আফরিনা পারভীন।।
আজ ১৩ মে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৪৭ সালের আজকের এই দিনে তিনি কলকাতার যাদবপুর ১১৯ লাউডন স্ট্রিটের রেড এন্ড কিওর হোমে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন । তিনি বহু কাব্যগ্রন্থ লিখে গেছেন। তার প্রতিটি কবিতায় অনাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে।
ভারতে জন্ম গ্রহণ করলেও কবির পিতৃ পুরুষের নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের উনশিয়া গ্রামে ।
জানা যায়, সুকান্তের পিতা নিবারণ ভট্রাচার্য কলিকাতার কলেজ স্ট্রিটে বইয়ের ব্যবসা করতেন। দীর্ঘদিন কবির পরিবার কলকাতায় অবস্থান করায় তার পূর্ব পুরুষের ভিটাটি বেদখল হয়ে যায়। দীর্ঘ ৫৯ বছর বেদখল থাকার পরে ২০০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কবির বাড়ি দখল মুক্ত হয়। কবির পৈত্রিক ভিটাটি দীর্ঘদিন শূন্য অবস্থায় পড়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে জেলা পরিষদ কবির পৈত্রিক ভিটায় একটি অডিটরিয়াম ও লাইব্রেরি স্থাপন করেছেন । এখানে কবির স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য প্রতি বছর মার্চ মাসে প্রথম সপ্তাহে একটি মেলার আয়োজন করা হয় । কিন্তু কোন বছরই বিশেষ কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি বা বেসরকারি ভাবে কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয় না । এ ব্যাপারে অনেকই হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কবি সুকান্ত স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক অশোক কর্মকার বলেন, আগামী প্রজন্মের কাছে কবি সুকান্তকে তুলে ধরতে হলে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে কবির জন্ম এবং মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা উচিত । শুধু বাৎসরিক একটি মেলা করে বাঙালি জাতির কাছে কবি সুকান্তকে তুলে ধরা সম্ভব নয়। কবি সুকান্তকে বাঙালি জাতির কাছে তুলে ধরতে হলে সরকারি ভাবে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
কবি সুকান্ত স্মৃতি সংসদের সভাপতি আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কারণে আমরা এ বছর বড় পরিসরে কবি সুকান্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে পারব না । তবে আমরা আজ সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করব ।
উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কালীঘাটের মহিমা হালদার স্ট্রিটে মামা বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নিবারণ ভট্টাচার্য। মাতা সুনীতি দেবী। ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল- তার উলেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
Leave a Reply