শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
কসবায় অবৈধ ড্রেজিংবিরোধী অভিযান, ২টি ড্রেজার ধ্বংস ও ১ লাখ টাকা জরিমানা কসবায় তরুণ মানব সেবা সংগঠনের উদ্যোগে স্বর্ণপদক কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ আল্লামা গোলাম হাক্কানী পীর সাহেব (র) আমার শ্রদ্ধাভাজন উস্তাদ কসবায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নবগঠিত কমিটি শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর,শিক্ষার উন্নয়নে কাজের প্রত্যাশা কসবা ব্যাংক সোসাইটির উদ্যোগে শিক্ষোপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কসবায় ব্যাংকার্স ফোরামের ১ম বর্ষপূর্তি উদযাপন টিডিএসে দ্বিতীয়বারের মতো “জিয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্ট” অনুষ্ঠিত কসবাসহ বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবির অভিযান প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকার ভারতীয় অবৈধ মালামাল জব্দ ট্রাফিক এন্ড ড্রাইভিং স্কুলে স্বাধীনতার ঘোষককে নিয়ে সেমিনার আয়োজন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই
জীবন যুদ্ধের গল্প

জীবন যুদ্ধের গল্প

বিপ্লব গোস্বামী।।

সাইকেলে করে সাত কিলো মিটার দূরে বাজারে ঘরে ঘরে দুধ পৌছে দিয়ে আমি স্কুলে যেতাম।স্কুল থেকে এসে মাঠে গরু চরাতাম। বাবা ভাইকে কাজে সাহায‍্য করতে হত আমাকে। স্কুলের সহপাঠীরা আমার সঙ্গে তেমন একটা মেলা মেশা করত না।ওদেরকে আমি সময় দিতে পারতাম না।তা ছাড়া আমার মধ‍্যে বিলাসিতার চিহ্ন মাত্র ছিল না।তাই ওরা আমাকে এড়িয়ে চলত। সেজন‍্য আমার কোন আক্ষেপও ছিল না।
এভাবেই স্কুল জীবন শেষ করে কলেজে গেলাম‌।তখন কলেজের ছাত্র বয়সও বেড়েছে। তাই দয়িত্বটুকুও বেড়েছে।ফলে বাড়ির কাজে আগে ছেয়ে বেশি সাহায‍্য করতে হত।কলেজে সপ্তাহে দুই বা বড়জোড় তিন দিন যেতাম।এ জন‍্য অনেক কথা শুনতে হত অধ‍্যাপকগণের।শুধু তাই নয়,নন কলেজিটির জন‍্য প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় বসে দেওয়া হয়নি আমাকে।পরে অধ‍্যক্ষ মহাশয়ের কাছে সব খোলে বলি।তিনি ছিলেন খুব দয়ালু মানুষ।আমার কথায় খুব কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। তিনিই আমার পরীক্ষায় বসার ব‍্যবস্থা করে দিলেন।উনার দয়ায় কলেজ থেকে (poor fund) পোয়র পাণ্ডও পেয়ে ছিলাম।
কলেজে পড়ার সময় অসম সরকারের আয়োজিত শিক্ষক যোগ‍্যতা পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হয়ে যাই।তারপর রাজ‍্য সরকার প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ে শিক্ষক নিযুক্তি দিলে আমিও প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ের সহ শিক্ষক পদে নিযুক্ত হয়ে শিক্ষাদানের সহান ব্রতে ব্রতী হই।
মায়ের মুখে গল্প শুনেছি আমি যখন শিশু ছিলাম খেলনা কিনার টাকা ছিলো না।মা আমাকে পুরনো ছেড়া বই দিতেন খেলার জন‍্য।আর আমি বই জন‍্য বয়নাও ধরতাম।
সাহিত‍্যের প্রতি অনুরাগটা সেই ছাত্র জীবন থেকেই।ছোটবেলা পাঠ‍্য বইয়ের কবিতা পড়তাম।কবিতা খুব ভালো লাগত।সেই ভালো লাগতা থেকেই কি ভাবে যে লেখাটা শুরু হয়ে গেলো তা বুঝতেও পারিনি।মনে আছে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় এক বন্ধু বলেছিল তার দাদা নাকি কবিতা লিখতে পারেন।কথাটা আমার মাথার মধ‍্যে ঢুকে গেয়েছিল।আমি বাড়িতে এসো চেষ্টা করতে লাগলাম।সেই থেকেই শুরু।
আমার জন্ম এক অজো পাড়া-গাঁঁয়ের অতি দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে।দারিদ্রতার সঙ্গে সংগ্ৰাম করে বেড়ে ওঠা।আমি নিজেকে ধন‍্য মনে করি গরীবের ঘরে জন্ম হওয়ার জন‍্য।গরীবের ঘরে যদি জন্ম না হত তাহলে হয় তো বুঝতেই পারতাম না দারিদ্রতার কি জ্বালা।দারিদ্রতার জন‍্য মানুকে কতটা অবহেলিত হতে হয়।হতে হয় কতটা অত‍্যাচারিত, উপহাসের পাত্র।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD