রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে
অতিমারিতে চিকিৎসক দিবসের প্রাসঙ্গিকতা

অতিমারিতে চিকিৎসক দিবসের প্রাসঙ্গিকতা

পাভেল আমান।।

আজ১ জুলাই। প্রথিতযশা চিকিৎসক , কর্মযোগী ও বাংলার রূপকার ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মদিন। চিকিৎসা, সেবা, স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও রুগীর পারস্পরিক সম্পর্ককে মানবিক, সৌহার্দের, সম্প্রীতির মান্যতা দেওয়া ও সমাজের পক্ষ থেকে সমগ্র চিকিৎসককুলকে শ্রদ্ধা, ভক্তি, সম্মাননা জ্ঞাপন করার উদ্দেশ্যে আজকের দিনটিকে জাতীয় চিকিৎসক দিবসরূপে পালন করা হয়।চিকিৎসা জগতে ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের অপরিসীম অবদানের কথা মাথায় রেখে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য তাঁর জন্মদিবস ও মৃত্যু দিবসকে ( দু’টি ই একই দিনে ১লা জুলাই)১৯৯৯ সাল থেকে জাতীয় চিকিৎসক দিবস রূপে পালন করা হয় ।বলা বাহুল্য একজন চিকিৎসকের পেশা কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনের তাগিদেই নয় ।তাঁর ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। কাজেই এ এক দায়বদ্ধতাও বটে ।বর্তমানে আমূল পরিবর্তন হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ।অত্যাধুনিক পদ্ধতির চিকিৎসায় উপকৃত প্রত্যেকেই।আর এর পিছনে অবদান যাঁদের সেই চিকিৎসকদের শ্রদ্ধা জানাতেই মূলত পালিত হয় দিনটি।সমাজে, চিকিৎসকরা ঈশ্বরের একটি রূপ হিসেবে বিবেচিত হয় কারণ তারা রোগ নিরাময় করে মানুষকে নবজীবন দান করে। যখন আমরা জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে হেরে যেতে শুরু করি, তখন আমাদের জয়ী করার জন্য চিকিৎসকরাই পাশে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু চিকিৎসকদের সম্পর্কে ধারনা জনমানসে দিনের পর দিন খারাপ হতে থাকে মূলত একশ্রেণীর চিকিৎসকের সেবার নামে চিকিৎসাকে পুরোদস্তুর ব্যবসায়ে পরিণত করার জন্য। সেখানে তারা শুধুমাত্র তাদের অর্জিত ডাক্তারি ডিগ্রী টাকে রোগীকে চিকিৎসা ও সেবাদানে স্পষ্টতই মুনাফা লাভের লাইসেন্সিং পরিণত করলেন। ডাক্তার রোগীর সম্পর্কটা যেন ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার্য হতে শুরু করল। অর্থাৎ চিকিৎসা পরিষেবা টা ডাক্তারদের আর্থিক লেনদেনের খাতায় লিপিবদ্ধ হল। ফলস্বরূপ সমাজে ডাক্তারদের সেবাব্রতী মনোভাব, মানবিকতার,মানসিকতা, মহানুভবতা, উদারতা, সহনশীলতা যেন নিমেষে বিলীন হতে থাকলো। চিকিৎসক মানেই নিরন্তর অর্থ উপার্জনের এক জীবন্ত মেশিন। চিকিৎসকের চিরাচরিত, বহুমুখীন সংজ্ঞাটাই বদলে গেল।বর্তমানে শতাব্দীর প্রাণঘাতী অতিমারি করোনা ভাইরাসের কারণে সবাই যখন আতঙ্কে জর্জরিত, বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত, শঙ্কিত তখন আমরা দেখলাম মানব সেবাই নিবেদিত হয়ে জীবনকে বাজি রেখে, অসহায়, মুমূর্ষদের বাঁচাতে, রোগ মুক্তিতে উজাড় করা চিকিৎসা পরিষেবার সেবা করতে এগিয়ে এসেছেন এই ডাক্তার, নার্সরাই। নিজেদের জীবনের প্রতি মায়া ত্যাগ করে তাঁরা লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। অতিমারির দুর্বিষহ সময়ে যেভাবে স্বাস্থ্যকর্মী তথা চিকিৎসাকরা দিবা রাত্র মানবজাতিকে সুস্থ করার প্রচেষ্টায় নিজেদের সঁপে দিয়েছিলেন তা এককথায় চিকিৎসকদের সম্পর্কে মানুষের ধারণা অনেকটাই বদলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ উপলব্ধ করেছে এই মুহূর্তে করোনার মারণ সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা কর্তা, এক মাত্র মানব সেবায় নিবেদিত চিকিৎসকেরা। হৃত সম্মান , শ্রদ্ধা ভক্তি ফিরে পেয়ে চিকিৎসকেরা সাধারণের নয়নের মনি, শ্রদ্ধার পাত্র এবং সর্বোপরি জীবন্ত ঈশ্বরের ভূমিকায় অবতীর্ণ ।পৃথিবীতে ডাক্তারদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত ঠিকই, তবে এই করোনা ভাইরাস মহামারীর সময় তাদের ভূমিকা আবারও প্রমাণ করে দিল যে, তাঁরা ছাড়া সমগ্র মানবজাতি অচল এবং তাঁরা আছেন বলেই আমরা সুস্থভাবে বেঁচে আছি ।চলতি বছরে মার্চ মাসের পরেই দিনের পর দিন বেড়েছে করোনা রোগীদের সংখ্যা ।লাগামছাড়া দৈনিক সংক্রম ৪ লক্ষ ছুঁয়েছে ভারতবর্ষে ।এই পরিস্থিতিতে নাজেহাল অবস্থায় ছিলেন দেশের স্বাস্থ্য কর্মীরা ।ভারতীয় মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুসারে শুধুমাত্র করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গে মৃত্যুবরণ অর্থাৎ শহিদ’ হয়েছেন৭৯৮ জন চিকিৎসক ।যা প্রথম তরঙ্গের তুলনায় অনেক বেশী। জাতীয় চিকিৎসক দিবসৈ আমরা বাঙালি তথা ভারতীয় হিসেবে কঠোর সুরক্ষা বিধির মান্যতাই, প্রতিষেধক গ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রতিরোধের রুখে দেই করোনার সংক্রমণ। জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তায় আমাদের নিরবধি চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপদেশ, অনুশাসন মেনে চলতে হবে। সর্বোপরি চিকিৎসক দিবসে বাংলার রূপকার স্বনামধন্য চিকিৎসক ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের জীবন দর্শন, আদর্শ স্মরণ করার পাশাপাশি আমরা সকলে কোভিড যুদ্ধের শহীদ স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করি। এবারের চিকিৎসক দিবস সেই সমস্ত চিকিৎসক শহীদ কোভিড যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি নিবেদিত হোক এবং এখনো সশরীরে ময়দানে অবতীর্ণ হয়ে যে সমস্ত চিকিৎসকরা জীবনকে তুচ্ছ করে মানবতার সেবায় চিকিৎসায় নিবেদিতপ্রাণ তাদের মানসিকতা ,হার না মানা লড়াইকে কুর্নিশ, স্যালুট জানাই।
শিরোনাম: অতিমারিতে চিকিৎসক দিবসের প্রাসঙ্গিকতা।

পাভেল আমান- হরিহরপাড়া-মুর্শিদাবাদ

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD