শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে

যে জীবন জোছনার

অরণ্য আপন

ঘুম ভাঙা মানুষের মতো জোছনা টলছে আকাশের আলের ওপর। খুব বেশি আকাশ গিলে জোছনা হয়ে গেছে আকাশের গায়ে। সেই কোন আমলে এমন জোছনার আকাশ ভরেছিলাম চোখের পেটে। জোছনা খেয়ে পেটফোলা চোখ হাপসে উঠেছিল আম্মার চোখের শিওরে। আজ জোছনা দেখিছো নাজলির বাপ? আম্মার গলাতে ধানের ছড়ার হাসি সাঁতার কাটে, হাবুডুবু খায় গলার সমুদ্রে। বাবার শরীর ভালো নয়, কলেজের হাট করে বাকি টাকা তুলতে গিয়ে বেলা ডুবে গেছিল বাবার। ঝপ করে ঠান্ডা নিয়ে রাত নামতেই বাবা লেপের তলে সান্দে পড়লে আম্মা কথা বলার মানুষ পায় না, সন্ধ্যার থিকথিকে অন্ধকার নিয়ে আম্মা একা হয়ে যান। আম্মার দুই হাতের মধ্যে আমি ঝোল পারছি ধনী মেয়েদের ছাদের ওপর দোল খাওয়া দোলনার মতো। আম্মার ঠোঁটের নিওরে আমার পায়ের অfঙুলগুলি ভিজে সপসপে হয়ে গেছে। আম্মা দুইহাতে মুখের সামনে উঁচু করে ধরলে আমার দুই পাও আম্মার থুতুনি থেকে মুখে সাফওয়া মারওয়ার মতো পাক খায়। আম্মা মুখ দিয়ে আমার পায়ের আঙুলগুলি মুখের মধ্যে টেনে নেয়। কত শত বছর হয়ে গেল তবু চোখের সামনে সেই দৃশ্য দোলে! আম্মা এইভাবে আমাকে তাঁর থুতুনির ওপর উঁচু করলে ধরলে আকাশ ছুঁয়ে দিয়েছিলাম। এই একবারই, আর পারিনি। সেই উঁচু থেকে নামতে নামতে এখন মাটিতে মিশে গেছি, আমার চোখের কাঁচা জলে ভাদগড়া বিল যৌবনে পা দিয়ে কবে বুড়ো হয়ে গেছে! সাত স্তরের কবর আমার ওপর উঠেছে আর নেমেছে তার ইয়ত্তা নেই। ইতিহাসবিদরা আমার জন্মের মধ্যে মৃত্যু খাড়া করে আবার মৃত্যুর খোপের মধ্যে জন্ম তুলে গুলিয়ে ফেলেছে। ফেরকা লেগেছে আমার জন্মদিন নিয়ে। হাটের দিনে আমার জন্ম হয়েছে সন্ধাবাড়ির মগরবের আজানের সময়। সাবগ্রামের হাট হয় শনিবার আর মঙ্গলবার। ইতিহাসবিদদের কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে এমন দঃখভরা মানুষের জন্ম মঙ্গলবারে হতে পারে না। হলে শনিবারেই জন্মের সাথে শনি নিয়ে জন্মেছে।
ওমা হামি কুন বারত হচি? মনে হয় আজকেই স্কুল থেকে ফিরে বেল ডুবার সময় আম্মার ঘাড়ে ভাত খাওয়া মুখ মুছতে মুছতে জিজ্ঞেস করেছি, ওমা হামি কুন বারত হচি? কও তো! আজ স্কুলত পুস করিছিলো।
মঙ্গলবারের হাটের দিন বাবা! সন্ধাবাড়ির মগরবের আজানের সময় তুই বিহিশতিত পরিছু। তুই হোলু যেনবোরো আর আজানও পড়ল।
তরকারি কুটতে কুটতে আম্মা মুখে কথা তোলেন। বটির ওপর থেকে চোখ সরে না। দুই পায়ের তালুর মধ্যে বটি ফেলে ঘচঘচ করে আলুবাগুন কুটছেন। মানুষটা কুমান একুনও বাড়িত ফিরল না, বাকি টেকাই বেন তুলবের গেল! ধানকাটা নতুন মাঠ, আকাশের মতো ছাপ ছাপ লাগে। মুল্লুকের চ্যাংড়াপ্যাংড়ারা ক্রিকেট খেলিচ্চে, আমি সেখানে দৌড় হাঁকালে আম্মা বলে ওঠেন, তুই আবার কুটি যাচ্চু? আমাকে চোখের আড়াল করতে আম্মার যত ভয়!
আদে এটি যাচ্চি! হামাগোরে ভিয়ের[জমির] নামাত খেলা হচ্চে! আমি ছটফট করি আম্মার সায় পাওয়ার জন্য, ছোচবোচ করে আম্মার মুখের দিকে জুলজুল করে তাকিয়ে থাকি, আম্মা আমার ভাবগতি লক্ষ করে বলেন, যা বেল ডুবলেই বাড়িত আসিস, হামার যে চিল্লানো না লাগে!
মগরবের আজান পড়েছে আর আমি বাড়িতে নেই, তো হয়েছে! আম্মা অস্থির হয়ে যান, ছোল বেন হামার কুটি গেল! এ বাবা আপন! এ বাবা আপন! তুই কুটি গেলু? বেল ডুবিছে তুই একুনও বাড়িত আসলু না ক্যা?
আমি বাড়ি ফেরা পর্যন্ত আম্মার হাঁকডাক বিরতিহীন চলতেই থাকে।
এ আপন বাড়িত যা, তোর মাও ডাকিচ্চে! আম্মার ডাক পড়লে কেউ আর আমাকে তিস্টিবের দেয় না, যার সাথে খেলছি, সে আর খেলবে না, অথবা আমাকে আর খেলায় নেবে না। যার সাথে গল্প করছি, সে আর আমার সাথে গল্প করবে না। বাড়িত যা আপন! তোর মাও আবার মারবিনি। এ বাবা আপন! এ বাবা আপন! এখনও আম্মার ডাক কানে থকথক করে।
সন্ধ্যা হয়ে গেলেই অথবা মসজিদে মসজিদে আজান ডুকরে উঠলেই আমাকে বাড়ি ফেরার তাড়া পেয়ে বসে, যেখানেই থাকি না কেন আমাকে বাড়ির ছায়া মারতে হবে। আমার মনে হতে থাকে যে আম্মা যেন ঠিক কয়েকশো বছর আগের মতোই এখনও বাড়ির খুলিতে দাঁড়িয়ে আমাকে ডেকে যাচ্ছেন, এ বাবা আপন! তুই কুটি গেলু? বেলা ডুবিচে, তুই একুনও বাড়িত আসলু না ক্যা? সন্ধ্যার অন্ধকারের সাথে আমি ধাক্কা খেয়ে জীবনের তাল হারাই৷ কত কষ্টই না আমার বুক চিরে বেরিয়ে যায়! সন্ধ্যা নামে আর আমি বাড়ির ভিতর দুই হাতে অন্ধকারে গিলে আম্মাকে বিলের মাছের মতো হাতড়াতে থাকি। পেয়ারা গাছের গলা ধরে আম্মা আম্মা বলে ডুকরে কান্দিতে থাকি, আমার বুকের ভিতরটা যমুনার পাড়ের মতো, পুবের দাওকোপা নদীর মতো ভাঙতে থাকে। পেয়ারা গাছের পাতা আমার গায়ে সন্ধ্যার অন্ধকারে ঝরে পড়ে সান্ত্বনা দিয়ে। পেয়ারা গাছ ছেড়ে ডাব গাছ জড়িয়ে ধরি, মোটাসোটা ডাব গাছ, আম্মার মতোই ঠেকে, ডাব গাছের পেট ধরে হু হু কেঁদে উঠি। মসজিদে আজান হয় নাকি আম্মা ডাক ছাড়ে? এই দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে অনেকদিন আম্মার কাছে আমি হেরে গেছি। মসজিদে গিয়ে দেখি আম্মা নেই, আমি তাড়াতাড়ি মসজিদ থেকে বের হয়ে এসেছি, বাড়িতে গিয়ে দেখি আম্মা নেই, বাড়ি থেকে আর বের হতে পারিনি। আম্মার দরজার কপাট ধরে হুড়মুড় করে কান্না নিয়ে ভেঙে পড়ি ঘরের সিথানে। সন্ধ্যার বুক ঠেলে কান্না উথলে ওঠে। গাছের পাতায় পাতায় ভাঙা ভাঙা কান্নার গলা। কে কাঁদে? শরীর জুড়ে শিরশির করে কান্না, হাতের তালুতে পায়ের গিরেতে দোল খায় কান্না। বাতাসে আওয়াজ ওঠে, কদমগাছের ধারে বাঁশেরথোপে পাখিরা কান্না শুনে জেগে ওঠে৷ বুকের ভিতর ছমছম করে তাদের। এ যেন বুকভাঙা মা হারানো পাখির কান্না। গাছে গাছে শোক পড়ে যায়। বাঁশঝাড়ের শোরগোল রাতের নিরবতাকে প্রসারিত করে। আকাশের জোছনা মেঘের পাড়ে উষ্ঠা খেয়ে পড়ে। কতশত বছর আগে আম্মা লেপমুড়ি দেওয়া বাবার মাথা ধরে টান দিয়েছেন। আম্মার হাতের গন্ধের ধাক্কা খেয়ে বাবার ঘুমের পাতলা খোসা উঠে গেলেও বাবার ঘুম ছাড়ে না। আম্মা লেপের তল দিয়ে বাবার বুকে ঠান্ডা হাত রাখলে বাবার ঘুমের ঘরে ডাকাতি পড়ে।
এ নাজলি তোর বাপ মরে গেছে, একুন তুই বাপ কুটি পাবু?
এ্যাঁ হামার আব্বা মরবি কিসক? হামার আব্বা মরবেল্লয়, নাজলি বু বাবার কোলের ওপর গা জুড়ে দিয়ে বলে, ও আব্বা তুমি নাকি মরিছো? কও না?

কেরে পাগলি মানুষ মরলে আবার কথা বলবে কেমনে? আম্মা খিকখিক করে হাসতে থাকে,
আমিও আম্মার হাসির সাথে তাল দিয়ে হেসে উঠি। আনন্দে আম্মার চুলের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে অাঙুলে চুলের গুছি দেখি।
কি কমু মা? বাবা কথা বলে ওঠেন। এই যে হামার আব্বা মরেনি! আপার কথা শুনে বাবা হেসে হেসে আম্মার মুখে জোছনা দেখতে থাকেন। বাপদাদার আমল চলে যায় বলে! আমি আজও আসমানের মেঘ খেদায়ে সেই জোছনা দেখতে থাকি। আমার চোখের জলে আকাশ ভিজে যায়।

উনকে করে কি দেখো? আম্মা বাবার চোখের ওপর চুড়িপরা মখমলের হাত চেপে ধরেন। হাতের রেখা ভরা জোছনার গন্ধ ভুরভুর করে।
বাবা বড় করে নিশ্বাস নিলে এই গন্ধ সারা শরীরে বিছিয়ে যায়। লেপের মধ্যে কোচড়মোচড় করতে করতে বলেন, জোছনা দেখি গো!
তুমি না কলে জোছনা দেখিছো নাজলির বাপ? হামি জোছনাই দেকিচ্ছুনু। বাবার কথাগুলো মুখের ভিতর বানের জলের মতো পাক খেতে খেতে ঢুকিচিপা গলার ফাঁক দিয়ে পেটের ভিতর চলে যায়, বেরুতে পারে না। আম্মার দেখাদেখি আপা বাবার মুখের দরজা হাতের মিহি আঙুলের সর দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। উদোল আসা ভাতের পাল্লের মুখে যেভাবে ঢাকনা রাখা হয় ঠিক সেভাবে।
কুটি পালে তুমি জোছনা? বাবার চোখ থেকে আম্মা হাত সরে নিয়েছেন। অন্ধকার থেকে বের হয়ে বাবা জোছনার সামনে পড়ে চোখ পিটপিট করে বলেন, উদে , এক আলিফ টেনে আবার বলেন উদে। উদে বলতে গিয়ে বাবার কপালে আম্মার চুলের সিঁথির মতো ভাঁজ পড়ে। এই ভাঁজের বুকে-পিঠে জোছনার আলো ভরে যায়।
হামি তো ছোলের কথা কনু, এই বেশরম মানুষটা ছোলপোলক দেখে না, খালি উদে উদে করে। তোমার বাপের শরম নাই বাবা! খালি উদে উদে করে চোখের নাটা টান করে। আম্মা আমার নাকের ওপর ঠোঁট বিছিয়ে দিলে আমি খিলখিল করে হেসে উঠি।
আম্মা সব কথা বলেন আমার চোখে চোখ রেখে, আমার চোখ থেকে আম্মা চোখ টান দিলে আমি কোমর আলগ করে পা পিচলাতে থাকি। আম্মা খাটের পার্শিতে হেলান দিয়ে আমার সরু ডালের মতো ঠ্যাং দুটো কোলের মধ্যে নিয়ে মাথাটা দুই রানের ওপর ছেড়ে দিয়ে হাত দুটো আগলে ধরেছেন। যতক্ষণ আম্মা আমার চোখে চোখ রেখে থাকেন, ততক্ষণই আমার জোছনাস্নান চলে৷ আমি খেতখেত করে হাসতে থাকি, হাসিতে আম্মার কোল ভরে সপসপ করে।
আম্মা চোখ টান দিলেই আমার হাসি দপ করে নেম্পোর আলোর মতো শেষ নিশ্বাস ফেলে নিভে যায়, পটল তোলে। তোক লিয়ে হামি যুত পাইনে, উনকে করে সারাক্ষণ কি চোখ দিয়ে থাকা যায়? ক্যাংকা ছোল এডে হামার! মায়ের চোখ সরে লিবের দেয় না। বউ হলে যে কি করবি! আল্লারে আল্লা!
আম্মার এমন কথা শুনে নাজলি বু বলতেন, হামার ভায়েক তুমার লেওয়া লাগবিনে, হামার ভায়েক হামি নিমু, হামাক দাও।
আম্মার কোল ছাড়া হয়েই কান্না শুরু করে দিতাম, বুর কোলে থেকে চাড়া দিয়ে হেলেহেলে পড়তাম আম্মার দিকে। আম্মা বলতেন, ওক পাড়ার মধ্যে লিয়ে যা, হামার সামনে থেকে গেলেই ধুম মারবিনি।
বু আমাকে কোলে নিয়ে এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে বেড়াতেন। উনকে করে তাকে আচো ক্যা? তোমার আজ কি হচে ?
কিছু লয় গো, জোছনা দেকিচ্ছি, বাবা লেপের তলে মুখ নিয়ে বলেন। বাবার কথার ঘেরঘের শব্দ হয় লেপের খোলে জালের মতো কথা আটকে গিয়ে।
জোছনা দেগবে তো বারে যাও, সানাই হয়ে জোছনা উঠিছে। আগনে খুলি আলোতে ভাসে গেছে, ফটফট করিচ্ছে। আম্মা আমার চোখে নজর স্থির করে বলেন, সেডে কোমান চায়েই থাকে, হামি এনা ছুনুপাউডল কিছু দেইনে, খালি এনা চোখত কাজল দিছি, তা-ই সেডে হুতুমপেঁচার লাগান তাক লাগে তাকে আছে! আবার বাবা না তাকালে আম্মার চোখ উসখুস করে বাবার চাহনির জন্য।
আম্মার মনের ভিতর লজ্জার উৎপাত বেশি করে আবার বুকটা ভালোবাসার জন্য কেঁদেও মরে। হাটত যে গেলে লাগাল পাচলে? টেকা পালে কিছু?
বাবা ফস করে লেপের তলে গোটা মুখ নিয়ে গিয়ে আম্মার চোখের আড়াল হয়। হাটর কথা থও তো! বাবার গলার স্বর ঝনঝন করে ওঠে। শালারা খুব চিটিং, যায়ে লাগ পাওয়া যায় না। বাজারত আসে হামাক রসুনের টেকা না দিয়ে অন্যটি থিনি মাল লিয়ে যায়। ধরে পালে বাঁচামু না, শাটের কলার ধরে হাঁকে দিমু চড়! হামাক চেনে না! বাবা রেগেমেগে লাল হয়ে যান, বাবার ধলা ফর্সা মুখ লালচে হয়ে ওঠে।
থাক মানসেক মারার দরকার নাই, লাগ পালে বুজে কয়ো, হয়তো ঠেকাত পরিছে, হাতত টেকা নাই। আম্মা ঠান্ডা মাথার মানুষ, কাউলঝগড়া করতে চান না, সব সময় ছেপে থাকতে চান। আর বাবা সৎ মানুষ, কেউ তাঁর সাথে ঠগবাজি করলে তাকে আচ্ছামতে হেজামত দিয়ে ছাড়েন। বাবা আর লেপের ভিতর থেকে চোখ বের করে জোছনা আর দেখেন না। বাবা কখনই রাগের মাথায় আম্মার মুখ দেখেন না। বাবাকে রেগে তোলা ছাড়া আম্মার হাতে আর উপায় ছিল না। নতুবা বাবা অমন জুলজুল করে জোছনাস্নান করে যেতেনই। মা কোমান আসেই না!
গোস্তের ছালুন দিয়ে ভাত লিয়ে আসবের চালো, সেকথা শুনে হামি আর আন্দন চড়ানু না, মাছ জাল দেওয়া আছলই। আনবিইনি, আনলে খায়োনি। মা যকন কচে আনবিনি। বাবা চুপ করে থাকেন, বাবার মুখের কথা শুনার জন্য আম্মার কান ছটফট করে।
ও নাজলির বাপ নিন্দ আসলে? হামি এনা নিন পাড়ে লিই, মাথা খালি হামার ঘুরিচ্ছে! আম্মা আসলে হামাক ডাক দিও। বাবা লেপের মধ্যে মাথা খুসে দেন। সারা রাতি আচে, নিন পাড়োনি, বারে সেই জোছনা উঠিছে, চলো দেখে আসি। বাবার কোনও সাড়াশব্দ নেই, নড়াচড়াও নেই। আম্মা বাবার মুখ উদোম করলে দেখে বাবার হাসিমাখা মুখ জোছনার মতো ফকফক করছে৷ ঘরের জোছনার পাল্লায় পড়ে তারা দুজনই বাইরের জোছনার কথা বেমালুম ভুলে যান। জোছনার আলো ঘরের অন্ধকারকে পাতলা করে তোলে।
আম্মার শাড়ির ভিতর থেকে জোছনার গন্ধ আমার চোখেমুখে নাকে সাপটা মারে। তোমার বেটার তামশা দেখছ? হামার বুকত নাক ডুবে দিয়ে বকরির বাচ্চার মতো ঘাই মারিচ্ছে!
মরা মানুষের মতো আম্মা কথা বলেন, এরা হামাক মারে ফালে দিবি বাবা! বাপ বেটা মিলে হামার সাথে কি লাগাছে! আম্মার মুখে বাতেনি জোছনা থমথম করে!

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD