নিউজ ডেস্ক।।
২০ জুলাই রোবাবর বিকাল ৫ টায় কুয়াকাটা খান প্যালেস অডিটোরিয়ামে গ্লোবাল এভিয়েশন এন্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের উদ্যোগে “পর্যটন শিল্পের বিকাশে কুয়াকাটার সম্ভাবনা” শীর্ষক এক সেমিনার, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও ট্যুরিজম আইকনিক অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের মহসচিব সালাম মাহমুদ সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির অনুপস্থিতে প্রধান আলোচক ছিলেন দক্ষিণ বাংলার গুণী রাজনীতিবিদ এ বি এম মোশাররফ হোসেন( প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি-জাতীয় নির্বাহী কমিটি)। আরো উপস্থিত ছিলেন একুশে পদক বিজয়ী বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী,ফেরদৌস আরা, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনর সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, গ্লোবাল এভিয়েশন এন্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সহসভাপতি জামিউর রহমান লেমন । মঞ্চে এ সময় এসোসিয়েনের কর্মকতা বিশিষ্ট সাংবাদিক হাফিজ রহমান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গুণীজনদের মধ্যে ‘ট্যুরিজম আইকনিক অ্যাওয়ার্ড–২০২৫” অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। বিশ্বসাহিত্যে বিজ্ঞান কবিতা আন্দোলনের সূত্রপাত, কবিতাবিজ্ঞানের উপস্থাপন এবং জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া,সিঙ্গাপুরপুর,থাইল্যান্ড, নেপাল,ভারত মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশে বিজ্ঞান কবিতা নিয়ে একাধিক বার ভ্রমণের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত কবিতাবিজ্ঞানী, সাংবাদিক, গবেষক, ক্যারম ফেডারেশনের স্পোর্টস আম্পায়ার, লোকসাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক মহাত্মা হাসনাইন সাজ্জাদীকে গ্লোবাল এভিয়েশন অ্যান্ড টুরিজম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (গাটজা)
ট্যুরিজম আইকনিক এওয়ার্ড প্রদান করে।
হাসনাইন সাজ্জাদী এর আগে কেএসপি সাংস্কৃতিক জোট থেকে উপরোক্ত অবদানের জন্য “শেরে বাংলা আইকনিক লাইফ টাইম এচিভমেন্টএওয়ার্ড ২০২৫” লাভ করেছেন। বাংলাদেশ ও ভারত থেকে তিনি বিজ্ঞান কবিতা, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় ৫০টির অধিক সম্মাননা লাভ করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী শান্তি পদক, মাদাম তেরেসা সেবা পদক, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এওয়ার্ড, কবি নজরুল সাহিত্যপদক, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক নেতৃত্ব পদক, জাগরণী নৃত্যকলা পদক, বাসাসপ পদক, আমরা কুঁড়ি শিশুকিশোর পদক, জীবনানন্দ সাহিত্য পদক অন্যতম।
তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় জানান “এই সম্মাননাগুলো আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। আমি চাই আমার লেখার মাধ্যমে জাতিকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে। একই সঙ্গে আমি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চাই”
হাসনাইন সাজ্জাদীর ৪৮ টি গ্রন্থের লেখক। তাঁর আলোচিত বইসমূহ- বিজ্ঞান কবিতার রূপরেখা, ছোটোদের বিজ্ঞানবাদ, বিজ্ঞানবাদের কাব্যতত্ত্ব, কবিতাবিজ্ঞান, কবিতায় বিজ্ঞান অ-বিজ্ঞান, বিজ্ঞানধর্ম মননে অন্বেষণে, বিজ্ঞান কবিতার রোমান্টিকতা ও বিবিধ, বিজ্ঞান যুগের সাংবাদিকতা, জাপানে বঙ্গবিদ্যা ও বাংলাদেশের বিজ্ঞান কবিতা, হে স্বপ্ন হে বিজ্ঞান কবিতা, প্রেম একমুঠো নীল, একশ কোটি তেজস্ক্রিয়তা, সময় বদলে গেছে, এখানে একদিন, ভালোবাসার বড়ো কিছু, ভালোবাসার হার্ডডিস্ক, সিলেটের লোকসাহিত্যে ব্যাক্তিমানস ও সমাজ, ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্তদিবস, আকাশ জুড়ে বঙ্গবন্ধু, মুজিব বর্ষের ছড়া, রোবটের গল্প, ভিন গ্রহের এলিয়েন, আবিষ্কার যখন মজার গল্প, বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানী, বিজ্ঞান কাব্যতত্ত্ব ও সাবলীল ছন্দ, জাপান ভ্রমণলিপি, মহাবিশ্বের মহাবিস্ময়, আমাদের পৃথিবী, চলো চাঁদে যাই, রহস্যেভরা সমুদ্র তল, প্রকৃতি ও পরিবেশ, ছন্দ ছড়ায় বর্ণমালা, পাশের বাড়ির সেই রোবট, যত এডভেঞ্চার, মৃত্যুর কোনো স্বাদ নেই, চোখগুলো একদিন বাড়িতে নিয়ে যাবো শোকেসে তুলে, কমলা রঙের রোদ, সাংবাদিকতার অ আ ক খ, সহজ সাংবাদিকতা কেমন করে -প্রভৃতি।
ছোটদের বিজ্ঞানবাদ – বিজ্ঞানের রাষ্ট্রতত্ত্বের ধারণাকে শিশুদের জন্য সহজ করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
চলো চাঁদে যাই- গ্রন্থ কল্পবিজ্ঞান ও মহাকাশভিত্তিক ভ্রমণ কাহিনি, রহস্যে ভরা সমুদ্রতল- সাগরের নিচের বৈজ্ঞানিক রহস্য তুলে ধরা হয়ে।ভিনগ্রহের এলিয়েন-কল্পিত এলিয়েন ও মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে লেখা শিশুতোষ গ্রন্থ। বিজ্ঞান যুগের সাংবাদিকতা – গণমাধ্যমে বিজ্ঞানের ব্যবহার ও ভূমিকা আদর্শ সাংবাদিকতা নিয়ে লেখা গ্রন্থ। বিজ্ঞানবাদের কাব্যতত্ত্ব – বিজ্ঞান ও কবিতার মেলবন্ধন নিয়ে লেখা।
আবিষ্কার যখন মজার গল্প – গ্রন্থ বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার নিয়ে লেখা। পৃথিবী বদলে দেয়া যত আবিষ্কার – শিশুতোষ বিজ্ঞান গ্রন্থ। বিজ্ঞানকাব্যতত্ত্ব ও সাবলীল ছন্দ – গ্রন্থ বিশ্বসাহিত্যের জন্য প্রাগ্রসর কাব্যতত্ত্ব।
তাঁর সবগুলো বই পাওয়া যাচ্ছে: rokomari.com/Hasnain Sajjadi সাইটে। ভারত থেকে প্রকাশিত গ্রন্থগুলো পাওয়া যায় আমাজন. কম-।
তাঁকে নিয়ে লেখা গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে গিয়াসউদ্দিন চাষার লেখা ‘ পাশ্চাত্য সাহিত্যতত্ত্বের আলোকে হাসনাইন সাজ্জাদীর বিজ্ঞান কাব্যতত্ত্ব, লোকমান হোসেন পলার লেখা ‘ হাসনাইন সাজ্জাদীর বিজ্ঞান কাব্যরীতি, সাহিত্যতত্ত্বের বিচারে হাসনাইন সাজ্জাদীর বিজ্ঞানকাব্য ও সম্পাদিত গ্রন্থ ‘ বাংলা সাহিত্যের প্রধান বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদীর ৬০ তম জন্মোৎসব স্মারক’। তিনি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের আমির মঞ্জিলে জন্ম নেন। তার দাদা লোকসাহিত্যিক, লোকসংগীত শিল্পী ও ভাষা সংগ্রামী আমির সাধু। বাবা আধ্যাত্মিক সাধক সুফী কারী মো. সাজ্জাদ আলী। তিনি বাংলা সাহিত্যে বিএ অনার্স সহ এম এ ডিগ্রিধারী।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য: হাসনাইন সাজ্জাদী কবিতা ও বিজ্ঞানকে একসঙ্গে উপস্থাপন করে কবিতার বাককে বিজ্ঞানমুখী করেছেন। তিনি বিশ্বসাহিত্যের এক বিরল লেখক।
বিজ্ঞানবাদ ও বিজ্ঞানকাব্যতত্ত্বের জনক হিসেবে তিনি জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্ট্যাডিজে থিয়োরি উপস্থাপন করেছেন। তাঁর বিজ্ঞান কবিতার থিয়োরি দিয়ে উত্তর আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনা রাজ্যের ইভেন্ট হরাইজন ম্যাগাজিন ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে ৫০০ ডলারের বিজ্ঞান কবিতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। ২ এপ্রিল ২০১৮ অনলাইন সংখ্যা নিউজ উইক ম্যাগাজিন বিজ্ঞান কবিতা সংখ্যা প্রকাশ করে।
বিজ্ঞান সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হাসনাইন সাজ্জাদীর জীবনের লক্ষ্য।
জাতীয় কবিতা পরিষদের তিনি দপ্তর সম্পাদক এবং বিজ্ঞানবাদ চর্চাকেন্দ্রের তিনি সভাপতি। এছাড়াও সাইন্টিজম পোয়েট্রি ইনস্টিটিউটের তিনি প্রতিষ্ঠাতা এবং বিজ্ঞান কবিতা আন্দোলনের সভাপতি। ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ফর রুরাল পিপল নামে একটি সেবামূলক ও বাংলাদেশ সরকারের সমাজ সেবা অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত সংস্থার তিনি চেয়ারম্যান এবং আমির সাধু অপেরার যাত্রা নির্দেশক ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি টেলিভিশন জার্নালিস্ট একাধিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। বিশ্ববাঙালি সংসদের প্রধান উপদেষ্টা সহ অসংখ্য সংগঠনের তিনি উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক।
Leave a Reply