মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০১:২৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে
বিশ্ব সমুদ্র দিবস; বাতাস মেতে উঠুক সাগরের গানে

বিশ্ব সমুদ্র দিবস; বাতাস মেতে উঠুক সাগরের গানে

কলমে- সোনিয়া তাসনিম খান।।

ছেলেবেলায় মায়ের কোলে শুয়ে দুঃসাহসী নাবিক ভাস্কো ডা গামার কাহিনীর তরী চেপে আমাদের শিশুমন অসীম সাগর থেকে মহাসাগরে ফেরারী হয়েছে বহুবার। অ্যাডভেঞ্চার বইয়ের পাতার মাঝ থেকে সেই নিষ্ঠুর জলদস্যুরা জীবন্ত হয়ে কিলবিলিয়ে চোখের সামনে বিমূর্ত হয়ে উঠত যখন তখন। কল্পনার ঊর্মিমালায় চেপে কত কত বার যে এক টুকরো নতুন মামচিত্র আবিষ্কার করে তাতে বিজয়ের ঝান্ডা গেড়ে নিয়েছি তার আর হিসেব নেই কোন৷ নব আবিষ্কারের আনন্দে উদ্বেলিত সেই শিশুমনে ক্রমেই লাগে গাম্ভীর্যের ছোঁয়া। কালের আবর্তে বিরাটাকার তিমির পিঠে চড়ে বসবার নেশা তখন আমাদের কাছে পরিণত হয়েছে এক কল্পকাহিনীতে। জীবনের কোন এক মনোরম লগ্নে উদার সমুদ্রের তটিনীর পাড় হতে কুড়িয়ে নেওয়া এক মুঠো বর্ণিল ঝিনুক দিয়ে নিজের স্বপ্নমাল্য গেঁথে নিতে নিতে পুরোন সেই রঙিন শৈশব মনে করে আনমনে হেসে উঠিনি এমন কাওকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ভাবুক মন সেই সময় যেন শঙ্খচিলের মত বিস্তৃত ডানা মেলে উড়াল দেয় প্রশান্ত সমুদ্র বক্ষে। উত্তাল তরঙ্গে সাঁতরে বেড়ানো দানবাকৃতির জাহাজগুলোকে মনে হয় বুঝি ক্যানভাসে এঁকে নেওয়া বিন্দুরাজি। সমুদ্রের গমগম গর্জনে যেন আমাদের মনের রুদ্ধ প্রকোষ্ঠে বন্দী সব কথামালা ভেসে যায় অনায়সে। মাথা নুইয়ে পদ স্নান করে যাওয়া সেই শীতল জলদ যেন কত অনায়সে ধুয়ে দিয়ে যায় জীবনের যত জরা আর ক্লান্তি। এক অনাবিল প্রাপ্তি সুখে ভরে উঠে জীবন। অসীমের এই বিশালতার সামনে মনটা যেন হঠাৎ করেই সেই শৈশবে ফিরে যায়। এক ছেলেমানুষী আনন্দে বালুরাজি দিয়ে স্বপ্নের ঠিকানা তৈরী করে নিতে কি আকুলতা জাগে মনে। হ্যাঁ। কালে কালে এমন করেই মানুষের হৃদয়ের সাথে সমুদ্রের উদ্দামতার যেন এক অটুট যোগসূত্র গড়ে উঠেছে অনায়সেই। তাই তো ব্যস্ত জীবনে যখন আমরা হাঁপিয়ে উঠি ঠিক সেই সময়টাতে এই সমুদ্রই যেন হয়ে ওঠে আমাদের মুক্তি লাভের এক অনন্য ঠিকানা। সমুদ্রের সাথে জীবনের এই অঙ্গাঙ্গি সম্পর্কটাকে আরও মজবুত এবং সুদৃঢ় করবার জন্যই জন্ম হয় আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবসের। অনন্য এই দিবসের যাত্রা শুরু হয়েছিল ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরোর ধরিত্রী সন্মেলনে। এরপর ২০০৮ সালের ৫ ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৩ তম অধিবেশনে গৃহীত ১১১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে দ্য ওসেন প্রজেক্ট এবং ওয়ার্ল্ড ওসেন নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে প্রতি বছর ৮ই জুন আন্তর্জাতিক ভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে। মূলত ২০০৯ সাল থেকে সারা বিশ্বে এই দিবসটি মহাসাগর দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। যার মূল উদ্দেশ্য হল সাগর মহাসাগর সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা।

পৃথিবীর মোট তিন ভাগ জল দ্বারা পরিপূর্ণ। কাজেই বলবার অপেক্ষা রাখে না, জীব কূলের জীবন ধারনের জন্য এই সাগরের অথৈ জলরাশির ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সাগর মহাসাগর এই সবুজ পৃথিবীর জন্য ফুসফুস প্রতিম। এ কথা বলবার কারণ, আমাদের অক্সিজেনের সবচেয়ে বড় যোগানদাতা হল এই সুবিশাল জলরাশি। যুগ যুগ ধরে সাগর মাতার মমতার আর্শীবাদ পুষ্ট হয়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করে চলেছে প্রাণীকূল। খনিজ সম্পদ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে আমরা অর্জন করছি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মুনাফা। সাগর বক্ষে লালিত মৎস রাজির মেলা কে জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়ে জীবনধারণ করছে বিশ্বের এক বিশাল জনগোষ্ঠী। যাতায়ত ব্যবস্থার মাঝে বৈচিত্রের স্বাদ আর অর্থনৈতিক সহজলভ্যতার ভারসাম্য তৈরী করেছে এই অকূল জলরাশি। খাদ্য, ওষুধ সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান আসে এই সাগর হতে। এছাড়াও বায়ুমন্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে রয়েছে এই সুবিশাল বহতা জলরাশি। তবে, মানুষের নানা রকম কর্মযজ্ঞের কারণে আজ এর সুললিত ছন্দে জেগেছে অনিয়মিত ছন্দ। বদলে যাচ্ছে মহাসাগরগুলোর পরিবেশ। ধ্বংস হচ্ছে জীব বৈচিত্র্য। ভবিষ্যত পরিবেশকে সুরক্ষিত করে রাখতে এবং নির্মলতার সুবাতাসকে অব্যাহত রাখবার জন্য আমাদের সকলের এই মুহুর্তে এগিয়ে আসা জরুরী। তাই আজ এই দিনে, “বাঁচুক মহাসাগর, হাসুক পৃথিবী”; এই হোক আমাদের ব্রত।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD