শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে

চেনা অচেনা

অর্পিতা ঘোষ পালিত।।

সানি আর শম্পা দুজনে একই পাড়াতে থাকে। সানি শম্পার থেকে বয়সে কিছুটা বড়। সানি অবস্থাপন্ন ঘরের ছেলে, আর শম্পা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। সানি ছোট থেকেই কলকাতার নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেছে। এখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে, ইউনিভার্সিটির পড়া ও প্রায় শেষ হয়ে এলো। আর শম্পা মফস্বল শহরের বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করেছে, এখন মফস্বল শহরেরই কলেজে পড়ে।
সানি ছুটিতে যখন বাড়ি আসত তখন শম্পাকে দেখে ওর ভালো লাগতো। শম্পা ওদের বাইরের বারান্দায় বসে দেখতো, সানি ওদের বাড়ির সামনে দিয়ে বারবার যাতায়ত করে। এই দেখাদেখি হতে হতেই ওদের দুজনের মধ্যে প্রেমে পরিণত হলো।
সানি যখন ছুটিতে বাড়ি আসতো তখন শম্পা ও সানি দুজনে মিলে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতো, নদীর পাড়ে বসে গল্প করতো। ওদের দুজনের প্রেমের ব্যাপারে শম্পার মায়ের ও কোনো আপত্তি ছিল না। কেননা সানি অবস্থাপন্ন ঘরের শিক্ষিত ছেলে, দুদিন পরেই ভালো চাকরি পাবে।
এরপর থেকে সানি শম্পাদের বাড়িতে যেতো, শম্পার ঘরে বসে দুজনে গল্প করতো।
সানির পড়া শেষ হয়ে যাবার পরে একটা ভালো কোম্পানিতে চাকরি পেলো। শম্পা ও ওর মায়ের তাই খুব আনন্দ। শম্পার কলেজে পড়া শেষ হয়ে যাবার পরেই ওদের দুজনের বিয়ে হবে। ততদিনে সানি নিজে একটু পয়সা জমিয়ে নিক।
সানি পনেরো দিন পর পর দুদিনের ছুটিতে বাড়ি আসে। বাড়িতে এসে শম্পাকে নিয়ে বিকেলে বাইকে করে ঘুরতে বেড়োয়। সেদিন ও তেমনই বেরিয়েছিল। সানি বাইক চালায় খুব জোরে। ছোট রাস্তার থেকে বড় রাস্তায় ওঠার সময় হঠাৎ একটা বোলেরোর সাথে ধাক্কা লাগলো। বাইকটা ছিটকে পরে গেল, সানি ও শম্পা দুজনেই পরে গেল। শম্পা এমনভাবে উপুর হয়ে পড়লো যে ওর ডান হাতটা ছড়ানো ছিল, বোলেরোটা সেই হাতের ওপর দিয়ে চলে গেল। রাস্তার লোকজন দৌড়ে এলো, সানির তেমন লাগেনি, কিন্তু শম্পার হাত দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে, তাড়াতাড়ি করে সানি শম্পাকে নিয়ে হাসপাতালে গেল। প্রথমে শম্পার হাতটাকে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিলো। ডাক্তার বললেন এক্সরে করতে হবে, যন্ত্রণা কমানোর ওষুধ দিলেন।
সানি শম্পাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলো। শম্পার যন্ত্রণা কমানোর ওষুধ খেয়েও যন্ত্রণা কমছে না। শম্পার মা মেয়ের এই অবস্থা দেখে নিজেই কেঁদে ফেললেন, কিছুক্ষণ পরে সানি বাড়ি চলে গেল। সেদিন সারারাত শম্পা যন্ত্রণাতে ঘুমোতে পারলো না।
পরেরদিন সকালে শম্পার বাবা আর সানি দুজনে মিলে শম্পাকে এক্সরে করাতে নিয়ে গেল। এক্সরে করিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরলো। শম্পার হাত একেবারে ফুলে গেছে।
বিকেলেই এক্সরে রিপোর্ট পেয়ে ডাক্তারের কাছে ওটা নিয়ে গেল শম্পার বাবা, ডাক্তার রিপোর্ট দেখে বললেন যে – হাতের হাড় একেবারে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে, এই হাড় কোনো মতে জোড়া লাগানো যাবে না, হাতটা সারা জীবনের মতো অকেজো হয়ে গেল। একথা শোনার পরে শম্পার মা ও শম্পা আরও কান্নাকাটি করতে লাগলো।
সানির অফিস ছিল বলে ও কলকাতায় চলে গেল। এদিকে তখনও শম্পার হাতে যন্ত্রনা কমেনি। শম্পার বাবা বললেন, যে করেই হোক উনি মেয়ের হাত ঠিক করাবেন দরকার হলে বিদেশে ও যাবেন মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে। সানি কলকাতায় যাবার পর থেকে শম্পার আর কোনোরকম খোঁজ খবর নেয়নি। শম্পা ফোন করলে ফোন তুলছে না। ম্যাসেজ পাঠালেও তার কোনো উত্তর আসছেনা।
শম্পার হাত কিছুটা ভালো হয়েছে। শম্পার বাবা ঠিক করলেন শম্পাকে চেন্নাইতে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাবেন।
এর একমাস পরে শম্পাকে ওর মা-বাবা চেন্নাইতে নিয়ে গেল, সেখানে ডাক্তার দেখিয়ে ফিরে এলো। ডাক্তার আবার তিনমাস পরে যেতে বলেছেন।
এতদিনের মধ্যে সানি কোনোরকম কিছু খোঁজ খবর নেয়নি,ও ওর বাড়িতে এসেছিল কিনা সেটাও শম্পার বাড়ির কেউ জানেনা। এর দুমাস পরে রাস্তায় শম্পার বাবার সাথে সানির দেখা, সানি কোনো কথা না বলে পাশ কাটিয়ে বাইক নিয়ে চলে গেল। সেকথা শম্পার বাবা বাড়িতে এসে বলাতে শম্পা বললো- তুমি আর সানির সাথে কোনো কথা বলবে না, ও বললেও বলবে না। আমি মানুষ চিনতে ভুল করেছিলাম, বিশাল একটা শিক্ষা পেলাম।
এর ছমাস পরে সানির বাড়ি থেকে পছন্দ করা, সানিরও পছন্দ মতো মেয়ের সাথে সানির বিয়ে হয়ে গেল, বিয়েতে খুব ধুমধাম করে অনুষ্ঠান হয়েছিল।
শম্পার হাত অনেকটা ভালো, ও আরও পড়াশোনা করে উচ্চ শিক্ষার শিক্ষিত। এখন ভালো চাকরি করছে। ও ভেবেছে… কোনোদিন বিয়ে করবেনা।
শম্পার বাবার বন্ধু একদিন ওর বাবাকে শম্পার সাথে ওর দাদার ছেলের বিয়ের প্রস্তাব দিল। বন্ধুর দাদার ছেলে সানির থেকেও ভালো উচ্চপদে চাকরি করে, শম্পাকে খুব পছন্দ। শম্পার বাবার বন্ধু ও ওর পরিবারের সকলে শম্পার আগের ঘটনা জানে, সব জেনে শুনেও শম্পাকে বিয়ে করার কথা বলেছে রাহুল।
শম্পা প্রথমে কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিল না, ওর মায়ের কান্নাকাটিতে শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে।

শম্পা আজ রাহুলকে নিয়ে খুব সুখী। ওর মনে মাঝে মাঝে অপরাধ বোধ খোঁচা দেয়, রাহুল এতো ভালো আর শম্পা অল্পবয়সে মানবতাহীন এক ছেলের প্রেমে পড়েছিল, ওকি রাহুলের মতো ছেলের যোগ্য? আজ ও সানিকে ঘৃণা করে তাইতো ও রাহুলকে নিয়ে সুখে থাকতে পারছে, আর ওর মন প্রাণ দিয়ে রাহুলকে ভালোবাসতে পেরেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD