পাভেল আমান।।
স্বাস্থ্যবিধান শরীর চর্চা সম্পর্কে আমরা এখন যথেষ্ট সচেতন। ইন্টারনেট ডিজিটাল যুগে মুহূর্তেই জেনে যাচ্ছি সুস্থতার বিভিন্ন উপায়, চিকিৎসকদের পরামর্শ। বলতে গেলে আমাদের হাতের নাগালেই সুস্থতা, বেঁচে থাকার পরিপূর্ণ রসদ। তবুও আমরা প্রতি মুহূর্তে পঙ্গপালের মতো অশুভ শক্তি আকৃষ্ট হয় নিজেদের বিপন্নতায় ফেলে দিচ্ছি। ধূমপান আমাদের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক, এই সরল কথাটা সকলেই অবগত। তবু এই অভ্যাস ছাড়তে হিমসিম খেতে হয় হাজার হাজার মানুষকে। শুধু ধূমপানের অভ্যাসই নয়, যে কোনও তামাকজাত দ্রব্যের নিয়মিত সেবনের অভ্যাসই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর!নাক, কান, গলা, মুখের মধ্যে ও জিভের ক্যানসারের সঙ্গে সঙ্গে গলা, স্বরযন্ত্র, ফুসফুস ইত্যাদি বিভিন্ন অঙ্গের ক্যানসারের অন্যতম কারণ তামাক। ধূমপান বা তামাক সেবনের ফলে গন্ধ বোধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, রক্তচাপ বৃদ্ধি ও হৃদ স্পন্দনের গতি বেড়ে যায়। এছাড়াও শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ধূমপান বা তামাক সেবনের ফলে রক্তের জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ে। শুধু তাই নয়, চোখের নানা সমস্যা-সহ অন্ধত্বের আশঙ্কা বাড়ে ধূমপান বা তামাক সেবনের ফলে। সবকিছু জানার ফলেই আমরা অহর্নিশ এগিয়ে চলেছে ধ্বংসের সম্মুখে। যেখানেই ক্রমশ হাতছানি দিচ্ছে সুন্দর জীবনের করুণ পরিণতির প্রতিচ্ছবি। একদিকে দূষণের কবলে যখন বাসযোগ্য পৃথিবী ভারসাম্যহীনতায় স্তব্ধ প্রায় ঠিক তখনই আমরা সচেতনভাবে নেশার জালে বুঁদ হয়ে এগিয়ে যাচ্ছি অসুস্থতার অভিমুখে। আমাদের কু অভ্যাস, অপরিণামদর্শিতা, হঠকারিতা, ধ্বংসাত্মক নেশাকে বৃহত্তর মানব জাতির স্বার্থে বর্জন করতে হবে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই ১৯৮৭ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম বার পালিত হয় ধূমপান বিরোধী দিবস। পরের বছরই এর পরিধি আরও কিছুটা বাড়ানো হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) ওয়ার্ল্ড হেল্থ অ্যাসেম্বলিতে একটি প্রস্তাব পাশ হয় যেখানে বলা হয় প্রতি বছর ৩১ মে পালিত হবে বিশ্ব তামাকবিরোধী দিবস। সেই থেকে প্রতি বছর আজকের দিনটি অর্থাৎ ৩১ মে বিশ্ব তামাকবিরোধী দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
তামাক জাতীয় দ্রব্যের মধ্যে শুধু সিগারেট পড়ে না। হুকো, গুটকা, খৈনি, বিড়ি, সবই পড়ে। কিন্তু এঁদের মধ্যে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে সিগারেটের কারণেই। কারণ সিগারেট সেবনকারীর সংখ্যা যে অনেক বেশি। পথ দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণের থেকে বেশি মানুষ মারা যান শুধুমাত্র সিগারেট-বিড়ির নেশার কারণে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যানটা শুনলে আঁতকে উঠবেন! প্রত্যেক বছর ৭০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় ধুমপান করে।বিশ্বে প্রতি বছরে কম করে ৮ লক্ষ মানুষ মারা যান শুধুমাত্র তামাকজাত দ্রব্য সেবন করে।এক ধূমপানমুক্ত বিশ্ব গড়তে সাহায্য করুন।তাই আসুন আমরা সবাই মিলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানব সমাজকে তামাক সেবনের হাত থেকে বাঁচাতে, রক্ষা করতে সচেতনতার বার্তা নিয়ে এগিয়ে বার্তা নিয়ে এগিয়ে আসি। করোনার মারণ সংক্রমণে যেভাবে মানুষ বিপর্যয় বিপন্নতা সম্মুখীন সেখানে জুড়ে গিয়েছে বিবিধ অসুস্থতা। এই মুহূর্তে আমাদের সংক্রমণের হাত থেকে মুক্ত হয়ে বেঁচে থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আর দেরি নয় বিশ্ব তামাক বিরোধী দিবস থেকেই আমরা প্রাণপণে শপথ নিই নিজের জীবনের পাশাপাশি বৃহত্তর মানব জীবনের স্বার্থে বর্জন করি তামাকজাত দ্রব্য। করোনাকালে আমরা সবাই শপথ নিই সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি নেশা মুক্ত সুস্থ বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার।
পাভেল আমান- হরিহর পাড়া -মুর্শিদাবাদ
Leave a Reply