বাকের সরকার বাবর।।
২০১৫ সালে বান্দরবানে চালু হওয়া ট্যুরিস্ট পুলিশ ইউনিট ট্যুরিজম উন্নয়নে নানা ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সম্প্রতি যোগদান করা ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নানামূখী কার্যক্রম বান্দরবানে ট্যুরিস্টদের মনে জাগাচ্ছে স্বস্তি ও উদ্দীপনা। বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের মধ্যে একটি হচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়া ও পর্যটন শিল্প বিকাশে গঠিত বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘ট্যুরিস্ট পুলিশ’।
এদিকে প্রতিবছর বান্দরবানে লাখ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটলেও শুধু যোগাযোগ-যাতায়াত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও পর্যটনবান্ধব পরিবেশের ঘাটতি থাকায় পর্যটকেরা পদে পদে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন, যা সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এই বান্দরবানে প্রতিটি পাহাড়ের ভাঁজেই রয়েছে পর্যটনের মনোমুগ্ধকর স্পট। রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান। রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া। অথচ সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া নিয়ে রয়েছে নানা মতভেদ। এই মতভেদ দূর করতেই ট্যুরিস্ট পুলিশের উদ্যোগ।
আজ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ পর্বত বা পাহাড় শৃঙ্গ বা ঝর্ণা নির্ণয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। যদিও কোন কোন ট্রেকিং গ্রুপ নির্ণয় করলেও তা উপযুক্ত তথ্যের অভাবে প্রকাশ হয় না। আর এই কাজটিকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করে ভ্রমণ পিপাসুদের আগ্রহ বাড়াতে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান ইউনিটের পুলিশ সুপার নিয়েছে কর্মসূচি।
প্রাথমিকভাবে এই শীত মৌসুমে ১০টি সর্বোচ্চ পাহাড়কে টার্গেট ধরে মাঠে নামছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি উদ্বোধন করলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান রিজিয়ন কর্তৃক দেশের সর্বোচ্চ ১০টি পর্বত শৃঙ্গ ও ১০টি বৃহৎ ঝর্ণা নির্ণয় কর্মসূচী।
এ সময় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৈ শৈ হ্লা, সদস্য লক্ষীপদ দাশ,মোজাম্মেল হক বাহাদুর, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি, সেক্রেটারিসহ সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার বলেন এই শীত মৌসুমে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পাহাড় শৃঙ্গ নির্ণয় করার পর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তা মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পাশ করে গেজেট করা হবে।
Leave a Reply