শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে
তালেবানরা কেন দ্রুত আন্তর্জাতিক বৈধতা/গ্রহণযোগ্যতা (Legitimacy) চায়?

তালেবানরা কেন দ্রুত আন্তর্জাতিক বৈধতা/গ্রহণযোগ্যতা (Legitimacy) চায়?

–ড. মুহম্মদ ইদ্রিছ ভূইয়া

আজকের তালেবানরা যেমন ১৯৯৬ সালের তালেবান নয় তেমনি আজকের আফগানিস্তান ১৯৯৬ সালের আফগানিস্তান নয়।

তালেবানরা যতটা ধারনা করেছিল তার চেয়ে অনেক সহজেই দেশটি দখল করতে সক্ষম হয়েছে, ১৯৯৬ সালের তুলনায়। তাই ভাবনায় ফেলেছে দেশ দখল যতটা সহজ পরিচালনা ততটা সহজ নয়।

১৯৯৬ সালে আফগানিস্তান গৃহযুদ্ধে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, রাস্তাঘাট আর শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অচল ছিল বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে চারটি পৃথক মুদ্রা সমান্তরালভাবে প্রচলন করেছিল। উল্লেখযোগ্য কোন নির্দিষ্ট বিনিয়োগ দেশের কোথাও ছিল না। অর্থনীতি মূলত চোরাচালানকারী এবং ছিনতাইকারীদের দ্বারা পরিচালিত হতো।
তারা যে আফগানিস্তানকে আজ এত সহজে দখল করেছে, সেই আফগানিস্তানের ৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে, সবগুলোই দেশের বাইরের দেশে আছে। পাবলিক-সেক্টর এন্টারপ্রাইজ, একটি কার্যকরী কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আর্থিক ব্যবস্থায় ব্যপক অর্থ সরবরাহ আছে।
প্রধান প্রাদেশিক শহরগুলিকে সংযুক্ত করে ২,০০০ কিলোমিটার সর্বাধুনিক রাস্তা আছে। চারটি দূরপাল্লার ট্রান্সমিশন লাইন আছে যার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং ইরানের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে। হাজার হাজার স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এককোটি শিক্ষার্থী আছে। দুর্ভাগ্য
মার্কিন-প্রতিষ্ঠিত আফগান সরকার দুর্নীতি এবং প্রতিষ্ঠান তৈরিতে অক্ষম ছিল, কিন্তু এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও, ১৯৯৬ সালের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরী এবং উন্নত।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে, মুজাহিদরা আরও বলেছে এটা স্পষ্ট করে বলেছে, তারা আমেরিকানদের নির্মিত একটি দেশের অবকাঠামো ধংস করে ফেলতে চান না। “আমরা একটি আধুনিক অর্থনীতি চাই”। এবং দেশ ছেড়ে পালাতে চাওয়া আফগানদের দেশে থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, ‘আপনার প্রতিভা আমাদের দরকার ‘। তালেবানরা আর ব্যর্থ হতে চায় না এবং আফগানিস্তানকে আবার দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষে নামতে চায় না৷ তারা অনুভব করছে, দেশ চালানোর জন্য তাদের প্রয়োজন হবে প্রকৌশলী, ডাক্তার, শিক্ষক, প্রশাসক এবং আমলাদের।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, কাবুলে পতনের সাথে সাথে, তালেবানরা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয়ে গিয়েছিল, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কোন কোন ভল্টে রাখা হয়েছে তা জানতে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরের বেসমেন্টের ভল্টে রিজার্ভ নগদে রাখা হয় নাই এগুলি বেশিরভাগই নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাথে বিভিন্ন ফর্মে রাখা হয়েছে এবং বাই ডেন প্রশাসন আপাতত লেনদেন বন্ধ রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে বুধবার একের পর এক টুইট করে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হয়েছিল।

তারা জানতে পারে যে নতুন রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি যা এখন দাতা দেশগুলি পূরণ করে থাকে। তারা এই সাহায্য প্রবাহ স্থগিত করার ঘোষণা দিচ্ছে একে একে। এই অর্থ ছাড়া তারা সরকারি বেতন দিতে পাররে না, বিশেষ করে আফগান জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর Afghan National Defence and Security Forces (ANDSF) বেতন দিতে পারবে না।

তারা বুঝতে পারছে, যে একটি কার্যকরী আর্থিক ব্যবস্থা ছাড়া, একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়া, এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়া, তারা তাদের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের মুলা প্রদান করতে পারবে না। অতএব দেশটির বিশাল দেনা পরিশোধ বাধ্যবাধকতা আছে। ২০২১ এর জন্য প্রোগ্রামড দাতা সহায়তায় $ ৭ বিলিয়ন ডলারের যা পরিশোধের নীতি মালা donors funding lines চালু করতে হবে অতি দ্রুত । এই কারণেই তালেবানরা আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জন করতে এত আগ্রহী। সমস্ত প্রাদেশিক রাজধানী নিয়ন্ত্রণ করার সত্ত্বেও, তারা এখনও তাদের আমিরাতকে আফগানিস্তানে সরকার হিসেবে ঘোষণা করেনি এবং প্রাক্তন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, দোহায় অবস্থিত উচ্চ শান্তি পরিষদ। আন্তর্জাতিক বৈধতা ছাড়া তারা রিজার্ভ ‘আনলক’ করতে পারবে না বা দাতা সংস্থার ফান্ডিং লাইন পুনরায় সক্রিয় করতে পারবে না। এগুলি বাদ দিলে চোরাচালানীদের থেকে কর আদায়ের পদ্ধতিতে আগের মডেলে ফিরে যেতে হবে। কিন্তু সেই মডেল তাদের সেই কাবুলকে আজকের মত আধুনিক সহর রাখতে পারবে না।

‌ ANDSF বা নিরাপত্তা বাহিনী ৩০০,০০০ পুরুষ নিয়ে গঠিত। যা তালেবানদের নিজস্ব বাহিনীর প্রায় সমান। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে সকলে মিলে চলবে। আর্থিক সংকুলান না হলে এই বাহিনী কিভাবে সমন্বয় করবে এর সহজ সমীকরণ নাই ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD