শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে
সেই পাহাড়ী জোৎস্না

সেই পাহাড়ী জোৎস্না

মাহবুবা হোসাইন।।
চাঁদের সৌন্দর্য দেখেছি অনেক।বারবার আপ্লুত হয়েছি। তবে একবার চাঁদ দেখা যে অপার্থিব অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা ভুলবার নয়।

তখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ি। আমার ছোট দুই বোন তখন মেডিকেল এবং বুয়েটে পড়ে।আমার মেঝ ভাই (জামিল ভাই) তখন সদ্য মেজিস্ট্রেট হয়ে নইক্ষ্যং ছড়িতে পোষ্টেড।আমরা তিন বোন সিদ্ধান্ত নিলাম জামিল ভাইকে সারপ্রাইজ দিব। রাতের বেলাই ক্ষ্যংছড়িতে গিয়ে উপস্থিত হব।সত্যি তাই করলাম। আমরা তিনজন সমবয়সি এক ভাগ্নী, আর বুয়েটে পড়া ফুফাত ভাই।

আমরা যখন রামুতে এসে বাস থেকে নামলাম তখন রাত নয়টা।চাঁদের গাড়ীতে যেতে হবে মাইল পাঁচেক, তারপর আরো দুই তিন মাইল হাঁটা। দড়িটানা নৌকায় পেরুতে হবে পাহাড়ী ঝিড়ি নদী। আকাশে পূর্ণ চাঁদ।হেডলাইটহীন চাঁদের গাড়ীতে মাথার উপরের রড ধরে দাঁড়িয়ে আছি।সহযাত্রীরা পাহাড়ী শ্রমিক। পাহাড়ীপথ, পাহাড়ী অন্ধকার, মনলোভা বাতাস, চাঁদের আলো। মাখামাখি।চাঁদের গাড়ী চলছে।চারিদিকে অপার্থীব সৌন্দর্য।আমরা উড়ছি। যেন উড়ছি।আমাদের সাথে উড়ছে যেন পাহাড়ী পরীরা।

চাঁদের গাড়ী নামিয়ে দিল একটা নির্জন জায়গায়।মিটিমিটি জ্বলছে কয়েকটা দোকানপাট। তারপর আমাদের পদযাত্রা।পাহাড়ীপথ।পাহাড় আর জঙ্গল।জনমানবশূন্য। আলো বলতে শুধু চাঁদের আলো।চারিদিকে তখন শান্তিবাহিনীর উপদ্রপ।গা ছমছম অবস্থ।মনে হচ্ছে চোখমুখ বাঁধা একদল শান্তিবাহিনী নেমে এসে আমাদের পাহাড়ের ভিতর নিয়ে যাবে।তবু তিনজন নারী একজন পুরুষ চলছি একজোট হয়ে গুটিগুটি।দূরে দূরে কছু মিটমিটে আলো।ঐ আলোর সাথে ভেসে আসে পাহাড়ী মিষ্টি বাঁশির সুর।রাস্তা নির্মানকারী শ্রমিকদের ঝুপড়ির আলো আর বাঁশীর সুর।অপার্থিব ভাল লাগা।ভয় আনন্দ শিহরন।

তারপর পেলাম পাহাড়ী নদী। সাদা বালী আর ছোটছোট নীলতরঙ্গ দুধসাদা চাঁদের আলোয় চিকচিক করছে।মুগ্ধ হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকতে হয়।নদীর এপার উপার দড়ি দিয়ে একটা নৌকা বাঁধা।কোন মাঝি নেই। নিয়ম হল একজন দড়ি টানবে নৌকা দড়ি ধরে ওপার গিয়ে থামবে।আবার ওপারে দড়ি টানবে নৌক এপার আসবে।লোকাল ব্যবস্থা। মন্দ না মাঝি না থাকলেও চলে। একলা চলা বোধ হয় পাহাড়ী নিয়ম নয়। অনেকে এক সাথে এভাবেই নদী পার হয়। অত রাতে কোথাও কেউ নেই। অনেক কসরত করে নিয়মটা শিখে নদী পার হলাম। তারপর আবার হাটা।

মেজিস্ট্রেট সাহেবের বাংলোয় গিয়ে দেখি উনি গভীর ঘুমে।কয়টা বাজে কে জানে।অনেক ডাকাডাকির পর আমাদের দেখে ভুত দেখার মত চমকে উঠলেন। ধাতস্থ হওয়ার পর কি করবেন না করবেন বুঝে পাননা। নতুন মেজিস্ট্রেট কিনা সরগর জানার তখনও অনেক বাকি অনেক কষ্টে কেয়ার টেকারকে খোঁজে এই রাতেই ডিমের ঝোল আর ভাত করালেন।রাত আড়ইটায় ডিমের ঝোল আর গরম ভাত অমৃত এখনও মুখে লেগে আছে।

পর দিন জামিল ভাই বললেন আজ রাতে তোদের একটা জিনিস দেখাব।আমরা এক্সাইটেড কি দেখাব, কি দেখব? রাত আটটার দিকে সবাইকে একটা করে বাঁশের লঠি ধরিয়ে দিলেন।লাঠি হাতে আমারা চললাম।পাহাড়ী রাস্তা খাড়াই।বাঁশের লাঠিতে ভর দিয়ে উপরে উঠছি।মাথার উপর পূর্ণচাঁদ।চাদের আলো চুঁইয়েচুঁইয়ে পড়ছে।দুই দিকে গভীর খাদ।খাদ থেকে উঠে আসা বাঁশঝাড়।পাতার ফাঁকেফাঁকে চাঁদের আলোর উল্কি আমরা চলছি চাঁদের আলোর পথ ধরে চাঁদের সাথে সাথে।কানে স্তব্ধ নিরবতা শুধু আমাদের পায়ের শব্দ আর খুব নীচ থেকে উঠে আসা ঝিঝির ডাক। এক সময় পাহাড় চূড়ায়।

কি করে এই সৌন্দর্য্যের বনর্ণা করি।শুধু আলো আর আলোর বন্যা।সূক্ষ সূক্ষ নরম নীল আলোর বৃষ্টি আকাশ থেকে নেমে এসে জড়াজড়ি করে নাচছে যেন বা ব্যালেরিনা।পাহাড়ী কেয়ারটেকার মংপা কখন বাঁশী বাজাতে শুরু করেছে।আলো, আঁধার, সুর, পাহাড়, স্তব্ধতা, সব মিলেমিশে একাকার। সে এক অপার্থিব সৌন্দর্য আমরা ও যেন তাদেরই একটা অংশ, স্তব্ধ হয়ে হাত পা কান চোখ মুখ দিয়ে সেই সৌন্দর্য শুষে নিতে লাগলাম।সেই অনুভুতি বর্ননার অতীত।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD