আবুল খায়ের স্বপন।।
করোনায় চলে গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত কোল্লাপাথর শহীদ সমাধিস্থলের তত্ত্বাবধায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম (৭৩)। রাজধানীর কুর্মিটোলা কোভিট হাসপাতালে তিনি গত মঙ্গলবার রাতে মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহে—- রাজেউন)।
আজ বুধবার বাদ জোহর নামাজে জানাযা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ সমাধীস্থলে তাকে দাফন করা হয়। এ বীর সৈনিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ আনিসুল হক এবং আইন সচিব গোলাম সারওয়ার।
আব্দুল করিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর শাসন, শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মাতৃভূমিকে মুক্ত করার জন্য ১৯৭১ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে প্রশিণ গ্রহণ করে দুই নম্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ৫১ জন শহিদ মুক্তিযোদ্ধাকে তাঁর পৈত্রিক ৬৫ শতাংশ জমিতে সমাহিত করেন। এদের মধ্যে ৪৮জন শহিদ মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় আছে এবং তিনজন আজও অজ্ঞাত রয়েছে। সেই ১৯৭১ সন থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই সমাধিস্থল রণাবেণ করেছিলেন তিনি।
আবদুল করিম যখনই সারা বাংলাদেশ থেকে যে কেউ আসলেই সমাধিস্থলটি সবকিছু তুলে ধরতেন। সেই সমাধিস্থলটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পর্যটন কেন্দ্র। নির্মাণ করা হয়েছে একটি কমপ্লেক্সও। আবদুল করিম দেশ প্রেমিক মানুষ হিসাবে পুরো এলাকায় পরিচিতি রয়েছে। সেই মানুষটিকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা।
আব্দুল করিম করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ১১ ছেলে-মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান মো. আল-মামুন ভূইয়া বলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল করিম পুরো এলাকায় দেশ প্রেমিক হিসাবে পরিচিতি ছিলেন। তাঁর পৈত্রিক ৬৫ শতাংশ জায়গায় ৫১জন শহিদ মুক্তিযোদ্ধাকে তিনি দাফন –কাফন করিয়েছিলেন। মুক্তযুদ্ধ শেষে এ সমাধিস্থলটিকে দেখা-শুনা করতেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন ভাল মানুষকে হারিয়েছি।
Leave a Reply