শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
কসবায় ২৪ ঘণ্টা মানসম্মত চিকিৎসাসেবার প্রত্যয়ে মডেল হসপিটালের যাত্রা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া: বাংলাদেশের কূটনৈতিক চিন্তা, জাতীয় স্বার্থ ও বৈশ্বিক অবস্থানের পাঠ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিশ্ববাঙালি সংসদ শারদ সম্মাননা পেলেন ৯ গুণীজন মাগুরার নিখোঁজ রত্নাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা অন্য কোনো এজেন্সি বা সংস্থায় হস্তান্তর দাবি ট্রাফিক স্কুলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী পালন সবার আগে বাংলাদেশ শীর্ষক টিডিএসে ফ্রি চক্ষু সেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত কসবায় ব্যাংকার্স ফোরামের বিদায় বরণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং উপদেষ্টা মন্ডলী গঠন আরএমপিতে ফয়জুল কবিরের নেতৃত্বে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের নতুন দিগন্ত দাকোপের বাজুয়ায় আব্দুল মান্নান খানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল সম্পন্ন কসবায় অবৈধ ড্রেজিংবিরোধী অভিযান, ২টি ড্রেজার ধ্বংস ও ১ লাখ টাকা জরিমানা
মায়ের পেট ফেটে সড়কে জন্ম নেওয়া বোনকে দেখে খুশি ভাইবোন

মায়ের পেট ফেটে সড়কে জন্ম নেওয়া বোনকে দেখে খুশি ভাইবোন

নিউজ ডেস্ক।।
ছোট্ট বয়সেই বাবা-মা-বোনকে হারিয়েছে ১০ বছরের জান্নাত ও সাত বছর বয়সী এবাদত। শোকস্তব্ধ হয়ে অনেকটাই নির্বাক তারা। চোখে কেবল ভাসছে বাবা-মায়ের চেহারা। কিন্তু পাশাপাশি কবরে শুয়ে থাকা বাবা-মাকে আর কখনো দেখা হবে না তাদের। তাইতো মা-বাবার কথা মনে পড়তেই ক্ষণে ক্ষণে তাদের চোখ বেয়ে ঝরছে পানি।

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যুর সময় আশ্চর্যজনকভাবে জন্ম নেওয়া নবজাতক এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রোববার দুপুর ২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া মোড়ের লাবীব প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই নবজাতক বোনটিকে দেখতে যায় জান্নাত ও এবাদত। সব হারিয়েও বোনকে কাছে পেয়ে শোকের মাঝেই এক চিলতে হাসি ফুটেছে ভাই-বোনের মুখে।

নবজাতকটির আপন বলতে এখন তার বড় এই দুই ভাই-বোনই। জান্নাত ত্রিশালের মঠবাড়ি ইউনিয়নের রায়মণি গ্রামে ব্র্যাক পরিচালিত একটি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। জান্নাত জানায়, সে তার বোনকে লালন-পালন করবে। তার কাছে রাখবে, কারও কাছে যেতে দেবে না।

বোনকে দেখতে পেয়ে আনন্দিত ভাই এবাদতও। শনিবার ট্রাকচাপায় মায়ের পেট ফেটে জন্ম নেওয়া বোনটি কখন বাড়ি ফিরবে, তারই প্রহর গুনছে এবাদত।

যদিও এ দু’শিশু তাদের মা-বাবা ও এক বোনকে হারানোর যন্ত্রনা এখনও ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারছে না, তারপরেও তারা তাদের কৌতুহলী হৃদয় নিয়ে ফুটফুটে ছোট্ট বোনকে দেখতে গেছে। এ সময় তারা ছিলো খুশিতে আত্মহারা। এরপর তারা মেতে উঠে মিষ্টি মদির নিষ্পাপ শিশুসুলভ আলাপনে। কত কথাই না তারা বলছে, আর তাদের ছোট্ট বোনটি তা অবাক হয়ে শুনছে, কখনও বা তাল মিলিয়ে হাসছে। তিন অবুঝ শিশুর এমন আলাপচারিতার দৃশ্যে উপস্থিত সবার চোখেই ছিলো পানি। আসলে কোনো কোনো আবেগীয় ব্যাপার কঠিন হৃদয়কেও বিগলিত করে। তখন চোখের পানি ছাড়া মানুষ আর কিছুই নিবেদন করতে পারে না।

হাসপাতালের সেবিকা শরিফা আক্তার বলেন, ছোট্ট বোনের পাশে ভাই-বোন কিছু সময় ছিলো। বোনকে কাছে পেয়ে তারা অনেক আনন্দিত ছিলো। কোলে নিয়ে আদর করেছে, ছবিও তুলেছে। এ সময় তিন অবুঝ শিশুর গল্প শুনে উপস্থিত সবাই আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন।

জান্নাতের দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু বলেন, বাবা-মা মারা গেছে এটা জান্নাত বুঝলেও এবাদত এখনও বুঝতে পারছে না। তাকে অনেক বুঝিয়ে শান্ত রাখা হচ্ছে।

গত শনিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে (ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কোর্ট ভবন এলাকায়) ট্রাকচাপায় অন্তঃসত্ত্বা এক নারীসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা রত্না বেগমের পেট ফেটে ভূমিষ্ঠ হয় একটি কন্যা শিশু। পরে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতক শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD