শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে টিডিএসে খোলা হয়েছে শোক বই বেগম জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ট্রাফিক স্কুলে দোয়া মাহফিল স্কুল অব লিডারশিপ এর আয়োজনে দিনব্যাপী পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেনিং এন্ড ওয়ার্কশপ চাঁদপুরে সাহিত্য সন্ধ্যা ও বিশ্ববাঙালি মৈত্রী সম্মাননা-২০২৫ অনুষ্ঠিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় টিডিএসে দোয়া মাহফিল সব্যসাচী লেখক, বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী: সিলেট থেকে বিশ্ব সাহিত্যে কসবায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের পক্ষে নেতাকর্মীদের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন ৭ই নভেম্বর: সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এখন কবি আল মাহমুদের সময় দৈনিক ঐশী বাংলা’র জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন ১৭ জানুয়ারি-‘২৬ ঢাকার বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে
ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসির আদেশ

ব্লগার অনন্ত বিজয় হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসির আদেশ

সিয়াম মাহমুদ।।
ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লব এই রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে অপরাধ প্রমাণ না হওয়ায় ফারাবী সাফিউর রহমানকে খালাস দিয়েছে আদালত। কারাবন্দি অবস্থায় এ বি মান্নান ইয়াইয়া ওরফে ইবনে মঈনের মৃত্যু হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অনন্ত বিজয় হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ মনির উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা অনন্ত বিজয় বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখি করতেন। ‘যুক্তি’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন আর যুক্ত ছিলেন মুক্তমনা ব্লগের সঙ্গে। এছাড়া বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

সিলেট নগরের সুবিদবাজারের দস্তিদারপাড়ায় বাস করা অনন্ত বিজয় ২০১৫ সালের ১২ মে অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

মূল সড়কে আসার পরপরই আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা করে। প্রাণভয়ে দৌড়াতে থাকেন অনন্ত। শেষে বাড়ির পাশে দিঘির সামনে নিয়ে তাকে কোপানো হয়।

অনন্তের চিৎকারে বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন তার বোন। অনন্তকে হাসপাতালে নিতে তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের সাহায্য চান। কিন্তু ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে ক্ষতবিক্ষত অনন্তকে তার ভাই-বোন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যার পরদিন ২০১৫ সালের ১৩ মে তার বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

শুরুতে মামলাটি পুলিশের হাতে থাকলেও পরে তা সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। মামলা হাতে নিয়ে তদন্তে নামেন সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী। তদন্ত সাপেক্ষে অনন্ত বিজয় হত্যা মামলায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ৯ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামিরা সবাই সিলেটের বাসিন্দা।

অভিযুক্তরা হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন, খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বিরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ, কানাইঘাটের পূর্ব ফালজুর গ্রামের মান্নান ইয়াইয়া ওরফে মান্নান রাহী, কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ এবং সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকায় বসবাসকারী সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমান।

আসামিদের মধ্যে ফারাবী বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান মান্নান রাহী।

অপর পাঁচ আসামির মধ্যে কারাগারে আছেন আবুল খায়ের রশীদ আহমদ ও সফিউর রহমান ফারাবী। আবুল হোসেন, ফয়সাল আহমদ ও মামুনুর রশীদ নামের তিন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।

পাাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুমিনুর রহমান জানান, চাঞ্চল্যকর এই মামলাটিতে ২৯ জনের সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




raytahost-demo
© All rights reserved © 2019
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD