অধ্যাপক শেখ কামাল উদ্দিন।।
জীবনের অধিকাংশ সময় হুজুরের সান্নিধ্যে কেটেছে। প্রায় ২৯ বছর। আমার আব্বা-আম্মা, সন্তান ও এই উস্তাদ দুনিয়ার সর্বাধিক মায়া মমতা ও শ্রদ্ধার উপযোগী। হুজুরের বয়স যখন ৫০ এর কাছাকাছি তখনই উনার হস্তদ্বয় স্পর্শ করেছি। তিনি আল্লাহ তাআলার আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন ১৬ বছর অতিবাহিত হলেও আমার হৃদয়ে তিনি বেঁচে আছেন। বসবাসের ঘরের দু’টো কামরায় উভয়ে অবস্থান করতাম। অবকাঠামো এত পরিবর্তন হলেও সেই পরিবেশ মানসপট থেকে মুছে যায়নি।
চৌচালা টিনের ঘর।
বাঁশের তৈরি বেড়ার পার্টিশন।
কাঠের ঢেলনি।
ডিজাইন করা বারান্দায় মোজাইকের ঢেলনি।
কিতাবের আলমারি।
শত বছরের পুরোনো তাফসির, হাদীস, ফিকহশাস্ত্রের কিতাব।
টিউবওয়েল।
জাম্বুরা গাছ।
আনারসের বাগান।
কলাজাম, বুতিজাম, আম, কাঁঠাল, জামরুল, লিচু, আতা, ডাবসহ নানাহ জাতের ফলবৃক্ষ!
আমেরিকা, জাপান, সৌদি আরব পত্র লেখা।
সারাদিন অপেক্ষা করে রেন্ট এ ফোনে বিদেশে কথা বলা।
আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ।
চন্ডিপদ, চক্রেশ চক্রবর্তীর হোমিও মেডিসিন আর খালি বোতল আনা নেয়া।
ঢাকার চকবাজার থেকে টিনাড্রাম ঔষধ।
মাদ্রাসা বোর্ড, শিক্ষা অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লায় গমনাগমন।
ফরম ফিলাপ, অডিট, সেন্টার পরীক্ষা।
আমার কাছে রক্ষিত উনার সময়ে ব্যবহারের কাঠের চেয়ারটি স্মৃতিগুলো প্রতিনিয়ত স্মরণ করে দেয়।
আমিরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযম, ইত্তেহাদুল উম্মাহ, সভা-সেমিনার, ওয়াজ মাহফিল, সফর।
প্রাতভ্রমণে নাহু ছরফ পড়া।
বিদ্যুৎ বিহীন হারিকেন আর মোমবাতির ব্যবহার। চিমনি পরিস্কার।
ভোর রাতে জেগে উঠার প্রতিযোগিতা।
হারিকেন বা বেটারীর লাইট দিয়ে চলাচল।
বিদ্যুৎ বিহীন পাঁচ ওয়াক্ত আজান দেয়া। বিশেষ করে ফজরের সময় একাকী মসজিদের মাইক দিয়ে আজান দেয়া।
তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ।
সুউচ্চ মিনার।
মাদ্রাসা, তরজার বেড়ার লিল্লাহ বোর্ডিং।
ঘাটলা, মসজিদ পরিস্কার করা।
লিল্লাহ বোর্ডিং এর ধান কাটা।
এলাকায় ধান, পাট কালেকশান।
মুষ্টি চাউল সংগ্রহ।
লতুয়ামুড়া বাগানের কাঁঠাল।
সকালে নিজ কক্ষে আওয়াজ করে কুরআন মাজিদ তিলাওয়াত।
জঙ্গে ছরফের পাঠগুলো মুখস্থ করা।
সাপ্তাহিক জলসায় সংবাদ পাঠ।
ইনকিলাব, সংগ্রাম, সোনারবাংলা, পৃথিবী, কলম, আল-ইসলাম, কিশোরকন্ঠ, ছাত্র সংবাদ, মিল্লাত, নয়াদিগন্ত, বেগম, গেদু চাচার সাপ্তাহিক, সাইমুম সিরিজ, মাসিক মদীনা, দিলরুবা, অন্য এক দিগন্ত, দৈনিক পত্রিকার ঈদ সংখ্যা, সাময়িকীসহ কত প্রকাশনার বই কেনা ও উপহার দেয়া। আধুনিক প্রকাশনা, প্রফেসার্স কর্ণার, মগবাজার, বাংলা বাজার, কাঁটাবন, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট।
ঈদ কার্ড।
লক্ষী বাজার, মুহাম্মদপুর, গোড়ান, করিম হোটেল, হোটেল স্টার, মিতালী, দিলশাদ, বিশ্ববিদ্যালয় হল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ১৫৫ নম্বর কক্ষ, হাজী মুহম্মদ মহসিন হল, জসিম উদ্দিন হল, এস এম হল।
বখশী বাজারের আনাচ-কানাচ।
কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
মাহফিলে ইছালে ছাওয়াব, শবে ক্বদর, শবে বরাত, শবে মেরাজ, ঈদে মিলাদুন্নবী, প্রতি বৃহস্পতিবার তা’লিম ও জিকরের মাহফিল।
মে’রাজুল আশেক্বীন, আওরাদে হাক্কানী বা যিকরে তরিকত, নূরে মুহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সৃষ্টির তথ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে রাজনীতি ও খেলাফত, শাজারা প্রকাশনা ও প্রোফ রিডিং। লেটারে কম্পোজগুলো প্রোফ দেখা কত কঠিন? ছাত্র জীবনে এগুলো আল্লাহর মেহেরবানী থাকায় সম্ভব হয়েছে। হুজুর হাতে-কলমে শিখিয়েছেন।
কাপড় ধোয়া ইস্তিরি দেয়া।
সফরে এক সপ্তাহের ঔষধ নেয়া, হোমিও ঔষধের মাত্রা বাড়াতে দশবার ঝাকি দেয়া, রুটিন মেইনটেইন করা।
হজ্বের সময় ডায়েরিতে ফোন নম্বরগুলো ও ঠিকানা লিখে দেয়া।
সৌদি আরব থেকে পত্র পেয়ে যথাসময়ে উত্তর দেয়া।
হুজুরের পত্রগুলোর শিরোনাম থাকতো স্নেহের সারোয়ার ও কামাল! কত স্নেহের সম্বোধন!
কত সহস্র স্মৃতি! আল্লাহ তাআলা আমাদের ত্রুটিগুলো মাফ করুন।
আল্লাহ তাআলা হুজুরের প্রতি দয়াশীল হউন।
আমিন।
Leave a Reply