শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে
বিশ্ব কবিতা দিবসের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা।

বিশ্ব কবিতা দিবসের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা।

পাভেল আমান।।
শব্দকে প্রচণ্ড ভালোবেসে, অনুভূতির ফল্গু ধারাকে উজ্জীবিত করে, বেঁচে থাকার সজীবতাকে আবারো উদ্বুদ্ধ করে, মননের সুষ্ঠু অনিন্দ্য সুন্দর ভাবনা গুলোকে সৃষ্টিশীলতার ভাষায় প্রকাশ করা হয় তখনই বাঙময় হয়ে ওঠে সাহিত্যের একটি অনন্য ধারা কবিতা। কত দুঃখ বেদনা চাপান উতোর সুপ্ত চেতনা নান্দনিক অনুভব স্মৃতির কোলাজ আগামীর সৃষ্টিশীল উপাখ্যান তন্ময় হয়ে ওঠে শব্দের বুননে কবিতার ভাষায়। আবিশ্ব ভাব জগতের বাসিন্দারা শব্দ পাগল মানুষেরা বিবেক চেতনা উদ্বুদ্ধকারী সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভেসে যাওয়া শব্দ প্রেমিকেরা নিশিযাপন করছে কবিতাকে ভালোবেসে। প্রতিটা মুহূর্তই জুড়ে দিয়েছে ভালোবাসার ভালোলাগার শব্দের বাঁধনে জীবনযাপনের পড়তে পড়ত লেগে গিয়েছে কবিতার প্রতি এক চরম বাসনা অনুরাগ সর্বোপরি একাত্ম হওয়ার আরাধনা। এভাবেই কবিতা যেন প্রতিটি পাঠকের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে এক বিস্তৃত মহীরুহ হিসাবে। পথিক যেমন ক্লান্ত বিধ্বস্ত শরীরে একটু আশ্রয়ের খোঁজ করে ঠিক তেমনি পাঠকেরাও কবিতাকে পাঠ করে মনেপ্রাণে আঁকড়ে ধরে প্রচণ্ড ভালোবেসে সঁপে দিয়েছে কবিতার প্রতি জীবনের বেঁচে থাকা। এখানেই কবিতার গুরুত্ব মাহাত্ম্য প্রাসঙ্গিকতা ও চিরায়ত তাৎপর্য। কত বরেণ্য বিখ্যাত প্রথিতযশা প্রবাদপ্রতিম স্মরণীয় কবিরা অমর হয়ে আছেন তাদের সৃষ্টিশীল শব্দের উৎকৃষ্ট ফসল কবিতার মধ্যে দিয়ে।কবিতা হচ্ছে সাহিত্যের প্রাচীনতম একটি শাখা। কবিতা মানব মনের অনবদ্য ধ্যান ও মননের বহিঃপ্রকাশ; ভাবনার অনুরণন থেকে বেড়ে ওঠা পঙক্তিমালাই কবিতা। কবিতা ভাবপ্রকাশের ভাষা, প্রগাঢ় বোধের নান্দনিক প্রতিচ্ছবি। কবিতা অধিকারের ভাষা, প্রতিবাদের ভাষা। কবিতা হচ্ছে শব্দমাল্যের সুগভীর গাঁথুনি, হৃদয়ের অনবদ্য সুখানুভূতি। কবিতা কখনো কালের সাক্ষী, সমকালের মুখপাত্র, কখনো দগ্ধ হৃদয়ের আর্তনাদ।
বিশ্লেষকদের মতে, কবিতা প্রতিমুহূর্তে আচরণে-আবরণে, আহ্বানে নিজের অস্তিত্ব তথা বোধজাত উপলব্ধি ঠিক রেখে নিজেকে ভাঙ্গে আবার গড়ে। ১৯৯৯ সালে ২১ মার্চ তারিখটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল বিশ্বব্যাপী কবিতা পাঠ, রচনা, প্রকাশনা ও শিক্ষাকে উৎসাহিত করা। কবিতা লিখতে হলে সর্বপ্রথম যে জিনিসটি প্রয়োজন তা হল কবিতার প্রতি অগাধ ভালবাসা ও শ্রদ্ধা। কোনও কিছু ভাল না বাসলে তাকে জয় করা যায় না।তার পর যে বিষয়টি আসে তা হল ভেতরকার তাগিদ। লিখতে গেলে একটা আভ্যন্তরিক তাগিদ থাকা প্রয়োজন। এই তাগিদটাই এক সময় মানুষকে দিয়ে কবিতা লিখিয়ে নেয়। তখন কবিতা না লিখলেই নয়।কবিতা লেখা শুরু করাটা খুব সহজ। কিন্তু তাকে ধরে রাখাটা ঠিক ততটাই কঠিন। আর সেই কবিতায় সাফল্য পাওয়ার জন্য দরকার একনিষ্ঠ সাধনা। নির্দ্বিধায় ব্যক্ত করা যায় না, কবিতা লেখার জন্য কোনও বাঁধাধরা নিয়ম নেই। কোনও বিশেষ অনুভূতি, কোনও বিশেষ কল্পনা যখন মনের মতো কয়েকটা কথা বা শব্দ খুঁজে পায়, তখনই বোঝা যায় যে, কবিতা আসছে ধীরলয়ে, সৃষ্টি হচ্ছে মনের ভেতরে এক ছন্দময় বা ছন্দহীন বুনন। শব্দের কারিকুরি।কবিতা আগে আসে মনে। তার পর রূপ পায় অক্ষরে। লেখায়। এই প্রসঙ্গে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের একটি বিখ্যাত উদ্ধৃতি আছে। তিনি লিখেছিলেন, Poetry takes its origin from emotions recollected in tranquility. কবিতা সম্পর্কে এক অসাধারণ ব‍্যাখ‍্যা। এটা ভাবতে ভাবতেই হয়তো কবিতা এসে নাড়া দেবে মনে। আর যখন নাড়া দেবে, তখনই লিখে ফেলতে হবে একটি কবিতা। যে ভাবে আসছে ঠিক সে ভাবেই। নির্ভয়ে, লজ্জা না করে। আনন্দে। লেখার পর ভাল না লাগলে, ছিঁড়ে ফেলো। দরকার হলে আবার লেখো। সত্যি কথা বলতে কবিতাকে ভালোবেসে কবিতার চর্চাকে আরো বেশি পাঠকদর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কবিতাকে নতুনভাবে রূপ দিতে তাৎপর্য বিশ্লেষণ কবিতাকে নিয়ে একটি দিন মেতে উঠতে বিশ্ব কবিতা দিবস গুরুত্ব অবিসংবাদিত ও অপরিসীম। আসুন আমরা সকলে সাহিত্যপ্রেমী কবিতা পিপাসুরা আরো বেশি এই দিনে কবিতাকে নিয়ে চর্চা করি কবিতাকে পাঠ করি মনেপ্রাণে এবং আমাদের প্রজন্মকে কবিতার প্রতি আরো বেশি আকৃষ্ট করে তুলি।
এভাবেই শতাব্দীকাল ব্যাপী কবিতা বেঁচে থাকবে তার সর্বজনগ্রাহ্য প্রাসঙ্গিকতা তাৎপর্যের মধ্যে দিয়ে। বিশ্ব কবিতা দিবস প্রত্যেক কবিরা সৃষ্টিশীল মানুষেরা আরো বেশি সৃষ্টির মননকে বিকশিত করে তুলুক তাদের সৃষ্টিশীলতার মধ্য দিয়ে। আমাদের মনন মেধা বুদ্ধিমত্তা বিবেক চেতনা ব্যক্তিত্ব মনুষ্যত্ব উদারতা মহানুভবতা সৃজনশীলতাকে উদ্বুদ্ধ বিকশিত আন্দোলিত উদ্বেলিত নাড়া দিতে এবং সর্বোপরি জাগ্রত করতে কবিতা পাঠের উপলব্ধি ও গুরুত্ব অপরিসীম।
শিরোনাম বিশ্ব কবিতা দিবস পালনের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা

– হরিহর পাড়া- মুর্শিদাবাদ

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD