মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বে-সরকারি ভাবে নির্বাচিত কসবায় ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত-৪ কসবায় এলজিইডি’র শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আগরতলায় স্রোত আয়োজিত লোকসংস্কৃতি উৎসব কসবা প্রেসক্লাব সভাপতি’র উপর হামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সভা কসবায় চকচন্দ্রপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা, পুরস্কার বিতরণ ও ছবক প্রদান শ্রী অরবিন্দ কলেজের প্রথম নবীনবরণ অনুষ্ঠান আজ বছরের দীর্ঘতম রাত, আকাশে থাকবে চাঁদ বিএনপি-জামাত বিদেশীদের সাথে আঁতাত করেছে-কসবায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ১৩ দিনের জন্য ভোটের মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী
রাজ্যের সংখ্যালঘুদের বাস্তবিক হাল হকিকত

রাজ্যের সংখ্যালঘুদের বাস্তবিক হাল হকিকত

পাভেল আমান

রাজ্যের আপামর সংখ্যালঘু সমাজের সার্বিক চিত্রটা বড্ড অস্পষ্ট, বিবর্ণ ও হতাশাজনক৷ পরিসংখ্যান দিনের আলোর মতই স্পষ্ট প্রতীয়মান ৷ পূর্বের আদমশুমারি অনুসারে আমাদের রাজ্যে ২৫ শতাংশ বাঙালি মুসলমানের বসবাস অর্থাৎ ভগ্নাংশের নিরিখে রাজ্যের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন মুসলিম৷ অথচ হিসাব নথির পাতা ঘাটলে দেখা যায় সরকারি চাকরিতে তাদের সংখ্যা দু’শতাংশেরও কম৷ পুলিশ, কর্পোরেশন ও অন্যান্য বহু বিভাগে স্বাধীনতার ৭৩ বছর পার করেও আট-দশ শতাংশের বেশি মুসলিম কর্ম প্রার্থী চাকরি পাননি বা পক্ষান্তরে তাদের ভাগ্যে একটু সুখে, শান্তিতে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার চাকরির শিকেটা ছিড়েনি৷ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, আধিকারিক, কর্মচারীদের মধ্যেও এই হার খুবই কম বা এক কথায় নগণ্য৷ এছাড়া ব্যাংকিং সেক্টর, প্রশাসন, ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগে মুসলিমদের চাকরিরঅনুপাত দূরবীন দিয়ে দেখার মত অবস্থা

বাঙালি মুসলমানদের নিয়ে এই করুণ, দুর্বিষহ ,অর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা থেকে একটি বাস্তব ছবির প্রকট প্রতিনিয়ত মুসলিম সমাজ পাদপ্রদীপের পশ্চাতে।তথাকথিত প্রকৃত উন্নয়নের সুফল কেউই পায়নি৷
বাঙালি মুসলমানের এই পিছিয়ে পড়ার কারণ কিন্ত্ত নানাবিধ ৷ সাতচল্লিশের দেশ ভাগের পর মুসলিম জীবনে গভীর সঙ্কটের ছায়া ঘনীভূত হয়েছিল৷ মুসলিম মধ্যবিত্তের বড়ো অংশই সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে চলে গিয়েছিলেন৷ যাঁরা সাত পুরুষের ভিটে মাটির টানে পশ্চিমবাংলায় থেকে গিয়েছিলেন তাদের বেশিরভাগই নিম্ন মধ্যবিত্ত, দরিদ্র, প্রান্তিক, খেটে খাওয়া, কৃষক খেতমজুর, ছোট ব্যবসায়ী, অসংগঠিত শ্রমিক ও কর্মচারী৷’১৯৪৭ সালের পর জীবনে প্রতিষ্ঠা, আর্থিক নিরাপত্তা, স্বনির্ভরতা পাওয়া দূরে থাক, নিজের পরিচয়, অস্তিত্বটা নিয়েই তাদের দুর্বার ,শোচনীয় বড় গোলমেলে অবস্থা৷ গোষ্ঠী সংঘর্ষ, সাম্প্রদায়িক হানাহানি,দাঙ্গায়, বাকবিতন্ডা, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ, চিনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি যখনই সমাজে সঙ্কটের ছায়া আবর্তিত হয়েছে সেই মুহূর্তেই মুসলমানদের তার মাসুল গুনতে হয়েছে৷ নানা রকম হবে তাদের অপমানিত,পর্যুদস্ত , ভীত সন্ত্রস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও সন্দেহের চোখে তাদের প্রতিনিয়ত অস্থিরতার বাতাবরণে নির্বাচিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রমশ সাম্য ,সংহতি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, সামাজিক পদমর্যাদা সম্মানকে প্রতিনিয়ত ভুলণ্ঠিত করে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে । কখনো শুনতে হয়েছে পাকিস্তানের চর, চিনের দালাল ইত্যাদি বিবিধ বিশেষণে তাদের কোণঠাসা করা হয়েছে৷ এই প্রচণ্ড মানসিক দুর্বিষহ অবস্থায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীনবযাপন আরও অনিশ্চিয়তার মুখে পড়ে গেছে৷ এই গতানুগতিক যন্ত্রণার বিভীষিকাময় ছবিটা কিছুটা হলেও পাল্টেছে ’১৯৭১-সালের বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের পরবর্তীতে৷ তার পর থেকে এই পারের অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনগোষ্ঠী অর্থ সামাজিক রাজনৈতিক ক্ষমতার পদদলনের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে ক্রমশ দেওয়ালে পিঠ থেকে গিয়ে অন্তর্নিহিত বোধের উপলব্ধিতে ‘ প্রত্যক্ষ করছে শুধুই বঞ্চনা ,হতাশা ,আর প্রত্যাশার ফাঁপা বুলি’।১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় আসার পরে যে ভূমিসংস্কার পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন ঘটিছিল সারা পশ্চিম বাংলায়।পাশাপাশি জোর কদমে চলেছিল, অপারেশন বর্গা , জমির পাট্টা বিতরণ , সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এসবের মধ্যে দিয়ে যে অর্থনৈতিক পরিবর্তন তার কিছু সুফল অবশ্যই অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মতো মুসলিমরাও পেয়েছিলেন৷ কিন্ত্ত নব্বই দশকের পরে যে বিশ্বায়নের মুক্ত বাজার অর্থনীতি তার মোকাবিলা করার কোনও জরুরী পরিকল্পনা বামপন্থীরা প্রয়োগ করতে পারেননি৷ শিল্প নিয়ে তথৈবচ অবস্থা৷ মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বের ফলে অনেক কলকারখানায় ঝাঁপি বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় অবশিল্পায়ন তথা শিল্পের চরম সঙ্কট। অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়ে বেকারত্বে ভুগতে থাকে।কর্পোরেট পুঁজির দৃষ্টি এ রাজ্যে খুব একটা পড়েনি। তারা সর্বদাই এ রাজ্যের প্রতি একটা বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে তার সঙ্গে দোসর কেন্দ্র।
কৃষির প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব না দেওয়ায় সৃষ্টি হয় চরম অবস্থা যার নিদারুণ ফলশ্রুতিতে দেখা দেয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতে যে সঙ্কট দেখা দিতে লাগল , জনজীবনে সমস্যা বাড়তে লাগল তার প্রতি বাম শাসকরা সে ভাবে মনোযোগী ও সমস্যা নিরসনের পথ বাতলে না দেওয়ায় ও না দেখানোয় মুসলিম , দলিত ও অন্যান্য অনগ্রসর জনগোষ্ঠী তাদের উপর প্রচন্ড বিরূপ ও বিক্ষুব্ধ হতে থাকল ৷ যার চরম পরিণতি আমরা আছড়ে পড়ছে দেখলাম ২০১১-র বিধানসভা নির্বাচনে৷

পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম জনগোষ্ঠীর অর্থনীতির ভিত্তি মূলত কৃষি কাজ৷ সেই কৃষি কাজে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে থাকলো৷ আগেই উল্লেখ করেছি নব্বই-এর পরে কৃষিতে খরচের বহর অসম্ভব রকম বেড়ে যাওয়ায় উৎপন্ন ফসল থেকে চাষীরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়।৷ সেখানে একশ্রেণীর ফরিদের দৌরাত্ম্যে চাষীদের অবস্থা ক্রমশ সঙ্কটের দিকে চলে যায় মুক্ত বাজার বা সংস্কারবাদী অর্থনীতির এক্ষেত্রে অনেকটা দায়ী। এই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে চাষিরা খুব একটা নিজেদের মেলাতে না পারায় তারা কৃষিকাজে চরম প্রতিবন্ধকতায় প্রক্টরের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য তথা শ্রমের মূল্য না হাওয়াই তারা দিনকে দিন অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে থাকে। কৃষি বাণিজ্যকরণ সার ও অন্যান্য সব কিছুর দাম আকাশ ছোঁয়া হওয়ায় গ্রামে গ্রামে কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিল। রেশম , বা জরি এই দুই শিল্পে মুসলিমদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের। এই শিল্পেই তারা খেয়ে পরে দু পয়সা রোজগার তাদের জীবন বেঁচে ছিল৷ কিন্ত্ত বিশ্বায়ন পরবর্তী পশ্চিম বাংলায় উক্ত দুই শিল্পের অবস্থাও খুবই শোচনীয় হয়ে পড়ে৷ এর চরম পরিণতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কাজ হারিয়ে বেকারত্বের সংখ্যা চরমভাবে বেড়ে গেল।মুসলিম তরুণদের একটা বৃহত্তর অংশ কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে এক প্রকার বাধ্য হচ্ছেন৷ গুজরাট , মুম্বই, কেরালা, কর্ণাটক ব্যাঙ্গালোর ও রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ শিল্প , সোনা ব্যবসা , রিকশা চালক বা পরিচারক -চারিকা ইত্যাদি নানা অসংগঠিত কাজে যুক্ত অধিকাংশ শ্রমিকই আমাদের রাজ্যের মুসলমান সম্প্রদায়৷ প্রায় পনেরো-কুড়িবছর থেকে আমাদের রাজ্যের মুসলিম নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেরা বাইরে যাচ্ছেন৷ অথচ কর্মক্ষেত্রে তারা পরিশ্রম করেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে। এ যেন তাদের কাছে রোজনামচার বিষয়টি নিয়ে গেছে। বেঁচে থাকাটাই তাদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যে একটা শ্রেণি কোনও না কোনও দুর্ঘটনায় ছাড়াও নানাবিধ কারণে পরিস্থিতির শিকার হয়ে প্রাণ হারান৷ তাঁদের কফিনবন্দি নিথরদেহ বিপন্ন অসহায় পরিবারের কাছে যখন এসে পৌঁছয় তখন শোকের মূর্ছনায় ভবিষ্যতের অর্থচিন্তা, রুটিরুজি টান, নিরাপত্তাহীনতা, অর্থাৎ মাথার ছাদ চলে যাওয়ায় নিদারুণ সংকটে আবর্তিত পরিবার গুলিকে আরও বিপন্ন করে৷ এই প্রাণ হারানো, খোওয়ানো শ্রমিকেরা অসংগঠিত হাওয়াই কোনও অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধে পান না৷ অসংগঠিত তথা পরিযায়ী শ্রমিকদের আইনী সুযোগ-সুবিধা সেরকম নেই বলে না রাজ্য বা কেন্দ্র কেউই এই হতভাগ্য অসহায় পরিবারদের পাশে এসে দাঁড়ায়না৷ সবাই সহানুভূতি ও সমালোচনার বার্তা দিয়ে নীরব থাকে ।আরও বিপদ বাঙালি মুসলমান বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে ’ সন্ত্রাসবাদী বা বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দিয়ে তাদের বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি হেনস্থার শিকার হতে হয়৷ কাউকে কাউকে তো দীর্ঘদিন বিনা দোষে জেল খাটতেও হয়৷রা শহরের এলিটরা কথা সুশীল সমাজের লোকেরা এদের চিনি না৷ চিনতে চাইও না৷ না জেনে আমরা তর্ক করি মুসলিম ‘কৌম ’ সমাজ , তার বহুবিবাহ , তালাক , পর্দাপ্রথা প্রকৃতি অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে। যেখানে তাদেরকে আরো আদর্শলিপি পিছনে ঠেলে দেওয়া হয়৷ আসলে আমরা , সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষিত ভদ্র লোকেরা মুসলিমদের দেখি পশ্চিমি মাধ্যমের বিদ্বেষপূর্ণ মিডিয়ার মাধ্যমে। যেখানে নিরন্তর মুসলিমদের নানাবিধ ভাবে অবান্তর, অযৌক্তিক, যুক্তিতর্কে, বিকৃত তথ্যের মাধ্যমে মুসলিমদের বলির পাঠায় পরিণত করা হচ্ছে। অর্থাৎ খোলসা করে বলতে গেলে সমস্ত অযাচিত ঘনঘটা আর কিছু নেই যেন এই সম্প্রদায় যুক্ত আছে। সিরিয়াল , টিভি নাটক ও বাংলা সিনেমায় আজও মুসলিম পুরুষ চরিত্রে শুধুই টুপি ও নুর দিয়ে চিহ্নিত। ধর্মীয় পরিচয়টাই যেন তাদের বেঁচে থাকার কোন সপ্তাহে পরিণত হয়েছে৷ নারী বরং আগে যা ছিল না হিন্দু সমাজের সেই ভয়ঙ্কর পণ প্রথা মুসলিম জীবনে ইদানীং ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে৷ অল্প বয়সে বিয়ের চলও যথেষ্ট বেড়েছে৷ ‘কৌম ’ সমাজ বলতে ঠিক কী বোঝায় জানি না৷ তবে এক ইসলামি আইডেনটিটির মধ্যেও কিন্ত্ত অনেক আলাদা আলাদা মুসলিম সত্তা দেখা গেলেও তাদের ধর্মাচারণ অভিন্ন৷ এক দিকে চলছে নিজেদের শিকড়ের অস্তিত্ব সন্ধানের কাজ৷ অন্য দিকে শিক্ষার প্রতি টান৷ একটা ভুল ধারণা আছে যে মাদ্রাসা মানেই মধ্য যুগের অন্ধকার৷ খারিজি ও হাই মাদ্রাসা দুই-এর ছবিই ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে৷ খারিজিতে অধিকাংশই হতদরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের ভিড়৷ অন্য দিকে সরকারি অর্থনাকুলে হাই মাদ্রাসা , তাতে মাত্র চার শতাংশ মুসলমান ছেলেমেয়ে এখন পড়েন৷ সিলেবাস মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডের মতো মাদ্রাসা বোর্ড ঠিক করে৷

মাত্র কয়েক বছরেই বেসরকারি বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগীরা গড়ে তুলেছেন৷ আল আমিন মিশন, জিডি ইনস্টিটিউট , মৌলানা আজাদ আকাডেমি ইত্যাদি৷ তাদের হাত ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিম সমাজে চমকপ্রদ সাফল্য এসেছে । এই মুহূর্তে এক কথায় বলা যায় মুসলিমদের রেনেসাঁস। এই সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের অভাবী, দুস্থ ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে প্রতিযোগিতার পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা তৈরি করে তাদেরকে প্রকৃত শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক পদমর্যাদা, প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। এখানেই শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা ও বাস্তবতা ।এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশ ভাগের পর আবার এক নতুন আলোকপ্রান্ত মুসলিম জনগোষ্ঠী জমি পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে৷ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া , হতাশা অবসাদে নিমগ্ন, জর্জরিত এই সম্প্রদায় উপলব্ধি করতে পারছে , হাজার প্রতিকূলতার মধ্যেও সমাজ জীবনে তাদের টিকে থাকতেই হবে৷ এ যেন তাদের কাছে এক মরণ-বাঁচন লড়াই। সেখানে পাথেয় হার না মানা মানসিকতা, অদম্য মনোবল, মনের জেদ, ধৈর্য,সংযম, সাবধানতা, সচেতনতা এবং আবশ্যিকভাবে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া। অবশেষে আশার আলো এই ঘুমিয়ে পড়া, পাদ প্রদীপের পিছনে থাকা, বঞ্চিত, শোষিত, বিবিধ আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা চ্যুত, রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায় বাস্তবিক চোখের প্রকৃত দৃষ্টি ফিরে পাওয়াতে আত্মসমীক্ষা নিরীক্ষার দৌলতে নিজেদের অধিকার, দাবীদাওয়া, বেঁচে থাকার স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধা গুলো সম্পর্কে অনেকটা সচেতন। অর্থাৎ আগের থেকে তারা আত্মনির্ভরশীল।এক্ষেত্রে তাদের শিক্ষার উপলব্ধিকরণ অনেকটাই লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে।

পাভেল আমান–শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক–মুর্শিদাবাদ-পশ্চিমবঙ্গ

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD