বাকের সরকার বাবর।।
সুদানের উনামিড শান্তিরক্ষা মিশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার অলুওয়াদের টেইলর পিয়ার্সের কাছ থেকে বিভিন্ন মানবিক কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ “সার্টিফিকেট অফ এপ্রিশিয়েশন” পেয়ে রেকর্ড করেছেন বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম। ২০১৯ সালে ব্যানএফপিইউ কমান্ডারের নের্তৃত্বে ২৯ জন নারী সদস্যসহ ১৪০ জন উনামিড মিশনের দারফুর প্রদেশের নিয়ালা টিম সাইটে মিশন মেন্ডেট বাস্তবায়নে নিয়োজিত থাকে। উনামিড মিশনে ১১টি এফপিইউ কমান্ডারের মধ্যে কেবল বাংলাদেশ এফপিইউ কমান্ডারকে সিওই সম্পর্কিত কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ এই এওয়ার্ড প্রদান করা হল। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ব্যানএফপিইউ নিয়ালা ক্যাম্প সফল্ভাবে সুদান সরকারের কাছে হস্তান্তর করে এল ফাশের লজিস্টিক বেজের নিরাপত্তা ও মিশন ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত হয়। এল ফাশেরে টাস্ক অর্ডারের পাশা-পাশি ক্যাম্পের অভ্যান্তরে ট্রানজিট ক্যাম্প নির্মানে বাংলাদেশ পুলিশ বিশেষ ভূমিকা রাখে, এছাড়া ক্যাম্পের অভ্যান্তরে একটি চার্চ নির্মানেও অবদান রাখে। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্যাম্পের নানা স্থানে কমান্ডারের নের্তৃত্বে কয়েকশত বৃক্ষ রোপণ করা হয়। সার্টিফিকেট এওয়ার্ড প্রদান কালে চিফ ইঞ্জিনিয়ার বলেন ২০১৯ নভেম্বর থেকে ২০২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ এফপিইউ কমান্ডারের নের্তৃত্বে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের দরুন এই সার্টিফিকেট প্রদান করা হল। এর মাধ্যমে কমান্ডারের মানবিক কাজের স্বীকৃতির পাশা-পাশি তার নিরলস প্রচেষ্টাকে সম্মানিত করা হল। তিনি আরো বলেন এই মিশনে আমার দেখা একজন কমান্ডার যার চেষ্টায় ছিল দেশকে বিশ্বের বুকে হাইলাইট করা, কাজ দিয়ে মানুষের মন জয় করা। ব্যানএফপিইউ ২০১৯-২০২১ সাল পর্যন্ত নিয়ালা টিম সাইট, এল ফাশের লজিস্টিক বেজ, কুটুম টিম সাইট সফলভাবে সুদান স্থানীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করে মিশন মেন্ডেট বাস্তবায়নে নিয়োজিত ছিল। চৌকষতার সাথে ডিউটি পালনের পাশা-পাশি কমান্ডারের নানামুখী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজগুলো বেশ প্রশংসিত হয় এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ পরিচিতি বাড়ে। কমান্ডারের প্রচেষ্টায় এল ফাশের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতার পরিচিতি করার লক্ষ্যে বই বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বৃক্ষ রোপণ করা সহ সুদান পুলিশকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান, সংশোধন কারাগারে জীবন মান উন্নয়নে বিভিন্ন আয়মূলক প্রশিক্ষন প্রদান বেশ সাড়া ফেলে। তার এই কাজের দরুন ইতোমধ্যে উনামিড পুলিশ কমিশনার কর্তৃক এর আগে ৯ বার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ কমান্ডারের স্বীকৃতি লাভ করেন। ব্যানএফপিইউ কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম এই সার্টিফিকেট প্রদানে চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন আমাদের মিশন তিন মাসের মধ্যে রিপার্টেশন হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কাজ দেখিয়ে আমাদের টিকে থাকতে হয় এবং আমরাই একমাত্র ইউনিট যারা ২৩ মাস মিশনে থেকে মিশন সম্মানের সাথে সমাপ্ত করতে পেরেছি। কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন মিশনে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্বের বুকে পরিচিতি করার উদ্দেশ্যে নানামূখী কর্মসূচী পরিচালনা করি এবং নানা স্থাপনা তৈরি করি। আমার এই কাজ গুলো সুদানসহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং বাংলাদেশের ভাব-মূর্তী উজ্জ্বল হয়। তিনি বলেন সুদানের নিয়ালা ও এল ফাশেরে মিশন ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের পাশা-পাশি কোভিড নিয়ন্ত্রনে প্রচুর মাস্ক, পিপিই, হেন্ড স্যানিটাইজার বিতরণ ও স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, লজিস্টিক বেজে ক্যাম্পেইন করা, হাসপাতালে সরঞ্জাম বিতরণ সহ ক্যাম্পে নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকেন। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ বিভিন্ন শাখা প্রধান হতে সর্বমোট ৩০ এর অধিক সার্টিফিকেট লাভ করেন। কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুল হালিম আরো বলেন এই মিশনে আমি বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ পুলিশকে পরিচিতি করতেই নানা ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করি। জাতির পিতার বাংলাদেশ সুদানে অবস্থানরত সকল বিদেশীদের মুখে মুখে, বাংলাদেশ পুলিশ এখানে একটি ব্র্যান্ড বলে সুপরিচিত।
Leave a Reply