পাভেল আমান।।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ্যের ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকেই তিনি নারী শিক্ষার প্রসারে বেশকিছু বাস্তবিক পরিকল্পনা কর্মসূচী ও প্রকল্পের সঠিক রূপায়ণ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি মানবিকভাবে উপলব্ধি করেছেন মেয়েদেরকে যতটা পড়াশোনার মধ্যে দিয়ে আত্মনির্ভর, শিক্ষিত করে তোলা যাবে ততবেশি সমাজ সংসার
প্রগতির পথে এগিয়ে যাবে। প্রকৃত শিক্ষায় সমাজ ও রাষ্ট্রকে কাঙ্খিত অভিমুখে চালু করে। সেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ভূমিকা অবদান। মেয়েরাও যদি পড়াশোনায় শিক্ষিত হয়ে সংসার সমাজ দেশ রাষ্ট্রে তাদের গ্রহণযোগ্যতা, কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারে তাহলে অবশ্যই তাদের আর্থসামাজিক বিকাশ ঘটবে। সবক্ষেত্রেই জুড়ে গেছে শিক্ষার ব্যাপকতা, প্রাসঙ্গিকতা, প্রয়োজনীয়তা।রাজ্যের মেয়েদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে যেকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। তার মধ্যে অন্যতম কন্যাশ্রী। আজ ১৪ আগস্ট সেই কন্যাশ্রী দিবস। ইতিমধ্যেই সারা রাজ্যের ৬৭ লক্ষ কন্যা এর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। আগামীতেও বহু মেয়ে এর মাধ্যমে উপকৃত হবে বলেই আশাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্প রাষ্ট্রসংঘের সেরা প্রকল্পের স্বীকৃতিও পেয়েছে। বাল্য বিবাহ রুখতে ও মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে এই কন্যাশ্রী প্রকল্প সারা বিশ্বজুড়েই বন্দিত হয়েছে। ১৩ বছর থেকে ১৯ বছর পর্যন্ত স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের জন্য সরকারের এই প্রকল্প সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। বর্তমানে এই প্রকল্পের সাফল্যের কারণে কলেজ পড়ুয়াদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।কন্যাশ্রী হ’ল পশ্চিমবঙ্গ সরকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলিকে নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করে যাতে মেয়েদের জীবন ও মর্যাদার উন্নতি সাধনের জন্য গৃহীত একটি উদ্যোগ যাতে আঠারো বছরের আগে পরিবারগুলি তাদের মেয়ে সন্তানের বিবাহের ব্যবস্থা না করে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হ’ল দরিদ্র পরিবার থেকে আসা মেয়েদের উন্নীত করা এবং এইভাবে কঠিন অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে উচ্চতর পড়াশোনা করতে পারেন না। এটি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অধিদফতর এবং ইউনিসেফ দ্বারা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছেইতিমধ্যেই রিপোর্টে প্রকাশ এই প্রকল্পের কারণে রাজ্যে মহিলা শিক্ষার যেমন প্রসার হয়ছে। তেমনি মহিলারা স্বনির্ভর এবং ক্ষমতায়নও হয়েছে। এতে আখেরে এগিয়েছে রাজ্যই। করোনার জন্য চলতি বছর এই দিনে কোনওরকম অনুষ্ঠান করছে না রাজ্য সরকার। তা না হলে প্রতিবছর এই দিনে সারা রাজ্য থেকে কন্যাশ্রীদের এনে সম্মান দেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। কারণ, গত ৯ বছরে রাজ্যের যে প্রকল্প সারা বিশ্বে বন্দিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ২০১৩ সালে সূচিত মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প কন্যাশ্রী। এ কথা বলার আজ অপেক্ষা রাখে না পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের মধ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্প এক বৈপ্লবিক চেতনা বার্তা নিয়ে এসেছে। বিশেষত পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক, দিনমজুর খেটে খাওয়া অসংগঠিত শ্রেণীর পরিবারের মেয়েদের আলোর দিশা হয়ে দাঁড়িয়েছে কন্যাশ্রী প্রকল্প। তাদেরকে অহর্নিশ পড়াশোনার পথে উদ্বুদ্ধ, প্রভাবিত এগিয়ে নিয়ে যেতে এই মুহূর্তে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্কপ্রসূত মানবিক কন্যাশ্রী প্রকল্প বিকল্প নেই। সত্যি কথা বলতে মেয়েদের মধ্যে কন্যাশ্রী এক শিক্ষার রেনেসাঁস সৃষ্টি করেছে। রাজ্যের মেয়েদের শিক্ষার আবহমান ধারাকে সম্মুখে প্রসারিত করতে, শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, গুরুত্ব চরমভাবে অনুভব করতে, স্কুলের ড্রপ আউটের সংখ্যা কমাতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেয়েদের আরো বেশি অংশগ্রহণ করাতে, প্রকৃত শিক্ষায লাভে শিক্ষিত হয়ে স্বনির্ভর, ও প্রকৃত মেয়েদের ক্ষমতায়ন সৃষ্টি করাই এই কন্যাশ্রী দিবস পালনের তাৎপর্য। আসুন আমরা সবাই কন্যাশ্রী দিবসের বাস্তবিক গুরুত্ব উপলব্ধি করে শিক্ষার যথার্থতা ছড়িয়ে দিই আপামর ছাত্রীদের মননে। করোনাকালে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ পড়াশোনার প্রবাহমানতা স্তব্ধ, চারিদিকে শুধুই বিপর্যয়, বিপন্নতার ঘনঘটা, দ্বিতীয় সংক্রমনের ঢেউয়ে শুধুই বিষন্নতা সেই মুহূর্তে কন্যাশ্রী দিবস পালন হোক ছাত্রীদের মননে। এই দিবস পালনের মধ্য দিয়ে মেয়েদের শিক্ষার ধারা যেমন বজায় থাকুক সেভাবেই অচিরেই কোভিড বিধিতেই খুলে দেওয়া হোক রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
পাভেল আমান- হরিহর পাড়া -মুর্শিদাবাদ
Leave a Reply