শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে
তুমি জানতে চেয়েছো তাই

তুমি জানতে চেয়েছো তাই

আফরিনা পারভীন।।

জয়ন্ত, তুমি জানতে চেয়েছো তাই বলছি।
জানো, না বলা কথা গুলো সাজিয়ে রেখেছিলাম
তোমাকে বলবো বলে।
এক সময়,আমরা অনেক গরীব ছিলাম।
কখনো এক জোড়া জুতো মেলেনি পায়ে।
যখন খালি পায়ে প্রাইমারী স্কুলে যেতাম,
হা করে তাকিয়ে থাকতো বখাটেরা।
আমার অভাবী পোষাকের অবস্থা দেখে
তাদের ভাষা হারিয়ে যেত।
কখনো বাৎসরিক ফি গুলো দিয়েছি কিনা
মনে পড়েনা।
এ সব নিয়ে স্যার বেশ কড়া দু’কথা-
শুনিয়ে দিতেন মাঝে মাঝে।

কত জনার কত্ত রকম বাহারি টিফিন,
কখনো কখনো জিভে জল এসে যেত।
বান্ধবীদের ভীড় পড়ে যেত-
টিফিনের আয়োজনে।
আমার টিফিন আনা হয়নি কখনো।
টিফিন ঘন্টা পড়লেই ক্লাস রুম থেকে-
বের হয়ে যেতাম মাঠের পাশে পুকুর ঘাটে।
একা বসে কত অগোছালো কবিতাই না
মনে পড়ে যেত।
সে সব কবিতারা কখনো প্রাণ ফিরে পায়নি।

জানো জয়ন্ত,
সেই যে নিঃসঙ্গতা পিছু ছাড়েনি আজো।
আমি যখন হাইস্কুলে পা রেখেছি,
তখনও আমার পা জুতো পড়তে শেখেনি।
বান্ধবীরা বড় বেশী হেলা করতো আমায়।
ওদের হৈ চৈ আনন্দ দেখে,
অনেক কষ্ট হতো আমার।
ওড়নার কোণায় কত যে লুকানো অশ্রু মুছেছি
তার শেষ নেই।
পরনের ছেঁড়া জামাটা সেলাইয়ে ভরা।
নতুন জামা পড়েছি কবে মনে-ই নেই।
বড় আপুর ছোট বেলার স্কুল জামাটা
জুটেছিল আমার কপালে।
মা বলতেন,
“মা-রে স্কুল থেকে ফিরে জামাটা রোদে-
শুকিয়ে গুছিয়ে রাখিস টিকবে অনেক দিন”।
মা শিখিয়ে দিতেন জামা টেক সইয়ের-
আরো কত রীতি কৌশল।

জানো জয়ন্ত,
বান্ধবীদের সাথে মিল হতো না কখনো।
ওদের পরনে নতুন নতুন জামা, নতুন জুতো,
ক্লিপ, ফিতে।
ওদের সামনে আমি কতই না বেমানান।
কত রকমারি খেলাধুলোয় মেতেছে সবাই,
আমি ঠাঁই দাড়িয়ে দেখতাম সে-সব।
একবার স্কুলের বাৎসরিক অনুষ্ঠান আয়োজনে
একটা কবিতা দেবো বলে কতই না ঘুরেছি
চারুকারু ম্যাডামের পিছু পিছু।
ম্যাডাম একবার ও তাকাতেন না আমার দিকে।
ভাইয়ার কাছ থেকে শিখে নিয়েছিলাম দেশের গান,
অনুষ্ঠানে গাইবো বলে।
ভাইয়া বলতো,
“দেখিস্ এবার তোকেই দেবে প্রথম পুরস্কারটা”।
সে গান আমার আজো গাওয়া হয়নি জয়ন্ত,
সে গান আমার মনের মাঝে এখনো সুর তোলে!
“জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো”।

জানো জয়ন্ত,
পড়াশুনায় তেমন ভালো ছিলাম না,
তাই বসতে হতো একদম পেছনের বেঞ্চে।
সময় না থাকলে কনো পড়া-ই ধরতেন না-
স্যার আমাকে।
আমি নিজেকে লুকিয়ে রাখতাম শত মেয়েদের আড়ালে।
জুতো বিহীন পায়ে পার হলো কত যে সময় হিসেব নেই।
অভাবের তাড়নায় খুব ছোট বেলায় বিয়ের পিঁড়িতে পা রাখতে হলো এক বখাটে মাতালের সাথে।
সে জানতো না শিষ্টাচার,জানতো না ভদ্রতা,
জানতো না লোকাচার।
তার ভিঁটে টুকু ও ছিলনা বলে বাবা তাকে-
সস্তা ঘরজামাই রেখে কনে বিদায়ের খরচ বাঁচিয়েছিলেন, তাই তার যত ক্ষোভ।
মাংসের গন্ধে ভালোবাসা শেখা-ই হয়নি তার।
রক্ত চোষার মতো সে চুষে নিয়েছে আমার তারণ্য টুকুও।
আস্তে আস্তে তার দৃষ্টি চলে যায় অন্য কোথাও,
অন্য কারো তারণ্য হরণে।

জানো জয়ন্ত,
জীবনে প্রথম যাকে ভালোবেসেছি সে ও বড় কাঙাল,
বার বার সে আসতো আমার কাছে একটু সময়-
ভিক্ষা চাইতে।
কখনো পেতো কখনো বা পেতোনা।
অনেক কিছুই শিখিয়েছে সে আমাকে,
ভালোবাসা কারে বলে, ভালোবাসার কত রঙ,
আরো কত্ত কিছু।
এক সময় ভালোবাসার আড়ালে যৌনতা প্রাধান্য পায় তার।
সেটা কখনো চাইনি বলেই আজ দু’জন দু’দিকে।
তার পর কত সৃষ্টি, কত অনাসৃষ্টি, কত ধ্বংস
একে একে পার হলো,
কোনোটা মনে আছে আবার কোনোটা মনে-ই নেই।
সেই যে একাকিত্বতা, আজকে সে-ই আমার সঙ্গী।
উত্থান পতন দেখেছি প্রতিনিয়ত।
তবুও উত্থান তবু ও পতন তবু ও একা পথ চেয়ে থাকা।

কবিতার জন্মঃ ০৯/১০/২০১৪ ।
প্রকাশ কালঃ একুশে বইমেলা ২০১৫

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD