়। অনুভূতি মেলে ভার্চুয়াল স্পর্শে।প্রযুক্তি কর্মব্যস্ত মানুষের জীবনে প্রিয়জনের মাঝেই ভালোবাসায় বেঁচে থাকার অবলম্বন, হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ফেসবুক।মুঠোফোনের মেসেজ, ইমেইল অথবা অনলাইনের চ্যাটিংয়ে ছোট ছোট কথায় গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের সোপান।এদিনে চকলেট, পারফিউম গ্রিটিংস কার্ড, ইমেইল মুঠোফোনের এসএমএস ,এমএমএসে প্রেমবার্তা, প্রিয় উপহার অথবা বই প্রভৃতি সৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেওয়া হয়।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে এখন সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে তার আবাহন। যার গভীরে লুক্কায়িত ভালোবাসার চিরন্তন সবুজ বার্তা। আজকের পৃথিবীতে নানা ঘাত-প্রতিঘাত অস্থির জনজীবন।অন্তত এই একটি দিনেও যদি মানুষের মধ্যে শান্তি ও সদ্ভাব ভাবে ফিরে আসে ,তাহলে মন্দ কি?কারণ আমরা চাই সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হোক পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ। রচিত হোক মানুষে মানুষে মহামিলনের মহাকাব্য। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই মানুষ ভালোবাসার চর্চা করে আসছে। ভিক্টর হুগো বলেছেন’- জীবন একটি ফুল যা ভালোবাসার মধু।”বহুপ্রতিক্ষিত তিল তিল করে জমানো ভালোবাসাকে ভালোলাগার প্রিয় মানুষটির সাথে শেয়ার করার দিন। ভালোবাসার মানুষটিকে যুগ যুগ ধরে পবিত্র সম্মানে সম্মানিত করা।আমরা মানুষ হিসাবে সব ভালো কে ভালবাসি বলেই ভালোবাসার মধ্যে আছি। আমরা মানুষকে ভালোবাসবো প্রতিটি ক্ষণে, প্রতিদিন ,প্রতিটি কাজে। তাহলে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার দিন হিসাবে পবিত্র সম্মানে সমুজ্জ্বল থাকবে।পৃথিবী যুদ্ধের নয়, বিচ্ছেদের নয়, সহিংসতা নয় ভালোবাসারই জয় হয়েছে সব সময় এমন চিরন্তন প্রেমের মহিমায় সারা বিশ্বে পালিত হয় দিনটি। পৃথিবীর সব মহান মানুষরাই ভালোবাসার জয়গান করে গেছেন।ভালোবাসা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মরণীয় উক্তি “ভালবাসার জন্য যার পতন হয় বিধাতার কাছে সে আকাশের উজ্জ্বল তারার মতো উজ্জ্বল।’অন্যদিকে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল বলেছেন -“তুমি আমায় ভালোবাসো তাই তো আমি কবি ,আমার এরূপ সে যে তোমার ভালোবাসার ছবি”। তাই আসুন আমরা জাতি ধর্ম ,বর্ণ ,নির্বিশেষে সকলে মিলে ভ্যালেন্টাইনস ডে কে বরণ করি একরাশ ভালোবাসা দিয়ে। আর ভালোবাসার জয়গান গেয়ে মুখরিত করি আমাদের চারিদিক। মানুষকে ভালবেসে গাই মানবতার জয়গান। আজকের দিনটি অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইনস ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস সকলের মধ্যে হয়ে উঠুক গভীর আনন্দ, আবেগ ও গোলাপের সৌরভে সুরভিত একটি দিন। পরিশেষে করোনা আবহের এই নিদারুণ সংকট কালে আমরা সবাই দুঃখ-দুর্দশা, হতাশা বিষন্নতা ভুলে গিয়ে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বিভাজন , বৈষম্যকে দূরে সরিয়ে আমরা আবারও মানবতার ভালোবাসার শাশ্বত, অনাবিল, অনিন্দ্যসুন্দর মেল বন্ধনে নিজেদের শ্রেষ্ঠ প্রজাতির জীব রূপে উদ্ভাসিত করি যেখানে শুধুই মনুষ্যত্ব, মানবিকতা ও মানবতাবাদ।

– পাভেল আমান, শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক, হরিহর পাড়া -মুর্শিদাবাদ

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD