পাভেল আমান।।
করোণা মহামারীর মারন সংক্রমণ কে প্রতিরোধ করতে যেভাবে প্রথম বছরে লকডাউন জারি হয়েছিল মনুষ্য জীবনকে বাঁচানোর জন্য। তখন থেকেই গণপরিবহন সম্পূর্ণ হবে স্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় জীবন-জীবিকার স্বাভাবিকতায়, বেঁচে থাকার তাগিদে আমাদের প্রত্যেকের চলাফেরা তে নিত্যনৈমিত্তিক কার্য সম্পাদনে নিরাপদ সহজলভ্য স্থিতিশীল যান হিসেবে আবারো কাছের হয়ে উঠেছিল আমাদের সাইকেল। দ্বিতীয় সংক্রমণের ঢেউয়ে যেভাবে মনুষ্য জীবন বিপর্যস্ত, বিধ্বস্ত, শঙ্কিত পাশাপাশি মৃত্যু মিছিল দীর্ঘ লাইন সেই প্রেক্ষাপটেই আবারো সংক্রমণের শৃংখল ভাঙতে শুরু হয়েছে জরুরী পরিষেবা সচল রেখে লকডাউন। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও আমাদের পরিবহন সঙ্গী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাইকেল। শুধুমাত্র শারীরিক শক্তি, ধৈর্য সংযম ছাড়া সাইকেলের ক্ষেত্রে আমাদের আর কোন খরচ নেই।রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্য জানাচ্ছে, বিশ্বের ‘সব চেয়ে পরিবেশবান্ধব’ যান সাইকেল। সে কথা মাথায় রেখেই ২০১৮ সালের ৩ জুন দিনটিকে প্রথম ‘বিশ্ব সাইকেল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।সাইকেলের বয়স ২০০ বছর হলো। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর একটা চমকপ্রদ লেভেল এই সাইকেল। মানুষের প্রথম প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন চাকা। হ্যান্ডেল, প্যাডেল, ব্রেক নিয়ে সহজ যান এই সাইকেল। সাইকেলের ডিজাইনটাই এমন যে এতে কখনোই প্রযুক্তি মানুষের ওপর চাপতে পারে ।অনেক যুদ্ধ, অনেক পাহাড়পথ পেরিয়ে আজ সাইকেল অন্যতম পরিবেষদূষণমুক্ত যান হিসেবে চিহ্নিত। সাইকেল ধনী-গরিবের যান। সহজ সাশ্রয়ী পরিবেশনির্ভর যান হিসেবে আজ সর্বজনস্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। এক কথায়, সাইকেল মানব জাতির অগ্রগতির প্রতীক। দুই শতাব্দী ধরে তার জনপ্রিয়তা। এই মুহূ্র্তে ১০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ প্রতিদিন সাইকেলে যাতায়াত করে কাজকর্ম করেন সারা বিশ্বে।আমাদের শহরে বা এই দেশেই সে অর্থে সাইকেল নিয়ে সেরকম কোনও সংস্কৃতি নেই। সাইকেলকে বরাবরই নিম্নশ্রেণির যান হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু চিনের মতো পরিবেশ দূষণে জেরবার দেশগুলিতে কিন্তু সরকারি উদ্যোগেই সাইকেলের প্রচার করা হয়। বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, জাপান, নরওয়ে, জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, ও মার্কিন মুলুকে সাইকেল অত্যন্ত জনপ্রিয়। এমনকী অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও সাইকেল চালান।তবে করোনাভাইরাস উদ্ভুত পরিস্থিতি আমাদের সাইকেলের সেই গুরুত্ব আরো একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।বর্তমান পরিস্থিতিতেই সাইকেলের গুরুত্ব অনুভূত হচ্ছে বারবার। অল্প দূরত্ব বা যে স্থানে সাইকেলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, সেই সব ক্ষেত্রে দুই চাকার যানটি ব্যবহার করতেই পারেন। একা যাওয়া যায় বলে এখানে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা সহজ। আর সাইকেল চালালে উপরি পাওনা শরীরচর্চা; সুস্থ থাকতে যার কথা বারবার বলছেন চিকিৎসকেরা।শুধু স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখাই নয়, সাইকেলের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অত্যন্ত কম। তাই ব্যবহারকারীর আর্থিক সাশ্রয়ের পক্ষেও তা খুবই উপযোগী। ছোট ছোট দূরত্বে বাসে বা অন্য কোনো মাধ্যমে যেতে দৈনন্দিন যা খরচ হয়, রোজ সাইকেলে সেই দূরত্ব গেলে দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয় হবে প্রচুর।শান্তি, সহনশীলতা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য উপযুক্ত যানবাহন হিসেবে সাইকেলকে পরিচয় করিয়েছে জাতিসংঘ। সাইকেল ব্যবহারের সুফলের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মূলত এই দিবস উদযাপন করা হয়। আসুন আমরা সবাই পরিবেশ বান্ধব যান হিসেবে এই অতিমারিতে সাইকেল কে নিত্য ব্যবহারের সফরসঙ্গী করে তুলি। এটাই হোক করোনাকালে বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনের প্রাসঙ্গিকতা ও তাৎপর্য। পৃথিবীতে বাসযোগ্য করে তুলতে, দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে, করোনা সংক্রমনের হাত থেকে মানব সমাজকে বেঁচে থাকতে পাশাপাশি যাবতীয় টুকিটাকি কাজের সম্পাদনের সাইকেলের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আমরা প্রত্যেকেই এই সংকটের সময়ে সাইকেল কি আরো বেশি নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব যিন হিসেবে নিজে চালানোর পাশাপাশি অপরকে চালাতে উৎসাহিত করে তুলি।
হরিহরপাড়া -মুর্শিদাবাদ
Leave a Reply