শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
কসবায় অবৈধ ড্রেজিংবিরোধী অভিযান, ২টি ড্রেজার ধ্বংস ও ১ লাখ টাকা জরিমানা কসবায় তরুণ মানব সেবা সংগঠনের উদ্যোগে স্বর্ণপদক কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ আল্লামা গোলাম হাক্কানী পীর সাহেব (র) আমার শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদ কসবায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নবগঠিত কমিটি শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর,শিক্ষার উন্নয়নে কাজের প্রত্যাশা কসবা ব্যাংক সোসাইটির উদ্যোগে শিক্ষোপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কসবায় ব্যাংকার্স ফোরামের ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন টিডিএসে দ্বিতীয়বারের মতো “জিয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট” অনুষ্ঠিত কসবাসহ বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবির অভিযান প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ মালামাল জব্দ ট্রাফিক এন্ড ড্রাইভিং স্কুলে স্বাধীনতার ঘোষককে নিয়ে সেমিনার আয়োজন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষি জমিতে গলাকাটা শিশুর খুনি বাবা নিজেই!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষি জমিতে গলাকাটা শিশুর খুনি বাবা নিজেই!

আবুল খায়ের স্বপন।।

সায়মন (৯), আয়মন (৭) ও নাঈম (৪) তিন ভাই। এর মধ্যে সায়মনের চেহারা ও আচার-আচরণে অন্য দুই সন্তানের সঙ্গে মিল পাচ্ছিলেন না বাবা বাদল মিয়া। অবশ্য সায়মনের জন্মের পর থেকেই বাদল মিয়ার সন্দেহ, সন্তান তাঁর কি না। প্রায় ৯ বছর জমিয়ে রাখা ওই সন্দেহের সমাপ্তি তিনি ঘটালেন ছেলেকে হত্যার মধ্য দিয়ে।

ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। আদালত ও পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে বাদল মিয়া হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট আনোয়ার সাদাতের আদালতে বাদল মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে পুলিশ শনিবার সন্দেহমূলকভাবে বাদল মিয়াকে আটক করলে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার সুহিলপুর গ্রামের একটি ধানি জমি থেকে শনিবার সকালে মো. সায়মন (৯) নামে এক শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সায়মন সুহিলপুর গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র। বাবার সঙ্গে সে ধান কাটতে গিয়ে ফিরে আসার পথে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় বলে প্রথমে জানাজানি হয়।

বাদল মিয়া প্রথমে জানান, সকালে সায়মন তার সঙ্গে ঘাস কাটতে বের হয়। কিছুক্ষণ পর সায়মন ঘাস কাটবে না জানিয়ে বাড়ির পথে চলে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পরেও সায়মন বাড়ি না ফেরায় সন্দেহ হলে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ওই গ্রামের নদ্দাপাড়ার একটি ধানি জমি থেকে সায়মনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানান, বিয়ের পাঁচ মাস পর প্রবাসে চলে যান বাদল মিয়া। এর দুই মাস পর তার স্ত্রী পুত্র সন্তান জন্ম দেন, নাম রাখা হয় সায়মন।

কিন্তু সাত মাসে সন্তান জন্ম নেওয়ার ঘটনায় সন্দেহ পোষণ করে বাদল। দেশে এসে এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কলহের সৃষ্টি হয়। পরে বাদল আরো দুই সন্তানের বাবা হন। সন্তানরা বড় হতে হতে বাদল সন্দেহ করেন, সায়মনের সঙ্গে আয়মন ও নাঈমের চেহারার মিল নেই। অমিল আচারণেও। সব মিলেয় তার সন্দেহ প্রবল আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে বাদল জানতে পারেন, বশির নামে একজনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর পরকীয় সম্পর্ক ছিলো।

এক পর্যায়ে সায়মনকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন বাদল। এরই অংশ হিসেবে শনিবার সকালে পরিকল্পিতভাবে জবাই করে সায়মনকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পরও বাদল মিয়ার মধ্যে কোনো ধরণের অনুশোচনা না থাকায় পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ বাদল মিয়াকে গ্রেপ্তার করলে হত্যা রহস্য উন্মোচন হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD