মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১০:১৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বে-সরকারি ভাবে নির্বাচিত কসবায় ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত-৪ কসবায় এলজিইডি’র শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আগরতলায় স্রোত আয়োজিত লোকসংস্কৃতি উৎসব কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি’র উপর হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা কসবায় চকচন্দ্রপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা, পুরস্কার বিতরণ ও ছবক প্রদান শ্রী অরবিন্দ কলেজের প্রথম নবীনবরণ অনুষ্ঠান আজ বছরের দীর্ঘতম রাত, আকাশে থাকবে চাঁদ বিএনপি-জামাত বিদেশীদের সাথে আঁতাত করেছে-কসবায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ১৩ দিনের জন্য ভোটের মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী

রামকৃষ্ণ

সুমিতা সরকার ঘোষ (ম্যাহেক)

আমলকী বট, অশ্বত্থ, অশোক,বেলের সমন্বয়ে পঞ্চবটীর গঠন।

বৃক্ষমূলে তপস্যায় রামকৃষ্ণ একাকী, মুদিত নয়ন।

বৃক্ষ শাখার একটা ডাল, আধভাঙ্গা হয়ে মিশে আছে,

পরমহংসের ঘর ছিল এই পঞ্চবটিরই কাছে।

ঠাকুর আজ মিশে ধরায়, পঞ্চবটী পড়ে আছে,
জ্যান্ত এক মহামানবের অপেক্ষায় এখনো গাছগুলো বাঁচে।

অশ্বত্থ, আমলকীর শাখায় শাখায় কিংবদন্তী অবতার আজও জীবন্ত,

গোধূলি আলোয় বট, অশ্বত্থের সারি দিশেহারা, দিকভ্রান্ত।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

পঞ্চবটীর জঙ্গল ছিল ঠাকুরের সাধনা স্থল, পুরোনো বট, আর নেই, পূর্ব দিকে ঠাকুরের স্নানের সেই পুকুরে আজও জল বর্তমান।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

পর্ব – (২)

সন্ধ্যে নামার আগে আকাশে অদ্ভুত এক নীল রংয়ের আহ্বান,

গঙ্গা তীরে নির্মিত বেলুড় মঠ সন্ধ্যার আপ্যায়নে দন্ডায়মান।

শান্ত সমাহিত সন্ধ্যা তার অন্ধকারের বেড়াজাল নিয়ে প্রস্তুত।

অনতিদূরে চঞ্চলা, নিঃস্তরঙ্গ, অন্তঃসলিলা, স্রোতস্বিনী গঙ্গা প্রতীয়মান সাক্ষীর মেঘদূত।

যেখানে ঠাকুর বসে আছেন পৃথিবীর সর্ব মঙ্গলের চিন্তা, তপস্যা নিয়ে, সেখানে ঐ মূর্তির নীচে আছে ঠাকুরের দেহা ভস্মের পবিত্র নির্মাল্য।

অলক্ষ্যে আজও হয়ত কোথাও বিবেক – আনন্দ অপেক্ষমান, ঠাকুরের দর্শনের প্রতীক্ষায় চাঞ্চল্য।

মা ভবতারিণী, মা সারদা, পরমহংস আর বিবেকানন্দ এই তিন ত্রয়ীর অপেক্ষায় সারারাত জেগে থাকেন।

পৃথিবীর কোন কোণায় আজও হয়ত তপস্যায় প্রাণী জগৎকে ভাল রাখেন।

ঈশ্বর নিরন্তর হয়ত তারই চেষ্টায়।

রামকৃষ্ণও তার নরেনকে স্বাগত জানাবার জন্য পুষ্প, অর্ঘ্য, পবিত্র অন্তর নিয়ে তৈরী শেষটায়।

পর্ব – (৩)

ফাগুনে, আগুনে, কৃষ্ণচূড়ায়,
বসন্তের আলাপে, বিলাপে, সন্ধিক্ষনে,

নক্ষত্রেরা ক্রমানুসারে তাদের সাধ্যমত সাজিয়ে দেয় আকাশ

চোখের জলে ভেসে যায় সমাগত সন্ধ্যা
সন্ধ্যা আসে সন্ধ্যা যায় জীবনে,

কিন্তু কোন কোন সন্ধ্যা স্মরনীয় হয় মননে,

#রাত্রি_নামছে_তার_রাজকীয়_ঔদ্ধত্য_আর_পূর্ণ_অহংকারের_মর্য্যাদা_নিয়ে

ইতিহাস এসে ইতিহাসের পায়ে নতজানু হয়,

#ক্ষণকাল_এসে_মহাকালের_পায়ে_আত্মসমর্পণ_করে………

গঙ্গা তীরে সন্ধ্যা নামে, মৃদুমন্দ
দক্ষিণা বাতাসের আয়োজন,

আচার, বিচার, জপ, তপ,
তুলসী, রুদ্রাক্ষের সংযোজন।

ইঁট, কাঠ,কংক্রিটের কায়স্থ পুত্র
ব্রাহ্মণ পুত্রের দোরগোড়ায়,

আজও রামকৃষ্ণ দেব বসে আছেন,
তেমনই এক নরেন্দ্রনাথের অপেক্ষায়

বেলুড় মঠ প্রতি সন্ধ্যায় সাজে
আলোকমালার অলংকারে,

সবার অলক্ষ্যে ভবতারিণী দাঁড়িয়ে
আছেন রাজকীয় অঙ্গীকারের অহংকারে……..

পর্ব – (৪)

গঙ্গার তীরে সন্ধ্যা নামছে, মৃদুমন্দ বাতাস পশ্চিমে আকাশ রক্তাভ। পাখিরা কলকাকলিতে মুখর। বাসায় ফেরার পথে, ধীর নীরব চরণে রাত্রি নামছে, রাত্রি নামছে ভবতারিণীর মন্দিরের বাগানে। অস্থিরভাবে বাগানে পায়চারি করছেন এক ব্রাহ্মণ। নিরক্ষর ডিগ্রী, ডিপ্লোমাহীন গ্রাম্য এক আপন ভোলা ভাব বিভোর মানুষ, যেন এক সদানন্দ বালক, কে যেন আসছে? কে যেন আসবে? বাতাসে যেন তার পদধ্বনি বাজে। আকুল ব্রাহ্মণ অস্থির চিত্তে পা বাড়ালেন তার ছোট্ট ঘরটির দিকে।

আর তারপর ঘটে গেল সেই ব্রম্মমূহুর্তের আলোক বিস্ফোরণ। সিমলার নরেন এসে দাঁড়ালেন কামার পুকুরের গদাধরের চরণে। #ইঁট_কাঠ_কংক্রিটের_কায়স্থ_পুত্র
এসে দাঁড়াল #সবুজ_গ্রামের_ব্রাহ্মণ_পুত্রের দোরগোড়ায়। ইতিহাস এসে দাঁড়াল ইতিহাসের সামনে। যুগ সন্ধিক্ষণে আকাশে জেগে উঠল ধ্রুবতারা, বাতাসে বেজে উঠল মাঙ্গলিক সুর, গঙ্গার তরঙ্গে বেজে উঠল মহাকালের ছন্দ। ক্ষনকাল থমকে তাকাল চিরকালের দিকে।

দক্ষিণেশ্বরে ভবতারিণীর ওষ্ঠাধরে ফুটে উঠল হাসি, হাতের খড়্গ উঠল জ্বলে দীপ্ত আলোয় নক্ষত্রেরা সাজিয়ে দিল আকাশ, মহাকাশে বেজে উঠল মহাশঙ্খ নাদ। ইতিহাস সূচনা লগ্নের শিহরণে স্পন্দিত। ঠাকুর ব্যাকুল হয়ে বললেন কে? নরেন এলি? কতদিন থেকে তোর জন্য ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছি। এতো তোর নিজের ঘর, নিজের বাড়ি।এখানে আসতে এত দেরী করলি কেন রে? নরেন গান ধরলেন #মন_চল_নিজ_নিকেতনে

সুরে, আবেগে, চোখের জলে ভেসে গেল সমাগত সন্ধ্যা, এরপর বিজয় রথ ছুটল ঠাকুরের সেই স্বর্ণরথের চক্র নির্ঘোষে। ধূলোর মত উড়ে যেতে লাগল মানুষের পাপ, মানুষের পতন, মানুষের যন্ত্রণা, মানুষের কান্না। সেই রথের অমিত বিক্রমে পথ ছেড়ে সরে দাঁড়াল #আচার_বিচার_জপ_তপ_তুলসী_রুদ্রাক্ষ। পথের ওপরে নীল নীলিমায় জাগ্রত হলো ভালবাসা। প্রেম, আনন্দ, জগৎ এসে নতজানু হলো গঙ্গা তীরের সাধকের পায়ে।

অব্রাহ্মণ নরেন্দ্রনাথ হয়ে উঠলেন ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠদের মাথার মনি, পথ প্রদর্শক, ধ্রুবতারা। সমস্ত ভুবন জানল জীব সেবাই শিব সেবা। মানব প্রেমই ঈশ্বরানুরাগ। এসব একদিন এই বাংলায় ঘটেছিল। সত্যি ঘটেছিল। শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ, এরা বাঙালীই ছিলেন।

একদিন বাংলা সারা পৃথিবীকে পথ দেখিয়েছিল। বাঁচার পথ, জাগার পথ, চলার পথ, উত্তরণের পথ। হ্যাঁ আমরা বাঙালীরাই মাথা উঁচু করে জগৎকে আলো দিয়েছিলাম। সত্যি, এসব সত্যি কথা। আর আজ মন্দির আছে, মন্ত্র আছে, মূর্তি আছে, নৈবেদ্য আছে, নেই সাধনা, নেই আরাধনা, নেই পূজা। শুধু পতন, কেবল অধঃপাত, হাহাকার, শুধু মৃত্যু। শুধু দীর্ঘশ্বাস আর হুল্লোড়, মহোৎসব, এ এক হননের যুগ।

ক্ষমা কোরো ঠাকুর, ক্ষমা করবেন স্বামীজি, আপনারা আমাদের মানুষের মত মানুষ করে তুলতে চেয়েছিলেন, আমরা পারিনি, আমরা পশুই থেকে গেছি, হয়ত দিনে দিনে পশুর চেয়েও অধম হয়ে ওঠার সাধনায় এখন মগ্ন আমরা।

ক্ষমা করবেন ঠাকুর, ক্ষমা করবেন স্বামীজি, ক্ষমা করবেন ঈশ্বর।

পর্ব – (৫)

প্রিয় সখা

তুলসী, জপ, তপ, রুদ্রাক্ষ আজ নীরব,
গঙ্গা পারে দেহ নিথর শয্যায় সাজে,

ইঁট, কাঠ, কংক্রিটের, কায়স্থ পুত্র চলেছেন,
পরম জ্যোতির্ময় এক আলোক মালার মাঝে।

দূরে অলক্ষ্যে দাঁড়িয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন, #আয়_নরেন_আমার_কাছে_আয়,

জ্বলছে চিতা, নিবেদিতার অন্তরে চলছে, ভালবাসার অন্তর্দ্বন্দ্ব সমাধি,

যদি পাওয়া যেত একটুকরো গৈরিক বসন,
জ্বলন্ত হয়ে বাতাসে উড়ে যায়।

#শব শেষ হবার পরে প্রার্থিত জ্বলন্ত বস্ত্রখন্ড উড়ে এসে পড়ল গুরুদেব প্রানসখার যেন #প্রিয়_চিঠি স্মৃতি।

পরমাত্মায় বিলীন হলেন বিবেকানন্দ,
অস্ফুটে কে যেন নিঃশব্দে বলে গেলেন।
ভাল_থেকো।

ইতি______

হারিয়ে গেল ভালবাসা, হারিয়ে ফেললেন তার প্রিয় ভালবাসার মানুষটিকে, পৃথিবীর আর কোন কোণাতেও কোনদিন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। মেরুদণ্ডে এক অপার্থিব ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল কিছু ক্ষণের জন্য, প্রাপ্তি শুধু এক টুকরো গৈরিক বসন।

সেই গৈরিক বসন যেন অস্ফুটে বলে গেল নিবেদিতা, ভাল থেকো, আমি শুধু তোমার শরীরে নয়, চিন্তনে, মননে, শ্রবণে, দর্শনে চিরকাল বেঁচে থাকব, মেরুদন্ডে একটা অপার ভাললাগার ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল।

১৯০২ সালের ৪ঠা জুলাই রাত ৯ টা১০ মিনিটে মাত্র ৩৯ বছর ৫ মাস ২৪ দিনে বিবেকানন্দ ইহলোক ত্যাগ করেন

মূলাধার পদ্মে কুলকুণ্ডলিনী শক্তিকে জাগ্রত করে যোগবলে ধ্যানমগ্ন হয়ে মহাপ্রস্থানের পথে যাত্রা করেছিলেন।

১৬ বছর আগে উল্টোদিকেই গঙ্গা তীরে রামকৃষ্ণ দেবকে দাহ করা হয়েছিল, গুরু শিষ্যের একই জায়গায় মহা-সমাধি……

মারা যাবার পর ধ্যানমগ্ন অর্ধোন্মীলিত চোখে শুয়ে আছেন স্বামীজী নিবেদিতার স্মৃতিচারণায়……..

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD