শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে
সুবর্ণচরে বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত চাষিরা

সুবর্ণচরে বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত চাষিরা

ইব্রাহিম খলিল শিমুল, সুবর্ণচর, নোয়াখালী।

কর্মক্ষেত্রে সাধারণ চাকরিজীবীদের ছুটি থাকলেও কৃষকদের কোনো ছুটি নেই, একটার পর একটা কৃষিকাজ লেগেই থাকে। আর সেই কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। আমন ধান কাটার পর পরেই শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন কৃষি আবাদ।

শাক-সবজি, গম, সরিষা, বাদাম, খেসারি, মুগডাল, মরিচ, ফেলন, তরমুজ, সূর্যমুখী, ভুট্টা’সহ নানা ধরনের চাষাবাদ করার পরেও ব্যাপক আকারে আবার শুরু করে বোরো ধানের চারা রোপণ। কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়েও বোরো ধানের চারা লাগানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সুবর্ণচরের চাষিরা।

এদিকে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে দেখা যায় এমন দৃশ্য। প্রতিটি ইউনিয়নে সকালের শীত উপেক্ষা করে সন্ধ্যা অবধি বোরোর জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কেউবা জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন। কেউ জমির আইলে কোদাল পাড়া কিংবা জৈব সার বিতরণ কাজে ব্যস্ত। কেউ সেচের জন্য ড্রেন নির্মাণ কিংবা পাম্পের বা শ্যালো মেশিনের জন্য ঘর তৈরি করছেন।

আবার অনেকে তৈরি জমিতে পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন। আনুসঙ্গিক কাজ শেষ করে কেউবা বীজতলা থেকে চারা তুলে তা রোপণ করছেন ক্ষেতে। চারা রোপণের প্রতিটি কাজ ঠিকমতো করলেও মনে শান্তি নেই কৃষকদের। সবার মনেই রয়েছে হতাশা। আবার ধানের ন্যায্য দাম না পেলে লোকসান গুনতে হবে তাদের।

সুবর্ণচর উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নের মধ্য চরবাটা গ্রামের মোঃ খোকন বলেন, বাড়ির আঙ্গিনায় সাড়ে ৩ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করবো। বীজ বোপণের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে এই বোরো ধানের চারা রোপণ করার উপযুক্ত সময় হয়ে যায়। এর মাঝে চারা রোপণের জন্য জমি নির্বাচন করে ট্রাক্টরের সাহায্যে জমি চাষ দিতে হয়। জমি পরিপূর্ণ তৈরি করে চারা রোপণ করা হয়। রোপণের কিছু দিন পর চারা গুলো ভালো করে গজানোর জন্য হাতের সাহায্যে মাটিগুলো নড়াচড়া করে দিতে হয়। এর ফলে রোপণের ৯০ দিনের মধ্যে ফলন দেয়।

তিনি আরো বলেন, বোরো ধান চাষাবাদ করে আমরা সব সময় হতাশার মধ্যেই থাকি। আবার মাঝেমধ্যে আশায় বুকও বাঁধি, না জানি কখন ধানের দাম বেড়ে ভাগ্যবদলে যায়। তবে এমন মন্তব্য করেছে উপজেলার মোঃ নূর নবী, রবি আলম, মোঃ মামুন’সহ আরো অনেক কৃষক।

চর আমান উল্যাহ ইউনিয়নের কৃষক শাহাদাত হোসেন রাজু জানান, বোরো ধান লাগাতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হয়। এছাড়া বোরো আবাদে খরচও বেশি হয়। বোরো ধান লাগানোর পর থেকে তিন-চার দিন পর পর সেচ দিতে হয়। তারপরও যদি ন্যায্য দাম না পাই তবে লোকসানের মুখে পড়তে হবে আমাদের। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন। বোরো আবাদে যেন আমাদের ভর্তুকি দেওয়া হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলায় বোরোধানের লক্ষ‍্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৬২৪ হেক্টর জমি। অর্জন হয়েছে ১১ হাজার হেক্টর জমি। এবং চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে উপজেলায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, উপজেলার কৃষকরা আমনধান ঘরে তোলে সবেমাত্র বোরো ধানের চারা রোপণ শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, সুবর্ণচরে চলতি বছরে প্রান্তিক ২৬০০ জন কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ২ কেজি করে হাইব্রিড বীজ প্রদান করা হয়। এবং ৪০০ জন কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল (উপশী) জাতের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। গত কয়েকদিন পূর্বে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ এর ফলে সারা দেশের ন্যায় সুবর্ণচরেও প্রভাব পড়েছে।

এতে সমগ্র উপজেলার তরমুজ, সরিষা, খেসারি’সহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হওয়ায় সেই সব জমি গুলোতে বোরোধান আবাদ করার পরিকল্পনা করছে চাষিরা। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বোরোধানের আবাদ আরো বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে গভীর নলকূপগুলো সুন্দরভাবে সচল থাকলে খুব শীঘ্রই বোরো ধানের চারা রোপণ শেষ হবে এবং আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছাতে পারবো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD