মোঃ গিয়াস উদ্দিন রুবেল (নোয়াখালী প্রতিনিধি):
নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচনে বিপুল পরিমান ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে অনন্য নজির গড়লেন আলোচিত মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে এবং সত্য বচনে সারা বাংলাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা।
জনগনের জন্য কাজ করলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যেমে মূল্যায়নের সুযোগ দিলে, জনগন সেটা মনে রাখে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যেমে বিপূল ভোটে জয়লাভ করা তারই প্রমাণ, এ বিজয় গৌরবের। সবার অংশগ্রহনের সুযোগ করে দিয়ে পুরো বাংলায় ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। যেখানে দলমত নির্বিশেষে সবাই দলীয় কাদের মির্জার চাইতে ব্যাক্তি কাদের মির্জাকে ভোট দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি নিজেকে পৌছালেন অনন্য এক উ”চতায়।
আজ ১৬ই জানুয়ারী নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট পৌর নির্বাচনে ইভিএম মেশিনের সাহায্যে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টার দিকে ১নং কেন্দ্রে মির্জা কাদের, সকাল ৯টায় ৫নং কেন্দ্রে কামাল চৌধুরী এবং ৮নং কেন্দ্রে সতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেন তাদের ভোট প্রদান করেন। সকাল ৮টা থেকে বিকার ৪টা পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল বসুরহাট পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রের ফলাফল গণনা করে জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা রির্টানিং কর্মকর্তা রবিউল আলম ফলাফল ঘোষনা করেন। এর মধ্যে নৌকা প্রতিক নিয়ে আওয়ামীলিগের সাধারন সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা ১০৭৩৮ ভোট পেয়ে নির্বচিত হয়েছেন, অপরদিকে তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপি মনোনীত কামাল উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ১৭৭৮ ভোট, এবং জামায়াত থেকে মোঃ মোশাররফ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মোবাইল প্রতিক নিয়ে পেয়েছেন ১৪৫১ ভোট। বলা যায়, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেও জামানত হারালে বিএনপি ও সতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচনে জয়ের পর আবদুল কাদের মির্জা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রæতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিজয়ের মালা পরবেন না।
বসুরহাট পৌরসভা ১নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ৮২১ ভোট, ধানের শীষ প্রতীক ২৩ ভোট এবং মোবাইল প্রতীক পেয়েছে ৪৬ ভোট। ২নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ৯৮৩ ভোট, ধানের শীষ প্রতীক ২৫৮ ভোট এবং মোবাইল প্রতীক পেয়েছে ১২৫ ভোট। ৩নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১৩৬৪ ভোট, ধানের শীষ প্রতীক ১৫৮ ভোট এবং মোবাইল প্রতীক পেয়েছে ১৮৭ ভোট। ৪নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১১৬১ ভোট, ধানের শীষ প্রতীক ৩৪৯ ভোট এবং মোবাইল প্রতীক পেয়েছে ১১৩ ভোট। ৫নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১৪৩০ ভোট, ধানের শীষ প্রতীক ২০৯ ভোট এবং মোবাইল প্রতীক পেয়েছে ১২২ ভোট। ৬নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ৮৪৭ ভোট, ধানের শীষ প্রতীক ৮০ ভোট এবং মোবাইল প্রতীক পেয়েছে ১০৩ ভোট। ৭নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১২৫৯ ভোট, ধানের শীষ প্রতীক ১৬১ ভোট এবং মোবাইল প্রতীক পেয়েছে ১৫৪ ভোট। ৮নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১৭১৫ ভোট, ধানের শীষ প্রতীক ৩৫৪ ভোট এবং মোবাইল প্রতীক পেয়েছে ৩৫৪ ভোট। ৯নং ওয়ার্ডে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১১৫৮ ভোট, ধানের শীষ প্রতীক ১৮৬ ভোট এবং মোবাইল প্রতীক পেয়েছে ২৪৭ ভোট। মোট প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলে নৌকা প্রতীক পেয়েছে ১০৭৩৮ ভোট, ধানের শীষ ১৭৭৮ ভোট এবং মোবাইল প্রতীক ১৪৫১ ভোট।
কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সমর্থিত সোহাগ হাজারী (প্রাপ্ত ভোট ৬৭৯) প্রতীক উট পাখি, ২নং ওয়ার্ডে আবুল হোসাইন আরজু (প্রাপ্ত ভোট ১০২৫) প্রতীক ডালিম, ৩নং ওয়ার্ড নূর হোসেন ফরহাদ (প্রাপ্ত ভোট ১৪১০)- প্রতীক পাঞ্জাবী , ৪নং ওয়ার্ড মাজহারুল ইসলাম তৌহিদ- প্রতীক ডালিম, ৫নং ওয়ার্ড হারুন অর রশিদ শাহেদ (প্রাপ্ত ভোট ৮৫৬)-প্রতীক উট, ৬নং ওয়ার্ড নূর হোসেন ফরহাদ (প্রাপ্ত ভোট ১৪১০)- প্রতীক পাঞ্জাবী, ৭নং ওয়ার্ড নূর হোসেন ফরহাদ (প্রাপ্ত ভোট ১৪১০)- প্রতীক পাঞ্জাবী, ৮নং ওয়ার্ড নূর নবী সবুজ (প্রাপ্ত ভোট ৮১৯)- প্রতীক পাঞ্জাবী, ৯নং ওয়ার্ড এবিএম সিদ্দিক (প্রাপ্ত ভোট ৮৮২)-প্রতীক উট। অন্যদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১,২,৩ নং ওয়ার্ডে রৌশন আরা মিলি, ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডে মাকসুদাহ্ আক্তার হ্যাপী, ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডে হাসিনা আক্তার বিউটি নির্বাচিত হন।
এ পৌরসভায় প্রথমবারের মত ইভিএম এর মাধ্যেমে নয়টি ওয়ার্ডে নয়টি কেন্দ্রের ৬১টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। আলোচিত এ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন র্যাবের তিনটি টীম, ৪ প্লাটুন বিজিবি, ২২০ জন পুলিশ সদস্য, ৮১ জন আনসার বাহীনি এবং ৯টি কেন্দ্রে ৯জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত করেন। এছাড়াও ৯জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ৯জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ছিলেন।
উল্লেখ্য বসুরহাট পৌরসভায় ৩জন মেয়র পদপ্রার্থী, ৭জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও ২৫ জন সাধারন ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ২১১১৫ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০৬২০জন এবং মহিলা ভোটার ১০৪৯৪ জন।
Leave a Reply