শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে
নীরবে পেরিয়ে যাচ্ছে ‘বিদ্রোহী’র শতবর্ষ

নীরবে পেরিয়ে যাচ্ছে ‘বিদ্রোহী’র শতবর্ষ

– দীপক সাহা (পশ্চিমবঙ্গ)

“বিদ্রোহী রণক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত …” এই লাইনগুলো হিল্লোলিত করেনি এমন কোন বাঙালিকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এই লাইনগুলো পাঠ করলেই বা শুনলে বুকের হৃদপিণ্ডে রক্তস্রোতের প্রবাহ তীব্রতর হয়। হ্যাঁ,ঠিকই ধরেছেন, আমি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কথা বলছি। কালজয়ী এই কবিতা একশো বছরে পা দিল। “বিদ্রোহী”-র শতবর্ষ।

কাজী নজরুল ইসলাম পার্থিব আয়ু পেয়েছিলেন সাতাত্তর বছর তিন মাস। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিশীল জীবন ছিল মাত্র তেইশ বছর — ইংরেজি ১৯১৯ সাল থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত। ১৯৪২ সালের ১০ আগস্ট তিনি সম্বিৎ হারান; তাঁর সৃষ্টিশক্তি স্তব্ধ হয়ে যায়। তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ১৯৭৬ সালের ২৯ শে আগস্ট। জন্মেছিলেন তিনি ১৮৯৯ সালের ২৪ মে।

নজরুল ইসলামের জীবন ঘটনাবহুল বর্ণময়। বিচিত্র তাঁর সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি। কবির শৈশব ও কৈশোরকাল অশান্ত উদ্দামে পরিপূর্ণ। প্রথাগত শিক্ষার মূলধারাকে এড়িয়ে তিনি পাঠ গ্রহণ করেছিলেন সমাজ ও প্রকৃতি থেকে। হয়তো সেই কারণেই, অকুণ্ঠ মানবিক উদারতা, শীলিত অনুভবের পাশাপাশি প্রকৃতির রুদ্র দহন তাঁর চরিত্রের বিশেষ দিক। তিনি দ্রোহ-ভাবাপন্ন অনেক কবিতা রচনা করলেও, এ কথা বলে অত্যুক্তি হবে না কেবল ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির মননে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসাবে চিরভাস্বর। এরকম স্বতন্ত্র শব্দচয়ন ও অসাধারণ ছন্দের সুরমূর্ছনায় রচিত বিদ্রোহ-দীপ্ত, রুদ্রতেজে সজ্জিত কবিতা বাংলা সাহিত্যে এখনও সৃষ্টি হয়নি। বিশ্বসাহিত্যেও এর জুরি মেলা ভার।

সেই সময় নজরুল ইসলাম সামরিক বিভাগে চাকরি করতেন। পল্টনে আড়াই বছর তিনি বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেনা হিসেবে চাকরি করেছেন। কিন্তু বেঙ্গল রেজিমেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ১৯২০ সালের মার্চ মাসে ফিরে আসেন তিনি । কলেজ স্ট্রিটে কমিউনিস্ট নেতা মুজফফর আহমেদের আশ্রয়ে থাকতে শুরু করেন । চাকরি করার সময় থেকেই লেখালেখি শুরু করেন নজরুল। কিন্তু চাকরি ছেড়ে আসার পরেই তিনি সাহিত্যে নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে নিয়োজিত করেন । মাঝে বেশ কয়েকবার বাসা বদল হলেও টানা দু’বছর মুজাফফর আহমেদের সঙ্গে ছিলেন নজরুল। আর এই সময়েই নজরুলের চূড়ান্ত সাহিত্যচর্চার শুরু।

ওই বছরেই মধ্য কলকাতার ৩/৪সি তালতলা লেনের একটি বাড়িতে উঠে যান নজরুল এবং মুজফফর আহমেদ। একটি দোতলা বাড়ির নীচের দক্ষিণ পূর্ব কোনের ঘরে থাকতেন তাঁরা। সেই ঘরেই রচিত হয় ‘বিদ্রোহী’। ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে। সারারাত জেগে কালজয়ী ও সুদীর্ঘ ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি রচনা করেন কাজী নজরুল ইসলাম। এই কবিতা যখন লেখেন নজরুল,তখন তাঁর পাশের বেডেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম আইকন কাকাবাবু মোজাফফর আহমেদ। সেই রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি নেমেছিল।খুব দ্রুততার সঙ্গে নজরুল এই লেখা সেই রাতে শেষ করেছিলেন। তিনি সকাল বেলায় উঠে নজরুলের রচনা করা এই সুদীর্ঘ কবিতা দেখে অনেকটাই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।

‘কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা’ গ্রন্থে মুজফফর আহমেদ লিখেছেন, ‘….. সে কবিতাটি লিখেছিল রাত্রিতে। রাত্রির কোন সময়ে তা আমি জানিনে। রাত দশটার পরে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলেম। সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে আমি বসেছি এমন সময় নজরুল বলল, সে একটি কবিতা লিখেছে। পুরো কবিতাটি সে তখন আমায় পড়ে শোনাল। “বিদ্রোহী” কবিতার আমিই প্রথম শ্রোতা।’ মুজফফর আহমদ আরও জানিয়েছেন, নিজের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই কবিতাটি শুনে তিনি কোনো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি। এতে নজরুল মনে মনে আহত হয়েছেন নিশ্চয়ই। কবিতাটির রচনার সময় নিয়ে মুজফফর আহমদ আবার বলেছেন, ‘আমার মনে হয় নজরুল ইসলাম শেষ রাত্রে ঘুম থেকে উঠে কবিতাটি লিখেছিল। তা না হলে এত সকালে সে আমায় কবিতা পড়ে শোনাতে পারত না। তার ঘুম সাধারণত দেরীতেই ভাঙত, আমার মতো তাড়াতাড়ি তার খুব ভাঙত না।’ মুজফফর আহমদ আরও জানিয়েছেন, নজরুল সম্ভবত প্রথমে কবিতাটি পেন্সিলে লিখেছিলেন। কারণ দোয়াতের কালি শেষ হয়ে আসছিল তাঁর লেখনীর সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে। আর সেই কারণে তিনি পেন্সিলে এই কবিতা লিখেছিলেন।

১৯২২ সালে জানুয়ারি মাসে বিজলী পত্রিকায় এই কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয়। ( অবশ্য এই ব্যাপারে মতভেদ আছে) প্রকাশিত হওয়ার পরেই তুমুল আলোড়ন উঠেছিল কবিতাটিকে নিয়ে। এমনকি প্রকাশকালে একই সপ্তাহের মধ্যে দু’বার ওই কবিতাটি ছাপতে হয়েছিল। প্রায় দু’লক্ষ লোক কবিতাটি পড়েছিলেন। ফলে দ্রুত এই কবিতা তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় নজরুলকে। তেমনি তিনি পরিচিত হন বিদ্রোহী কবি হিসেবে। পরে কবিতাটি প্রকাশিত হয় পরপর মোসলেম ভারত, ধুমকেতু, প্রবাসী, সাধনা, মাসিক বসুমতী পত্রিকায়। এটাও একটি যুগান্তকারী ঘটনা যে, কবিতাটি পরপর ছয়টি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। একটি নজিরবিহীন ঘটনা। নজরুল জোড়াসাঁকোর বাড়িতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা শুনিয়ে ছিলেন! শুনে রবীন্দ্রনাথ মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করেছিলেন!

১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’য় আরও বারোটি কবিতার সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি স্থান পায়। ‘অগ্নিবীণা’ এতই জনপ্রিয় হয়েছিল যে প্রকাশের সাথে সাথেই এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাই আরও কয়েকটি সংস্করণ বার করতে হয়েছিল। বিদ্রোহী-ভাবাপন্ন কবিতা-সম্বলিত ‘অগ্নিবীণা’ বাংলা সাহিত্যের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। শুধু বাংলা ভাষায় কেন, পৃথিবীর আর কোনো ভাষার আর কোনো কবির ক্ষেত্রে তাঁর একটি কবিতার সঙ্গে নিজ নাম এমন ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি!

‘বিদ্রোহী’ রচনাকালে কবির বয়স ছিল ২১ বছর। এতে তিনি আত্মপ্রাধান্য ঘোষণা করেছেন। এই কবিতায় কবি সর্ব অর্থেই বিদ্রোহী। কাউকেই তিনি মান্য করেন না, কোন দেবতাকেও নয়। ঈশ্বর-খোদা-দেবতা-বিধাতা সকলেই সে ভাবস্রোতে ভেসে গেছেন। আবার পরেই কবির মোহভঙ্গ ঘটেছে। উদ্দামতার আতিশয্যাকে তিনি প্রশমিত করেছেন। একদিকে আত্ম-প্রাধান্যকে তিনি দেশের অন্যান্য মানুষের সঙ্গে সমীকৃত করে নিলেন, অপরদিকে দেবতাকেও স্বীকার করলেন।
সমগ্র বাংলা কাব্যসাহিত্যে ‘বিদ্রোহী’ আত্ম-উন্মোচনের এক অগ্নিময় রক্তস্বাক্ষর–যার কোনও তুলনা কোথাও নেই। স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল-বিহারী আত্মবিস্ফোরণশীল কবিকল্পনা আপনাকে যেমন অনন্ত প্রসারিত করেছে, তেমনই আপনার অস্তিত্বকে নিত্য নব নবরূপে আস্বাদন করে ‘স্বয়ংবিদানন্দে’ বিভোর উল্লাস-বিহ্বল এবং উন্মাদনা-অধীর হয়েছে। একদিকে নজরুল সহমর্মিতা সহানুভূতি ও সমবেদনার বীণাবাদক, অন্যদিকে তিনি সত্য সুন্দর এবং সীমাহীন মানবপ্রেমের উপাসক। তিনি বন্ধনমুক্তি অন্যায় নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এবং সাম্য ও শক্তির পথপ্রদর্শক।

নজরুল তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় ১৪৭ বার ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।‘আমি কে’? এই প্রশ্ন সৃষ্টির শুরু থেকে।‘আমি’র মধ্যে ঐশ্বরিক মহাশক্তির উপস্থিতি নজরুল জানতেন।এক “আমি”- র মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত ধর্মীয় মিথ ঢুকিয়ে সুচারুভাবে পরিবেশন করেন তিনি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আমি’ কবিতায় আমিত্ব উপলব্ধির উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন – ” আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ /চুনি উঠল রাঙা হয়ে।”এই কবিতায় রবি ঠাকুর আবারও লিখছেন, ” আমি গোলাপ বললুম ‘সুন্দর’, সুন্দর হল সে।” আপোসহীন কবির ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় সেই ‘আমিত্ব’ সুরই ফুটে ওঠে বারে বারে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোন শক্তির কাছেই তিনি নত করতে রাজি নন।

বিশ্বভাবনা-বিশ্বমানবের কল্যাণ সংগ্রাম ও সংহতি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মধ্যে কবি নজরুলের বিশ্বমানবের প্রতি উৎসর্গকৃতপ্রাণ বিদ্রোহী সত্তার গভীর পরিচয় নিহিত আছে। কবিতার মধ্যে একস্থানে তিনি লিখেছেন –’আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী মানব-বিজয় কেতন।’ কবিতার সমাপ্তিতে তিনি লিখেছেন,’আমি চির-বিদ্রোহী বীর/আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির।’ নিজ আত্মাকে ‘চির-উন্নত শির’ বলে কল্যাণকারীর ভূমিকায়ই অবতীর্ণ হতে চেয়েছিলেন। কবিতার প্রতিটি পঙক্তি যেন শরীরের রক্ত শুদ্ধ করে আওয়াজ তোলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, বিদ্রোহের দামামা বাজায় প্রতি মুহূর্তে, আজও এই কবিতার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কোনও বিতর্ক নেই।

তালতলা লেনের বাড়িটির কোন এক অন্ধকার ঘরে লন্ঠন জ্বালিয়ে কবি তাঁর চিন্তার ভ্রূণ কলমের কালির মধ্য দিয়ে সাদা পৃষ্ঠায় ঢেলে গিয়েছিলেন, বর্ণমালায় একে একে গেঁথে গিয়েছিলেন বিদ্রোহী কবিতা। এই বাড়িটি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার আঁতুড়ঘর। তালতলার বাড়িতে ২৫ মে নজরুল শতবর্ষ উদযাপন কমিটির উদ্যোগে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন ছাড়া সারা বছর বাড়িটির নিয়ে তেমন কোনও হৈচৈ থাকে না। এমন কি নজরুল ভক্ত-গবেষক ছাড়া কোনও দর্শনার্থীর পা-ও পড়ে না ঐতিহাসিক এই বাড়িটির চৌহদ্দিতে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয়, যে ৩/৪সি তালতলা লেন ‘বিদ্রোহী’কবিতার গর্ভগৃহ সেই ভবন আজও হেরিটেজ এলাকা হতে পারেনি। মৌলালি মোড় থেকে এস এন ব্যানার্জি রোড ধরে সোজা তালতলা বাজার পার হলে একটি মাইকফলক দেখা যায় ‘বিদ্রোহী’ কবিতা নিয়ে। এটি ১৯৯৮ সালে স্হাপন করে তালতলা নজরুল শতবর্ষ কমিটি।

‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্মশতবর্ষ নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। অশুভ মৌলবাদী শক্তির আস্ফালনে আক্রান্ত উপমহাদেশে চারিদিকে জান্তব উল্লাস, অনিশ্চয়তা আর অস্থিরতা। রাজনীতির পঙ্কিলতায় মন্দির- মসজিদ ঘিরে টিকি ও টুপিওয়ালাদের রক্তচক্ষু। এমনি এক অস্থির সময়ের মুখোমুখি আমরা। তবু ভীত নই, উন্নতশির। কেননা আমাদের অভিজ্ঞানে রয়েছেন রবীন্দ্র-নজরুল। দেশ ও জাতির এই চরম দুঃসময়ে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষে আমাদের এখন নতুন করে অঙ্গীকার করার সময়।

পৃথিবীতে যত দিন মানুষ থাকবে, তত দিন বিদ্রোহ থাকবে, আর নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাও থাকবে! যতদিন জনবিরোধী শাসন-শোষণ বিদ্যমান থাকবে, যতদিন সামাজিক নিপীড়ন-নির্যাতন ও মানুষে মানুষে শ্রেণীবৈষম্য চরমভাবে বিরাজমান থাকবে, ততদিন এসবের বিরুদ্ধে মানুষের সোচ্চার হওয়ার স্বার্থে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রয়োজনীয়তাও থাকবে। বলাই বাহুল্য এই একটি কবিতায় অবিভক্ত বাংলার মানুষের মণিকোঠায় জায়গা করে নেন নজরুল ইসলাম।

এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের কাছেও কবিতাটি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। স্বাধীনতার পর অনেক গ্লানি সহ্য করতে হয়েছিল বাকরূদ্ধ নজরুলকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর প্রাক্কালেও জাতি নজরুলকে সঠিক সম্মান ও মর্যাদা দিতে পারল না। যতই মুখে বলি না কেন বাঙালির মনের মনিকোঠায় নজরুল সদা জাগ্রত কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে করোনকালে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ঘাটতি আমাদের আছে। কোন কোন সংস্থা কবির অমর সৃষ্টিকে আলাদাভাবে আলোকিত করছে। কিন্তু সার্বিকভাবে কোন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। আপামর বাঙালির মননে ও হৃদয়ে কোনও উৎসাহ উদ্দীপনা চোখে পড়ছে না। সরকারি স্তরেও নেই কোন উদ্যোগ। করোনার অজুহাতে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ‘বিদ্রোহী’ ব্রাত্যই রইল। নজরুলের প্রতি জাতির এহেন আচরণ জাতির পক্ষে দুঃশ্চিন্তা।

ঋণ স্বীকার – ১।কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিকথা –মুজফফর আহমেদ
২।পশ্চিমবঙ্গ, কাজী নজরুল ইসলাম জন্মশতবর্ষ স্মরণ – ১৪০৬
৩। আবু রাইহান
৪। কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD