ইব্রাহিম খলিল শিমুল, সুবর্ণচর, নোয়াখারী।
আসছে শীত, বাড়ছে লেপ-তোষকের কদর। তাই সুবর্ণচরে লেপ-তোষকের কারিগরদের ব্যস্ততাও বেড়েছে।
এর পাশাপাশি ব্যাবসায়ীরাও দোকান সাজিয়ে বিক্রি শুরু করেছেন শীতের গরম কাপড়। গত সপ্তাহ থেকেই এ সুবর্ণচরে শীত অনুভূত হচ্ছে। ভোরবেলায় কুয়াশায় ঢেকে যায় সবুজ মাঠ ও গাছপালা। পৌষ ও মাঘ মাস পুরো শীতকাল। শীত মোকাবিলায় পল্লী গ্রামের মানুষ আগেই লেপ-তোষক জোগাড় শুরু করেছেন। তাই শীতকে সামনে রেখে কারিগরদের এখন যেন দম ফেলার বিরাম নেই।
বুধবার (০৩ নভেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে লেপ-তোষকের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।
খাসেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মো: বাবুল’সহ আরো অনেকে জানিয়েছে, এ বছর ক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই বেশি। পুরো বছরের চেয়ে শীতের এই তিন থেকে মাস বেচাকেনা একটু বেশিই হয়। তাই ক্রেতাদের কথা ভেবে জিনিসপত্রের গুণগত মান বজায় রেখে অর্ডারি কাজের পাশাপাশি রেডিমেড জিনিসও তৈরি করে বিক্রি করছি।
বাবুল আরো জানান, এখানে স্থানিয় ভাবে প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত ব্যবসা করে যাচ্ছি। গত দুই বছর পূর্বে আমার দুইটি তুলার গুদামে বিদ্যুৎ শটকাটে আগুন লেগে বেশ কিছু টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং করোনাকালীন সময়ে দোকানপাট বন্ধ থাকায় খুব বিপাকে সময় পার করছি।
সরকারি ভাবে কোনো সুযোগ সুবিধাও পায়নি। কোনো ভাবে ঋণের ব্যবস্থা করে দিলে একপর্যায় এধরনের ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতাম। না হয় এই পেশা থেকে ব্যবসায়ীরা আস্তা হারাবে।
খুচরা ক্রেতা সুইটি রাজু নামের এক গৃহবধূ জানান, শীতে মোটা কাঁথা-কম্বল যাই বলেন না কেন, লেপ-তোষক ছাড়া শীতের আমেজ তেমনটা জমে না।
স্থানিয় ব্যবসায়ীরা জানান, লেপ-তোষক বানাতে গার্মেন্টেসের ঝুট ও কার্পাস তুলো ব্যবহার করতে হয়। একটি সিঙ্গেল লেপ বানাতে ৬৫০-৭০০ টাকা, সেমি-ডাবল লেপ ৭০০-৯০০ টাকা এবং ডাবল লেপ তৈরিতে ৭৫০-১৮০০ টাকা বিক্রি হয়। এরমধ্যে রয়েছে সুতো, কাপড় ও মজুরি ব্যয়।
তবে, তোষক বানানোর ক্ষেত্রে দাম বেশি পড়ে। তুলার মান, পরিমাণ, নারিকেলের ছোবলা ও কাপড়ের ওপর নির্ভর করে একেকটি তোষক তৈরির ব্যয়। তবে আমাদের সকলের একটায় দাবী সরকারি ভাবে এই পেশায় সম্পৃক্ততা যারা রয়েছে প্রশাসন আমাদের পাশে থেকে সহযোগীতা করার অনুরোধ করছি।
Leave a Reply